১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনার মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেলিম ওসমান

শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনার মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেলিম ওসমান

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় করা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম এমদাদুল হক তাকে অব্যাহতি দিয়ে আসামি অপুর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ার কবির বাবুল। তিনি বলেন, ‘আজ মামলাটির শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেলিম ওসমান মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সেলিম ওসমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন এবং আসামি অপুর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।’

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান সবার সামনে ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করান। এর একপর্যায়ে শ্যামল কান্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওই রাতেই তাকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরদিন শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. শফিউল আজমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ মে পুলিশি প্রহরায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০১৬ সালের ১০ আগস্ট শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জড়িত কি না- সে বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

আদালত ওইদিন আদেশে বলেন, ‘কান ধরে উঠবসের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা নেই-মর্মে পুলিশের প্রতিবেদনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হয়নি। পুলিশের প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য।’

২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন হলফনামা আকারে দাখিল করেন।