১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চোখের ক্ষতিপূরণ

চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদু হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। চোখ হারানোর মতো বেদনাও মোকাবেলা করতে হচ্ছে অনেককে। এই মর্মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত তা আমলে নিয়ে শুনানি শেষে রায় প্রদান করে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, চোখ হারানো প্রত্যেক রোগীকে ১০ লাখ টাকা করে অর্থ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং আইরিশ কোম্পানিকে যৌথভাবে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে এক মাসের মধ্যে। টাকা পরিশোধ করা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়। এই কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে অপারেশনের মাধ্যমে চোখের ছানি দূর করতে বিশেষ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রায় ১৭ জন সেবার বদলে চোখ হারানোর মতো বিপত্তির সম্মুখীন হন। সংবাদ মাধ্যমে তা প্রকাশ পেলে হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত এই নির্দেশ জারি করে। এমন ঘটনা এই প্রথমবার নয়। এর আগেও এই কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের বিরুদ্ধে ২০ জনের চোখ হারানোর ব্যাপারে আদালতের পরামর্শ চেয়ে রিট আবেদন করা হয়। এই আবেদনকে আমলে নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে, ২০ জনের প্রত্যেককে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না?

সংশ্লিষ্ট হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে ২৪ জনকে চোখের ছানির অপারেশন করেন চক্ষু চিকিৎসক। তাদের মধ্যে ২০ জনের চোখেরই আলো নিভে যাওয়ার সঙ্কেত মেলে। আতঙ্কিত অবস্থায় ভুক্তভোগীরা হেলথ সেন্টারে ছুটে গেলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। শেষ অবধি এসব রোগীর একটি চোখও তুলে ফেলতে হয়েছে।

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর। চিকিৎসক যতই বিজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ হোক না কেন ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। যা কোনভাবেই ইচ্ছাকৃত হতে পাারে না। চোখ মানুষের শরীরে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং প্রতিমুহূর্তের নিরন্তর সাথী। যা ব্যতিরেকে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, চোখের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় সব টিসু-নার্ভ এতই স্পর্শকাতর থাকে যে সযতœ পরিচর্যায় সব সময় দৃষ্টির উপযোগী করে রাখা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। আর এই নাজুক অসহায় অবস্থার ওপর যখন ছুরি-কাঁচি ব্যবহার করতে হয়, তখন পারদর্শী চিকিৎসকও সর্বান্তকরণে চেষ্টা করলেও অনেক অনাকাক্সিক্ষত ভুলকে পাশ কাটাতে পারেন না। ফলে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত, অনাবশ্যক বিপত্তি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদেরও অনেক বেশি সতর্ক, সাবধান হওয়া অত্যন্ত জরুরী। চোখের মতো একটি অতি কোমল অঙ্গে অস্ত্রোপচার করতে আরও বেশি সময় নিতে হয় কিনা সেটাও বিবেচনায় আনা সঙ্গত। মানুষ মাত্রেই ভুল হয়। চিকিৎসকও তার উর্ধে কোন মতেই নয়। ভুলের মাত্রা যেন ভবিষ্যতে আর বেড়ে না যায় সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অনেক সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বহুজনের দৃষ্টি ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন, এমন নজিরও বাংলাদেশে কম নেই।

তবে এই মুহূর্তে যারা তাদের জীবনের অনেক বড় সম্পদ হারিয়েছেন কোন কিছুর বিনিময়ে তা পূরণ হওয়ার নয়। হাইকোর্ট কর্তৃক জারিকৃত রুলে প্রত্যেকে যেন তার প্রাপ্তিটুকু পায় সে ব্যবস্থা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে করতে হবে। এখানে কোন গাফিলতি এবং দীর্ঘসূত্রতার মতো কোন কৌশল যেন অবলম্বন করা না হয়। বিভিন্ন সময় এটাও দেখা গেছে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বহাল তবিয়তে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে পরবর্তীতে কোন নির্দেশ আসার অপেক্ষায়। সেটারও কোন অবকাশ এখানে যেন না ঘটে। সময়মতো তাদের প্রাপ্য পাওনা যেন নির্বিঘেœ মিটিংয়ে দেয়া হয়। তা হলে অনিচ্ছাকৃত এই ভুল চিকিৎসার কিছুটা দায়মুক্ত হওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, এই অর্থ দণ্ড ভবিষ্যতে নতুন কোন ভুলভ্রান্তির সুযোগ তৈরি করবে না। সদ্য চোখ হারানো মানুষগুলোর প্রতি দয়া নয়, মানবিক মূল্যবোধে তাদের ওপর হয়ে যাওয়া ভুলের কিছুটা লাঘব অবশ্যই কাম্য।