১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানবাদীদের গায়ে নতুন জ্বালা

  • শাহীন রেজা নূর

সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ মিথ্যার বেসাতি করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি সংঘবদ্ধগোষ্ঠী সেই গণজাগরণ মঞ্চ গঠিত হওয়ার পরপরই এই ধরনের অপপ্রচারে মেতে ওঠে। অবশ্য, এরও কিছুকাল আগে থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাৎ করার জন্য জামায়াত-বিএনপি এই অপপ্রচারকারী গোষ্ঠী গড়ে তোলে। জার্মানিতে হিটলারের মতো এক দানব সৃষ্টির পেছনে হের্মেন হেস ও গোয়েবলসের যে ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকার অনুসরণ করে আমাদের দেশেও কিছু বোরম্যান, হিমলার, হাইড্রিচ, গোয়েবলস, গোয়েরিং, আইকম্যান গজিয়ে উঠেছে। এরা টিভিতে টকশো’র নামে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে সমস্বরে শিয়ালের মতো চিৎকার করে ফিরছে। বঙ্গবন্ধুর অবদান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অর্জন এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল চেতনাকে নানা কথার মারপ্যাঁচে আঘাত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার নানা রকম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। পান থেকে সামান্য চুন খসলেই এরা সরকারের বিরুদ্ধে একত্রে গেল গেল রব তোলে, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন, ভারতের কাছে দশ বিক্রি করে দিয়েছে এই সরকার, দেশে কোন বাকস্বাধীনতা নেই, হত্যা, গুম আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- চালাচ্ছে এই সরকার, দেশের ব্যাংক-বীমা অচল, ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প সব ধ্বংসপ্রাপ্ত, লুট ও দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে, সরকারের পক্ষে কোন জনসমর্থন নেই’- ইত্যকার নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলছে এরা টকশো’তে বসে। আর এদের শ্যাঙাতরা তা ইউটিউবে আপলোড করে বোঝাতে চাইছে এরা শুধু ‘সাহসী পুরুষ’ই নয়, এক একজন সাক্ষাত ‘ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির’ও বটে!

দেশে নাকি সরকারের বিরুদ্ধে কথাই বলা যায় না। অথচ, প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় আর প্রতিরাতে টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলের টকশো’তে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রীবর্গের বিরুদ্ধে এমনকি পুলিশ ও প্রশাসন যন্ত্রের বিরুদ্ধেও লাগাতারভাবে যে ধরনের নোংরা, মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয় তাতে দেশে বাকস্বাধীনতা না থাকলে এসব অপপ্রচারের জন্যই ‘যুধিষ্ঠিরদের’ অনেকেরই আজ জেলখানায় ঠাঁই হতো! তাছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অশালীন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে সুকৌশলে পাকিস্তানী ভাবধারার ও জামায়াতের রাজনীতির সাফাই গায় তাতে অন্য কোন দেশ হলে নিশ্চয়ই ওরা এতদিনে বিচারার্থ সোপর্দ হতো ও শাস্তি পেতো। দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর বিদ্যুত উৎপাদনে নাম ১২ হাজার কোটি টাকা লোপাটের রেকর্ডধারী বিএনপির পক্ষে এসব তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এত ন্যক্কারজনকভাবে কথা বলে কি করে?

লক্ষণীয় যে, দেশে ইদানীং সেই পাকিস্তানী কায়দার এক নব্য ভারতবিদ্বেষী শ্রেণীর জন্ম হয়েছে। এদের সকলেই বিএনপি-জামায়াতপন্থী এবং কিছু তথাকথিত কমিউনিস্ট। ঢালাওভাবে এরা বলে বেড়াচ্ছে যে, এই সরকার ভারতের কাছে নাকি দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে এবং দেশটি নাকি এখন ভারতীয়রা চালায়! দেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যাংক-বীমাগুলোও নাকি ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত হয়। মোদ্দাকথা, এই জাতীয় অলিক ও মিথ্যা ভারতবিরোধী বক্তব্য দেদার প্রচারিত হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে ‘লাল জুজু’, ‘নীল জুজু’র ভয় দেখানো হতো আমাদের। ‘লাল জুজু’ অর্থে ‘কমিউনিস্ট’ আর ‘নীল জুজু’ অর্থে ভারতকে বোঝানো হতো। আর এমনিভাবে শেরে বাংলা ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুকে গোটা পাকিস্তানী আমলে কুচক্রীরা ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে বার বার ঘায়েলের চেষ্টা করেছে। এদের ‘দোষ’ ছিল এই যে, এরা জীবনপাত সংগ্রাম করে এ অঞ্চলের গণ-মানুষের সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে, বাঙালীদের ওপর যেসব মিথ্যা ইলজাম চাপানো হতো তার বিরুদ্ধে শাণিত যুক্তি, বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও আমাদের ইতিহাস- ঐতিহ্য সমর্থিত বক্তব্য তারা তুলে ধরতেন পরম নিষ্ঠায় ও অকুতোভয়ে। আর দৈনিক ইত্তেফাক সেসব দিনগুলোতে অধিকার হারা মানুষের মনে সচেতনতা আর প্রত্যয়ের বীজ বপন করেছিল অসীম সাহসিকতায় ও আশ্চর্য দক্ষতায়। এ সবই আজ ইতিহাস! মুসলিম লীগ ও এর তল্পিবাহকরা বাঙালীর স্বাধিকার, স্বাজাত্যবোধ ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের পেছনে কেবলই ‘লাল জুজু’ আর ‘নীল জুজু’ দেখতে পেত! আর এ সবই ছিল মিথ্যা ও ভিত্তিহীনতায় ঠাসা। চুয়ান্নতে নির্বাচনে বিজয়ী বাংলার মুকুটহীন সম্রাট শেরে বাংলা ফজলুল হককে কি মিথ্যা ও দুরভিসন্ধির মাধ্যমে ভারতবাদী আখ্যা দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল সে ইতিহাস এখনকার ‘যুধিষ্ঠিররা’ কি আদৌ জানে? মুসলিম লীগ ও এর তল্পিবাহকরা বাঙালীর স্বাধিকার, স্বাজাত্যবোধ ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের পেছনে কেবলই ‘লাল জুজু’ আর ‘নীল জুজু’ দেখতে পেত! বায়ান্নতে ভারতীয়রা এসে বাংলা ভাষার জন্য মিছিল করেছে এমন মিথ্যা প্রচার নুরুল আমিনের সরকার দীর্ঘদিন চালিয়ে যায় অথচ, এমন অভিযুক্ত একজনকেও পুলিশ কোত্থাও কখনই খুঁজে পায়নি। কারণ, এর পুরোটাই ছিল বানোয়াট এবং সকলকে বোকা বানাবার পাঁয়তারা বিশেষ। বায়ান্নর ছাত্র আন্দোলনের আর ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলনের পেছনেও ভারতের ইন্ধন ও হাত থাকার মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে এই দেশেরই কতিপয় মীর জাফরের সহযোগিতায় ওরা বার বার বাংলার মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি শহীদ সাহেবকেও ‘ভারতের লেলানো কুকুর’ বলতে ছাড়েনি! আটষট্টিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাও ওই একই ধারাবাহিকতায় কুচক্রী শাসকেরা বঙ্গবন্ধুর উপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়।

যা হোক, ফারাক্কা চুক্তি, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি, ট্র্যানজিট, পার্বত্য চুক্তি এসব বিষয়েও ভারতবিরোধী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব কিছুর পেছনে ভারতের ষড়যন্ত্র আবিষ্কার এ হচ্ছে নিছক মতলববাজি ও এক প্রকার ছায়াশত্রু সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষমতায় পাকাপোক্ত করার ধান্ধাবিশেষ! বিএনপি ও জামায়াত যেহেতু ওই পাকিস্তানী প্রতিক্রিয়াশীল ধারায় অবস্থান করে সে জন্য তারা ভারতের বিরুদ্ধে এমন কোন মিথ্যা নেই যা কিনা প্রচার না করে। বেগম জিয়া তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মসজিদে উলুধ্বনি হবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অংশ হয়ে যাবে এমন ধরনের কতই না আজগুবি ও ফালতু কথা বলেছিলেন! আজ মানুষ বুঝতে পারে যে, এগুলো কত অসত্য ও মতলবি উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল। রাজনীতিতে বিএনপি, মুসলিম লীগ ও জামায়াতের মতো এত অসাধুতা বোধকরি বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আসলে আওয়ামী লীগের যে কোন ছোট বা বড় সাফল্যই ওদের গাত্রদাহ সৃষ্টি করে আর তখন ভারত বিদ্বেষে ফেটে পড়ে ওরা! আবার যখন বোঝে যে, ভারতের সঙ্গে সখ্য স্থাপন ভিন্ন নিজেদের গতি নেই, তখন আবার লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুয়ারে নির্লজ্জের মতো ধরনা দিতে ভোলে না। ভারত কি করে ভুলবে বিএনপি আমলের সেই ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র চালানোর কথা? পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’র হয়ে খালেদা সরকার ভারতের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাকে চাঙ্গা করতে ওই অস্ত্রের চালান থেকে শুরু করে বাংলাদেশে যেভাবে অনুপ চেটিয়া, ভারতীয় মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের লোকজনসহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে থাকার ও নির্বিঘেœ তাদের ভারতবিরোধী অপতৎপরতা চালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তা ভারত ভুলবে কেমন করে? শেখ হাসিনাকে বার বার হত্যার অপচেষ্টা সেদিন ওই খালেদা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাতেই করা হয়েছিল। শাহ কিবরিয়া, আহসানুল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমানসহ অসংখ্য আওয়ামী লীগের ও প্রগতিবাদী মানুষকে ওই বিএনপি-জামায়াত আমলে নির্মমভাবে খুন করা হলো। বিএনপির উদ্দেশ্য, তাদের পেছনে আইএসআই’র সার্বক্ষণিক পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি ভারতের কাছে নির্মল আকাশের মতোই পরিষ্কার আজ। বিএনপিকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে হুমকিস্বরূপ মনে করে বৈকি! অন্যদিকে, বিএনপির কিছু মার্কিনী ও পশ্চিম ইউরোপীয় মিত্র আছে যারা জন-সম্পৃক্ত কোন রাজনৈতিক দলের সখ্য স্থাপনের চাইতে জন-সম্পৃক্ততার দাবিদার কিন্তু আসলে জনগণের দল নয়-যেমন বিএনপির সঙ্গে অধিক মাখামাখি করতে আনন্দ পায়, কেননা; এমন দল ক্ষমতায় থাকলে কিংবা তাদেরই সৃষ্ট বিভিন্ন এনজিও বা তথাকথিত সুশীল সমাজ দ্বারা সরকার গঠন করাতে পারলে স্ব-স্ব রাজনৈতিক, ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক স্বার্থোদ্ধার করা অনেক সহজতর হয়। এ জন্য সুশীল বাবুদের একটি স্বতন্ত্র ঘরানা তৈরি করতে ওই প্রভুদের হয়ে আমাদের দেশের একটি বাংলা ও একটি ইংরেজী দৈনিকের সম্পাদকদ্বয়কে অষ্টপ্রহর তৎপর থাকতে দেখা যায়। টিআইবি আসলে কাদের মুখপাত্র? যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত নির্বাচন প্রসঙ্গে সেখানকার প্রশাসন নীরব নিরুত্তর। অথচ, বাংলাদেশের একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সামান্য অব্যবস্থার খবরেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ঘুম হারাম হয়ে যায়, মোদ্দাকথা; বেচইন হয়ে পড়েন তারা! আর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দেশের ওই সুশীল বাবুরা এবং চেনামুখ সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমগুলো এগুলোকে নিয়ে হৈ হৈ কা- রৈ রৈ ব্যাপার বানানোর জন্য চারদিকে লম্ফঝম্প শুরু করে। এর পেছনে আসল রহস্যটা কি? এটি দেশবাসীর খুব ভালভাবে জানা ও বোঝা দরকার। এগুলোর রহস্য এই যে, ওই কেনা গোলামেরা দেশের স্বার্থের চাইতে নিজেদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই মশগুল থাকে, ফলে দেশে ওই বিদেশী প্রভুদের প্রভুত্ব আর কর্তৃত্বের বন্দোবস্ত করে দেয়ার জন্য কর্তার ইচ্ছেয় কীর্তন করে ফেরে। এসব মতলববাজি যে আমাদের মতো দেশগুলোকে আরও কতদিন সহ্য করতে হবে তা খোদাই মালুম! যখন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতেরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ন্যক্কারজনকভাবে নাক গলায় তখন ডক্টর কামাল হোসেন, নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় বাবু ও তার সুশীল সমাজ আর টিআইবির কর্ণধারদের মুখে কুলুপ আঁটা থাকে কেন? তখন দেশের সংবিধানের এবং সার্বভৌমত্বের গালভরা বুলি কপচানো মতো আর অবকাশ ও সাহস কোনটি তাদের থাকে না।

আজ গোটা পৃথিবী নির্দ্বিধায় এ কথা স্বীকার করে যে, বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বের দ্রুত উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে আমাদের দেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশকেই আজ নিচে ফেলে দিয়েছে। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রফতানি (বিশেষ করে পোশাক, চা, চামড়া, ওষুধ ইত্যাদি) আয়, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুত, স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের চতুর্গুণ প্রবৃদ্ধি, খাদ্যশস্য, সবজি, মৎস্য, মাংস ইত্যাদি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে ধরে রাখা, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নগামী দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়া, সেবাখাতসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই শনৈঃশনৈ উন্নয়ন বিশ্বের তাবত রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ফোরামের চোখে পড়লেও এবং তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানাভাবে এ্যাওয়ার্ড প্রদান বা বাহবা দিলেও ভারতবিদ্বেষী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের চোখে তার কিছুই পড়ে না। কেননা, এদের চোখে স্বার্থের ঠুলি আঁটা রয়েছে যে!

ভারত যদি বাংলাদেশ কিনেই নিয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের এতসব সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার বিশ্ব স্বীকৃতি কি হাওয়া থেকে আসছে? চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ বিশ্বের তাবৎ রাষ্ট্রীয় কর্ণধাররা ও অসংখ্য সংস্থা যেখানে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সেখানে এই বিএনপি-জামায়াত আর তাদের কিছু তথাকথিত বাম ধারার সহচর ভারতের কাছে বাংলাদেশ বিক্রি করে দেয়ার মতো অসত্য যে প্রচার করে বেড়ায় নিছক রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য তা বোঝার মতো মানুষের সংখ্যা এখন দেশে কিন্তু অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটা যেন তারা ভুলে না যায়! বাঙালী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সকল পীঠস্থানে যেসব বর্বরোচিত হামলা চালানো হলো এবং একটি ভয়ঙ্কর ধর্মান্ধগোষ্ঠী সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিশীল একটি রাষ্ট্রে পরিণত করার যে চেষ্টা খালেদা-নিজামী সরকার বছরের পর বছর চালিয়ে গেল, তা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অগোচরে থাকার কোন কারণ ছিল কি? ভারতীয়রা তখন নিশ্চয়ই বসেছিল না, বরং এসব অপকীর্তির তথ্যাদি সংগ্রহ করতে তাদের আদৌ বেগ পেতে হয়নি। ফলে বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য এবং তাদের পেছনে আইএসআই’র সার্বক্ষণিক পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি ভারতের কাছে নির্মল আকাশের মতোই পরিষ্কার আজ।

এতকাল এরা সরকার পতনের জন্য হিংসা, হানাহানি, বোমাবাজি থেকে শুরু করে যেসব চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যার বেসাতি করেছে তা যেসবই ওদের জন্য বুমেরাং হয়েছে তা কি ওরা দেখতে পায়? বুঝতে পারে? হ্যাঁ দেখতে পায় এবং বুঝতেও পারে। কিন্তু দেখেও না দেখার ভান করা ওদের খাসলত! তাছাড়া, মতলবি স্বার্থের যুপকাষ্ঠে নিজেদের বলি চড়িয়ে বসে থাকায় চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে ওরা কেবল বন্দী থাকে!

বলাবাহুল্য, যেহেতু ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে পরিচালিত যাবতীয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত রুখে দেয়ার ব্যাপারে সেই একাত্তরের মতোই আমাদের পাশে রয়েছে সেহেতু পাকিস্তানবাদীদের গায়ে নতুন করে জ্বালা ধরে গিয়েছে!

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক