১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াতের কেউ যেন নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারে

  • ইসির নির্মূল কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী কোন দল বা ব্যক্তি একাদশ সংসদ নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারে তা নিশ্চিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। তারা জানায় নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতের অনেক নেতা স্বতন্ত্র বা কোন জোটের পক্ষ হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যারা দেশ ও স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। জামায়াতের অনুসারী বা নেতাকর্মী কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরাধিকারীরা যেন কোনভাবে নির্বাচন করতে না পারে, ব্যবস্থা নেবে ইসি।

মঙ্গলবার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকের কাছে এই দাবি তুলে ধরেন। অবশ্য নির্মূল কমিটি এই আহŸানের পর ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ইসির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ স্বতন্ত্র বা জোটগত নির্বাচনে অংশ নিলে সেই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার কোন আইন কমিশনের নেই।

সিইসির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে শাহরিয়ার কবির সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয়। আগামী নির্বাচনে যাতে ২০০১ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। জামায়াতের কেউ যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে ইসি বলছে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দল হিসেবে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু দলের কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তা প্রতিরোধে আইনের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে তারা তাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। আগামী নির্বাচনে ব্যক্তি পরিচয়ে বা অন্য কোন দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা অপপ্রচার চালিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় তারা কি করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পায় ? ইসির সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া তিনি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করা, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধে ইসি পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ সেল খোলার পরামর্শ দেন।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এ সময় আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, জামায়াতের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে তা প্রতিরোধের সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধন বিষয়ে বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন আদালত বাতিল ঘোষণা করেছে। এখন কেউ যদি স্বতন্ত্র বা অন্য কোন দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে ওই রায়ের আলোকে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেহেতু জামায়াতের নিবন্ধন নেই তাই তারা দলগত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আবার যে দলের নিবন্ধন নেই সেই দলের কোন ব্যক্তি সদস্য থাকা অবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের অযোগ্য বিবেচিত হবে। প্রার্থী হলে তাকে অবশ্যই কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, আদালতে দেয়া সব রায় মেনে এবং মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় বিশ্বাসী এই ধরনের অঙ্গীকারনামা নিতে হবে। এটা করা হলে জামায়াতের কোন সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। একইসঙ্গে দলটির সঙ্গে জোটগতভাবে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে সে দলও নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এই ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে উল্লেখ করে।

শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন বলেন, যে দল একাত্তরে দেশে গণহত্যা চালিয়েছে তারা তাদের দলের আদর্শ নিয়ে কাজ করছে। ফলে এমন কোন দলের সদস্য যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে তাহলে তাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে কাজ করবে। যারা এদেশ চাইনি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তারা নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

বৈঠকে সংসদ নির্বাচনে ইসির কাছে নির্মূল কমিটির ৫ দাবিনামা সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে নির্বাচনে আগে ঝুঁকিপূর্ণ সব এলাকার নিরাপত্তা জোরদার ও সংখ্যালঘুদের হুমকি দানকারীদের শাস্তির আওতায় আনা, জামায়াতের অনুসারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলকে ঘোষণা করতে হবে যে, তাদের সঙ্গে জামায়াতের কোন সম্পর্ক নেই, নির্বাচনের সময় মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিরোধী এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ প্রচারকারীদের শাস্তির আওতায় আনা, ৭১ এর গণহত্যাকারীদের সন্তান বা পরিবারের অন্যান্য সদস্য, যারা সর্বোচ্চ আদালতের রায় অগ্রাহ্য করছে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং সেনাবাহিনীকে দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মকাÐের সঙ্গে যুক্ত করলে তাদের অন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে বলে দাবি জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৯২ নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভোটের সংখ্যা শতকরা ১২ ভাগ থেকে ৪৮ ভাগ পর্যন্ত। যার বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ।