১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এডিপি বাস্তবায়ন তলানীতে

এডিপি বাস্তবায়ন তলানীতে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ মোট কিংবা শতাংশ, দুই হিসেবেই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে উন্নয়ন ব্যয়। অথচ দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও সরকার বলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্রুত উন্নয়ন নয়, জোর দেয়া হচ্ছে মানসম্পন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। ব্যয় কমার বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন না হলেও প্রকল্প অনুমোদনে সরকারের উদারতা নিয়ে চিন্তিত অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে যৌক্তিক ব্যয় বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণে তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

ভোটের রাজনীতিতে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে নির্বাচনী বছরে বাড়বে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়, এমন ধারনা অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বস্তরে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০১৮-১৯ অর্থবছর। যদিও, বাজেট কেন্দ্রিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে চলতি অর্থবছরের আর্থিক খতিয়ান।

শেষ চার অর্থবছরের হিসেব বলছে, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বনিম্ন ব্যয় হয়েছে চলতি অর্থবছরেই। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডিপির এক লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার মাত্র আট শতাংশ ব্যয় করেছে সরকার, টাকার অংকে যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৯শ কোটি। অথচ, নতুন অর্থবছরের মাত্র ১২টি একনেক সভাতেই ১ লাখ ৬১ হাজার ২শ ৮৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে ১৭২টি। বিপরীতমুখী এমন পরিসংখ্যানের পেছনে সরকারী কর্মকর্তা আর ঠিকাদারদের সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি অতিবৃষ্টিকেও দায়ী করছে সরকার।

এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সমন্বয়হীনতার অবশ্যই আছে। এটা সাময়িক অসুবিধা।’

তবে, ব্যয় কমলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। সেক্ষেত্রে, বের হতে হবে যেনতেনভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সংস্কৃতি থেকে, পাশাপাশি সংস্কার আনতে হবে প্রকল্প গ্রহণ প্রক্রিয়াতেও, এমন মত অর্থনীতিবিদদের। অর্থনীতিবিদ খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একনেকে প্রচুর পরিমাণে প্রকল্প পাস হচ্ছে। সেখানে আবার অন্যকিছু দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। প্রকল্পগুলো যাতে যৌক্তিক ব্যয় বিবেচনায় নেয়া হয় সেই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে।

চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যয় করা অর্থের ৮ হাজার ৬শ কোটি টাকা খরচ হয়েছে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই। যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর মোট বরাদ্দের মাত্র পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি।