১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একনেকে উঠছে ৩৭ উন্নয়ন প্রকল্প

একনেকে উঠছে ৩৭ উন্নয়ন প্রকল্প

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ খুব শীঘ্রই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। তাই প্রচণ্ড চাপে রয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এর অংশ হিসেবেই রবিবার (৪ নভবম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন হচ্ছে ৩৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। এই সংখ্যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যাক।

শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা। বিকেল পর্যন্ত ৩৭টি প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৬২ হাজার কোটির টাকার উপরে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২৭ হাজার ১২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০৬ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৭২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এর আগে গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয় ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প। তার আগে ২১টি এবং তারও আগে ২০টি পর্যন্ত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম একদিনে এক সঙ্গে এত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তারা জানান, অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকটিই হয়ত সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বৈঠক। তাই এক সঙ্গে এত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একনেক উঠতে যাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে জয়দেবপুর হতে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, এটি বাস্তবায়ন খরচ ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে (কুড়িল হতে বোয়ালিয়া পর্যন্ত) ১০০ ফুট পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প, খরচ ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য টার্মিনাল নির্মাণ এবং আনুষাঙ্গিক সুবিধাদি সম্প্রসারণ, খরচ ৩ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৯টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ, খরচ ৯৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ, খরচ ৩৫৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, খরচ ১১৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ, খরচ ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি ইন্টারসেকশন থেকে (ইকুরিয়া- বাবুবাজার লিংক পর্যন্ত) মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাংগা অংশ ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ,খরচ ৪ হাজার ১১১ কোটি টাকা। টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ জেলা মহাসড়ক এর হারিয়াখালী হতে শাহপরীরর দ্বীপ অংশ পুর্ননির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ, খরচ ৬৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন, খরচ ২২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বৃহত্তর কৃষ্টিয়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, খরচ ৯৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এলজিইডি অংশ),খরচ ২২৫ কোটি টাকা। পশ্চাৎপদ কৃড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার দারিদ্র্য দূরীকরণ, খরচ ১৯৫ কোটি টাকা।

এছাড়া বঙ্গমাতা ন্যাশনাল সেলুলার এন্ড মলিকুলার রিসার্স সেন্টার স্থাপন খরচ ১ হাজার ৫০৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। মুগদা মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সম্প্রসারণ, খরচ ৫২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, খরচ ১ হাজার ১০৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, খরচ ৮৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, খরচ ৬৪৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। র্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, খরচ ৩৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরী ইউনিট সম্প্রসারণ,খরচ ১৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট,খরচ ২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, খরচ ১ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রুপান্তরকরণ, খরচ ৮৯০ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিএমআর অব কেরু এন্ড কোং (বিডি) লিমিটেড খরচ ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। ঢাকাস্থ আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ,খরচ ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। কর্ণফুলি নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, খরচ ৯ হাজার ৮৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

একনেকে উপস্থাপন হতে যাওয়া আরও কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে, ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা লেক উন্নয়ন প্রকল্প, কুমিল্লা জেলার ৫টি পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন, গোপাল জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, ফরিদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহত্তর ঢাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, তিন পার্বত্য জেলায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক উন্নয়ন, গ্রামীণ রাস্তার ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমুহ টেকসই করণের লক্ষে হেরিংবন্ড করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প।