১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা ভেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। আজ বুধবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ৯ ধারার ৭ উপধারা ও ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫ এর ৫০ (১) অনুযায়ি, খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ৪ নবেম্বর খুলনা পাওয়ারের ১ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৫টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় কোম্পানিটির করপোরেট উদ্যোক্তা সামিট করপোরেশন। অথচ কোম্পানিটির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লভ্যাংশ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী ২২ নবেম্বর রেকর্ড ডেট রয়েছে। এমতাবস্থায় রেকর্ড ডেটের আগে শেয়ার বিক্রি করলে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে না।

এদিকে খুলনা পাওয়ারের বিক্রির ঘোষণার খবরের দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে যায় ১১১.৯০ টাকা থেকে ১০২.৪০ টাকায়। যা পরের দিন (০৫ নবেম্বর) ৯২.৪০ টাকায় নেমে আসে। তবে ৬ নবেম্বর বেড়ে দাড়াঁয় ৯৮.৪০ টাকায়।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারের মন্দাবস্থা যাচ্ছে। যা কাটিয়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই চেষ্টা করছে। সেই মুহূর্তে খুলনা পাওয়ারের প্রায় ২ কোটি শেয়ার বিক্রি বাজারের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে। যে বিক্রির চাপ শেয়ারবাজার এই মুহূর্তে নিতে পারবে না। তাই সার্বিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা ভেবে খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪ তারিখে বিক্রির ঘোষণা দিলেও মাঝের সময়টুকু সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে তারা ব্লকে শেয়ারগুলো বিক্রয় করে। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বুধবার খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, একটি কোম্পানির উদ্যোক্তার রেকর্ড ডেটের আগে শেয়ার বিক্রির ঘোষণা স্বাভাবিক লক্ষণ না। নিশ্চয় এর পেছনে কোন কারণ আছে। উদ্যোক্তাই যদি লভ্যাংশ নিতে না চায়, তাহলে সাধারন বিনিয়োগকারীরা কেনো নেবে।

তিনি বলেন, হয়তো খুলনা পাওয়ারের উদ্যোক্তারাই অসৎ উপায়ে শেয়ারটির দর ৭০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় তুলেছে। এখন শেয়ার বিক্রয় করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে সাধারন বিনিয়োগকারীরা। আর তাদের কথা বিবেচনা করেই খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

খুলনা পাওয়ারের শেয়ার দর গত সেপ্টেম্বর মাসে অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। ওই মাসে কোম্পানিটির শেয়ার ৭০ টাকা থেকে ১৩৮ টাকায় উঠে যায়। যা মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়। তবে এর পেছনে কোন যৌক্তিক কারন ছিল না বলে ডিএসইর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।

খুলনা পাওয়ারের ওই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির পেছনে সিরিয়াল ট্রেডিং ছিল বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। তবে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মতো অবৈধ লেনদেনগুলো বাজারে রাজত্ব করে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বাজারের বর্তমান অবস্থায় খুলনা পাওয়ারের প্রায় ২ কোটি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) এক বৈঠক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বৈঠক শেষে রকিবুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা ২০০৯-১০ সালে শেয়ার বিক্রি করে বাজারের ক্ষতি করেছে। তারা এখনো বিক্রি করছে। যে কারনে সাধারন বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারই কিনছে, সেটাতেই লোকসান হচ্ছে। এমন হলে শেয়ারবাজারে থাকা মুশকিল হবে।

তিনি বলেন, কোন উদ্যোক্তা/পরিচালকের শেয়ার বিক্রির ১ মাস আগে ঘোষণা দেওয়া উচিত। যাতে বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানিতে থাকবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একইসঙ্গে তাদের শেয়ার ব্লক মার্কেটে বিক্রয় করা উচিত। এক্ষেত্রে তাদেরকেই বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করতে হবে। তাহলে নিয়মিত বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।