১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভর্তি

বিশ্বব্যাপী তীব্র মন্দাবস্থা ও চাকরি সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবটি যে অত্যন্ত লোভনীয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। এমনিতেই ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম, সুখ্যাতি ও ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এক সময় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্য প্রায় পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত এবং প্রবল দাপটের সঙ্গে পরিচালিত হলেও মহাকালের পরিক্রমায় তা প্রায় অস্তমিত। তবে নেই নেই করেও এখন পর্যন্ত যা আছে তাই বা কম কি! বাস্তবতা হলো বর্তমানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী লোকবল সঙ্কটে নিপতিত। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি পার্লামেন্টেও আলোচনা হয়েছে। আর সেজন্যই ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার নিয়মকানুন শিথিল করা হয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি যেহেতু একটি দেশের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বকীয়তা, গোপনীয়তা ও সুরক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে বিজড়িত, সেহেতু জন্মসূত্রে নাগরিক না হলে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া প্রায় নেই বললেই চলে। সেই অর্গল আজ ভাঙতে চলেছে ব্রিটিশ সরকার। জনবল সঙ্কটের কারণে এতদিন পর্যন্ত ব্রিটেনে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসকারী তরুণদের সে দেশের সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিল। এখন তাও তুলে নেয়া হচ্ছে। নতুন নিয়মে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশের যে কোন নাগরিক এখন থেকে সুযোগ পাবে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যে কোন শাখায় সে আবেদন করতে পারবে। তবে আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর ও তদুর্ধ হতে হবে। বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ইতোপূর্বে ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দেশের নাগরিকদের যোগদান এর ফলে অনেক সহজ হবে। তবে নেপালের গোর্খা ও আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের মতো তা প্রায় অবারিত এবং বর্ণবাদ বহির্ভূত হবে কিনা তা সুস্পষ্ট নয়। আরও যা উল্লেখ্য তা হলো, ২০১৯ সালের শুরু থেকেই শুরু হবে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া। আপাতত ১৩৫০ জন বিদেশী সেনা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি বছর প্রকাশিত জাতীয় নিরীক্ষা দফতরের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে ৮ হাজার ২৩০ সেনা, নাবিক ও বিমানসেনার ঘাটতি রয়েছে। তদুপরি পুরুষ সেনার পাশাপাশি নারী সেনা নিয়োগ দানেরও বিধান রাখা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের সশস্ত্র বাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার ঐতিহ্য রয়েছে। আর সে কারণেই কমনওয়েলথের বাইরের কোন দেশ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এখানে কিন্তু ব্রিটিশ কূপম-ূক মানসিকতার প্রমাণ মেলে কিছুটা হলেও। এক সময় এই উপমহাদেশও প্রবল পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সা¤্রাজ্য তথা ব্রিটিশ রাজ্যের অধীনে ছিল। কমবেশি প্রায় দু’শ’ বছরের অপশাসন তথা দুঃশাসনের দুঃসহ স্মৃতি বাংলাদেশ, ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকরা একেবারেই ভুলে গেছে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। এও দিবালোকের মতো সত্য যে, স্বাধীনতা অর্জনের নিমিত্ত এই উপমহাদেশের সর্বস্তরের জনগণ কম ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম, আন্দোলন এমনকি আন্দোলনের সশস্ত্র পথ বেছে নিতেও আদৌ দ্বিধাবোধ করেনি। এর পাশাপাশির দু’দুটো বিশ্বযুদ্ধে, প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে এই উপমহাদেশের অগণিত নাগরিক তথাকথিত ব্রিটিশ সা¤্রাজ্য রক্ষা করতে গিয়ে অহেতুক প্রাণদান করেছেন। সেই অকুতোভয় নিঃস্বার্থ বিশ্বস্ততা ও বলিদানের কথা মনে রেখেই আজ পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে অন্তত দুটি ডিভিশন গোর্খা রেজিমেন্ট রেখে দেয়া হয়েছে। এখন আবার তারা সেই নিঃস্বার্থ সেবা ও বলিদানের পরীক্ষা নিতে চাইছে! পেশাদারিত্ব ও জীবন-জীবিকার অনিবার্য প্রয়োজনে এই উপমহাদেশ থেকে হয়তো অনেকেই আবেদন করবেন সে দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে। তবে তাদেরও নিশ্চয়ই অতীতের দুঃসহ ঔপনিবেশিক স্মৃতি ভুলে গেলে চলবে না। এও সত্য যে, ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের অতীত গৌরব ও দাপট বর্তমানে অনেকাংশে স্তিমিত হলেও তাদের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনমানসিকতা ও প্রভুত্বসুলভ মনোভাব অদ্যাবধি অক্ষুণœ আছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নির্লজ্জ মিথ্যা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন জোটের সহায়তায় ইরাক আক্রমণে আমরা তার প্রমাণ প্রত্যক্ষ করেছি বৈকি।

নির্বাচিত সংবাদ