১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্বস্তি ও বিড়ম্বনা

  • এম এইচ উল্লাহ

টেলিফোন আজ মানুষের জীবনে অতি প্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ আজকাল টেলিফোন সেটা ল্যান্ডফোনই হোক আর মোবাইল ফোন-ই হোক সেটা ছাড়া জনজীবন অচল। এই টেলিফোন ব্যবহার করতে গিয়ে একজন ব্যবহারকারীকে পোহাতে হয় অনেক দুর্ভোগ। কথা বলার সময় একজন মানুষকে ঘন ঘন কলড্রপের সম্মুখীন হতে হয়। এটা যে কত বড় বিড়ম্বনা একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারও পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়।

অবশ্য টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারাও এই ঘন ঘন কলড্রপের বিড়ম্বনার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। শাস্তি বিধানের কথায় পরে আসছি- প্রথমে কেন টেলিফোনে এত ঘন ঘন কলড্রপ হয় তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। টেলিফোন রেগুলেটরি কমিশন একটি বিশাল অঙ্কের কলড্রপের হিসাব দিয়েছেন যার পরিমাণ প্রতিদিন মোবাইল অপারেটরদের গড়ে ২২২ কোটি মিনিট কলড্রপের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এটা একটা ভয়াবহ ব্যাপার, কোটি কোটি গ্রাহকের প্রতিদিন সীমাহীন বিড়ম্বনার বিষয়। দেশে কিংবা বিদেশে কথা বলার সময় যদি ঘন ঘন কলড্রপের শিকার হতে হয় তাহলে এর চেয়ে বেশি দুঃখ আর বিড়ম্বনার বিষয় আর কি হতে পারে? অনেক সময় অনেক জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে হয় সেটা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই হোক আর সাংসারিক বিষয় নিয়েই হোক। সেই জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তার মাঝে যদি ছেদ পড়ে, আর একে অপরের কথা ঠিকমতো বুঝতে না পারে তাহলে টেলিফোন করার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে হয় না। তাই যেভাবেই হোক ঘন ঘন এই কলড্রপ বন্ধ করতে হবে। আর এই কাজে সর্বপ্রথম বিটিআরসিকে এগিয়ে আসতে হবে। টিএন্ডটি বোর্ড, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও দেশে টেলিযোগাযোগ কর্মকা- নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এখানে যারা কর্মরত রয়েছেন, ঘন ঘন কলড্রপের বিষয়টি যদি তারা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন, তবে ভুক্তভোগী মানুষ এই বিড়ম্বনার হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। দেশের মানুষ কলড্রপের বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচতে চায় আর এটা তেমন কোন কঠিন কাজ বলে মনে হয় না। যেটা প্রয়োজন তা হলো কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি আর এই ব্যাপারে দায়ী ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিছু লোকের দুর্নীতির জন্য দেশের সকল মানুষ কষ্ট পাবে এটা ঠিক না। টিএন্ডটি মন্ত্রণালয়, টিএন্ডটি বোর্ড আর বাংলাদেশ টেলিরেগুলেটরি কমিশন তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে এই অনাকাক্সিক্ষত ভূত ঘাড় থেকে নামিয়ে আনবে এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। মানুষ মানুষের জন্য, মানুষই মানুষের দুর্ভোগের সৃষ্টি করে আর মানুষকে কষ্ট দেয়, তাই মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য আর সমাজ থেকে অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই আর সমাজে এ ধরনের দুঃখ-দুর্দশা থাকবে না।

কলাবাগান, ঢাকা থেকে

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া