১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলড্রপ কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে?

  • শামীম শিকদার

প্রযুক্তির সুদূরপ্রসারী বিস্তারের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠছে সহজ। সকল ক্ষেত্রের পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং ক্ষেত্রেও বেড়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। থ্রি জির পর ‘ফোর জি’কে ছাড়িয়ে চলছে ‘ফাইভ জি’ বিস্তারের কাজ। ফোর জির কথা বলা হলেও জেলা শহরগুলোয় টুজিতেই সীমাবদ্ধ ডেটা সার্ভিস সেবা। খোদ রাজধানীতেই ফোর জি সিমে আসছে টুজি সিগন্যাল। ইন্টারনেট সার্ভিসেও সন্তুষ্ট নন গ্রাহক। ফোর জির টাকা পরিশোধ করা হলেও দেয়া হয় না কাক্সিক্ষত গতি। কারণে-অকারণে সার্ভিসের নামে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে সংযোগ। মাস শেষে খারাপ সেবায়ও ঠিকই টাকা গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে অভিযোগ করেও মিলছে না কোন প্রতিকার।

বিটিআরসির তথ্যানুসারে, মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তাদের মাঝে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ। অন্যদিকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মোবাইল ফোনের গ্রাহকরা। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বেপরোয়া মনোভাবে কলড্রপ যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি মোবাইল ফোনের কিছু সার্ভিসে বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা আছে, ‘রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কোন প্রচারণামূলক ফোন করা বা এসএমএস পাঠানো যাবে না।’ এই নির্দেশনার তোয়াক্কাই করছে না অপারেটরগুলো। সময়ে-অসময়ে গভীর রাতে পাঠানো মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রচারণামূলক এসএমএসের অতিষ্ঠ হচ্ছে মানুষ। বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কলড্রপের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় এর বেশি কলড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরগুলো দাবি করেছে তাদের কলড্রপের হার ১ শতাংশের বেশি নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলড্রপের মাত্রা ছিল ২২১ কোটি। যার মধ্যে গ্রামীণফোনের কলড্রপের সংখ্যা ১০৩ কোটি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির কলড্রপ ৭৬ কোটি, বাংলালিংকের কলড্রপ ৩৬ কোটি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের কলড্রপ ৬ কোটি।

২০১৬ সালের জুনে বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোন মোবাইল সংযোগ হতে দিনে একাধিকবার কলড্রপ হলে এক মিনিটি টকটাইম গ্রাহককে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তা এসএমএসের মাধ্যমে জানাতে হবে। ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় ওই বছরের ২২ আগস্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে গ্রাহকদের কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দিতে তাগাদা দেয়া হয়। কিন্তু সে তাগাদায়ও সুফল মেলেনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ নবেম্বর বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে গণশুনানির আয়োজন করলে ওই শুনানিতে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে কলড্রপ আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেটের গতি নিয়ে প্রতারণা, ইন্টারনেট ঠিকমতো কাজ না করলেও বিল কেটে রাখা, বিভিন্ন প্যাকেজ একবার চালু হওয়ার পর বন্ধ না হওয়া, এসএমএসের যন্ত্রণা, নেটওয়ার্ক থাকা না-থাকা, স্থানে স্থানে কভারেজ না থাকা, বিভিন্ন প্যাকেজ বিল নিয়ে প্রতারণা সংক্রান্ত আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। যা প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই।

কলড্রপ প্রতিরোধে মোবাইন অপারেটরগুলোকে সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। কলড্রপ নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা বজায় রাখতে হবে। সর্বোচ্চ সচেতনতার মাধ্যমেই যদি কলড্রপ হয় তবে গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক মিনিট টকটাইম ফিরিয়ে দিয়ে তা এসএমএসের মাধমে জানিয়ে দিতে হবে। তা ছাড়া অনেকেই কলড্রপের সঙ্গে পরিচিত নয়, তাই তাদের অজান্তেই মোবাইল অপারেটরগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের ইচ্ছামতো অর্থ। কলড্রপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সচেতনতামূলক ভূমিকার পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতন হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ভাকোয়াদী, গাজীপুর থেকে