১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাওনাদারকে ফাঁসাতে একমাত্র কন্যাকে গলা টিপে হত্যা

পাওনাদারকে ফাঁসাতে একমাত্র কন্যাকে গলা টিপে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ পাওনাদারের আট লাখ টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ফাঁসাতে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া একমাত্র কন্যা সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেছে পাষন্ড পিতা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন অবস্থায় আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার লোমহর্ষক বর্ননা দিয়েছে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের সাপানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিহত সাবিয়া আক্তার অথৈর (১১) পিতা কাজী গোলাম মোস্তফা।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার কর্মচারী কাজী গোলাম মোস্তফা তার একমাত্র মেয়ে অথৈকে হত্যার কথা স্বীকারের বর্ননা করতে গিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোশারফ হোসেন আবেগআপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পাষন্ড পিতা গোলাম মোস্তফাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আবেগআপ্লুত পুলিশ কমিশনার বলেন, মানুষের নৈতিকতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তিনি বলেন, গোলাম মোস্তফাকে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে প্রতিবেশী পাওনারদারকে ফাঁসানোর পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। সূত্রমতে, উপবৃত্তির টাকা তোলার জন্য ছবি দেয়ার অজুহাতে ৬ নভেম্বর সকালে মেয়ে অথৈকে বিদ্যালয়ের পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন গোলাম মোস্তফা। ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে মেয়েকে নিয়ে প্রথমে সদর রোড এবং পরে তার কর্মস্থল নথুল্লাবাদে সিটি কর্পোরেশনের পানির পাম্পে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করে। পরে মেয়ের অসুস্থতার কথা বলে ইজিবাইকে তুলে বিদ্যালয় সংলগ্ন লেবু বাগানের মধ্যে মেয়ের লাশ ফেলে আবার কর্মস্থলে ফিরে যায় গোলাম মোস্তফা। পরে স্ত্রীকে ফোন দিয়ে অথৈকে বিদ্যালয় থেকে আনতে বলেন। বিদ্যালয় সংলগ্ন লেবু বাগানের মধ্যে অথৈর মরদেহ দেখতে পায় তার মা সোহেলী ইসলাম রুমা। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ওইদিন রাতেই নগরীর কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, গোলাম মোস্তফার কাছে তার প্রতিবেশী রাব্বী ইসলাম আট লাখ টাকা পাবেন। ওই টাকা না দেয়ার উদ্দেশ্যে একমাত্র মেয়েকে হত্যা করে তার দায় চাঁপাতে চেয়েছিলো রাব্বীর ওপর।