১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জনগণ ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে : নাসিম

জনগণ ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে : নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতাদের প্রতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, গণতন্ত্রের প্রতি যদি বিশ্বাস থাকে, জনগণের উপরও আস্থা রাখতে হবে। ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণকে রায় দেওয়ার সুযোগ দিন। মানুষ যে রায় দিবে আমরা তা মাথা পেতে নিব। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চক্রান্ত করলে কোনভাবেই সরকার তা সহ্য করবে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচনের ঘন্টা বেজে গেছে। গ্রামগঞ্জে ভোটের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। জনগণ ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন আর অন্য কোনো বিকল্প ভাবার সময় নেই। ভোটের লড়াইয়ে না এসে বিকল্প পথ খোঁজার চিন্তা পরিত্যাগ করতে তিনি এসময় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি পরামর্শ দেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে নব নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের চাকরিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী একথা বলেন। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মাঝে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগে পদায়নকৃত নার্সগণ যোগদান করেন। পাশাপাশি দেশের অন্য সাত বিভাগেও পদায়নকৃত নার্সরা একই সময় চাকরিতে যোগ দেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এ বছর ৫ হাজার ৯২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগপ্রাপ্ত হন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যক নার্স নিয়োগের ঘটনা। এর আগে বর্তমান সরকারের সময়েই ২০১৬ সালে প্রায় ১০ হাজার নার্স সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়োগ পান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতেই হবে। এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে যারা বের হতে চান তারা দেশে বিশৃংখলা ও অশান্তি চায়। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের নামে নির্বিচারে জ্বালাও-পোড়াও দেখেছে বলে তাদের আজকের অবস্থানের উপর সাধারণ মানুষের সমর্থন নাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সংলাপ করে দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক উদারতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ছোট বড় সব দলের সাথে কথা বলেছেন। অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংলাপ হয়েছে। বাইরে উত্তপ্ত বক্তৃতা দিয়ে মাঠ গরম করে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ না বাড়িয়ে নির্বাচনে আসার জন্য তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নার্সদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তাঁরই নির্দেশনায় গত তিন বছরে দুই দফায় প্রায় ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়ে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত হাসপাতালগুলোর নার্স সংকট দূর করেছে সরকার। বর্তমান সরকারই দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম সংখ্যক ৬ সহস্রাধিক চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। আরো ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। স্বাস্থ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিয়ে জনগণের স্বাস্থ্য মান উন্নয়নে সাফল্য অর্জন করে সরকার বিশ^ব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত নার্সদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তরিকতা দিয়ে রোগীর সেবা দিন। রোগী তার পাশে একজন হৃদয়বান চিকিৎসক ও মমতাময়ী নার্স পেলে মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকে। তাই আপনারা রোগীদেরকে নিকট স্বজন মনে করে সর্বোত্তম সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে পিএসসির মাধ্যমে নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী প্রথম দশজন সিনিয়র স্টাফ নার্স চাকরীতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক পত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাতে তুলে দেন।