১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি সাথে জনগণ নেই : নৌপরিবহনমন্ত্রী

বিএনপি  সাথে  জনগণ নেই : নৌপরিবহনমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন, ‘বিএনপি শুধু মুখেই বলে আন্দোলন করবো। এ ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন হবে। সে ঈদের পরে আন্দোলনে নামবো, ঐ ঈদের পরে আন্দোলন করবো। কই ঈদ তো কতই চলে গেছে, কিন্তু আন্দোলন আর করতে পারছে না। বিএনপি কিভাবে আন্দোলন করবে, কারণ তাদের সাথে তো জনগণ নেই। এদেশের মানুষ তাদের চরমভাবে ঘৃনা করে।

তারা ২০১৪-১৫ সালে দেশের সাধারণ মানুষকে যেভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে, বোমা মেরে হত্যা করেছে তা বাংলার মানুষ ভোলেনি। এজন্য বিএনপি একটি হত্যাকারী দলে পরিণত হয়ে এখন পঙ্গু হয়ে গেছে। নিজের শরীরে বল নেই, তাই বিএনপি এখন পাগাছা হয়ে অন্যের ঘাড়ে ভর করেছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে ছাড়া এ দেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’ নির্বাচন হবে; আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবেই, এ নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার পেয়ারপুরে ‘মাদারীপুর ড্রেজার বেইজ’ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং ‘শিপ পার্সোনেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের সময়ে উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নৌমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন জেলা নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। হয়তো একটু কম আর বেশি। শেখ হাসিনা সরকারের ১০ বছর উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকে-নিরাপদে থাকে। আর বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এ দেশের মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের রাজনীতি শুধু জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি, পেট্রল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি।

বিএনপির সমালোচনা করে মন্ত্রী আরো বলেন, পঙ্গু বিএনপি এখন ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকীসহ অন্যদের নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গড়েছে। তারা সংলাপে এখন খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না, তারা এখন খালেদা জিয়ার জামিন চায়। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র আইনীভাবে আদালতের মাধ্যমে মোকাবেলা করা সম্ভব, সেটা বিএনপি বুঝতে পারছে না। ড. কামাল হোসেন একজন বিজ্ঞ মানুষ; তার বক্তব্যে মনে হয় তিনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

মাদারীপুর জেলার উন্নয়নের নানা দিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার এ জেলার বিভিন্ন প্রকল্পের সাড়ে ৩‘শ কোটি টাকা ফেরৎ নিয়ে গেছে। এ জেলার কোন উন্নয়ন হতে দেয়নি। তাদের যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আমাদের কোন প্রকল্প পাস করেনি। আজ শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই সারা দেশের সাথে সাথে মাদারীপুরে স্বপ্নের মতো উন্নয়ন হয়েছে। এ জেলাতে ফোরলেন সড়ক হয়েছে, দশতলা বিশিষ্ট বৃহৎ প্রশাসনিক ভবন হচ্ছে। এখানে সকল সরকারি অফিসের দপ্তর হচ্ছে। মানুষকে আর ঘুরে ঘুরে কষ্ট করতে হবে না। এ দপ্তর ভবনটি শুধু মাদারীপুরে প্রথম হয়েছে।

যার পরিকল্পনাকারী আমি নিজেই। এ ভবনটি মাদারীপুরের দেখা দেখি এখন অন্যান্য জেলাতে হবে। এছাড়াও শিপ পার্সোনেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইকোপার্ক, আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, পুলিশ সুপারে নতুন কার্যালয়, এনএসআই অফিস, পাসপোর্ট অফিস, আড়াইশ শয্যার সদর হাসপাতাল, নতুন জেলা কারাগার, আচমত আলী খান ৭ম চীন মৈত্রী সেতু, কারিগরি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, আকর্ষনীয় শকুনী লেকের সৌন্দর্য বর্ধন, বহু সেতু, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাসহ বিভিন্ন ধরণের প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে।

যে সকল জায়গায় সরকারী ভবন ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে; এ সব সরকারী জায়গা জেলা বিএনপি নেতারা বেদখল করে নিয়েছিলো। আমরা তা উদ্ধার করে উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করেছি। দেশের হারিয়ে যাওয়া নদ-নদী খনন কাজ চলছে। আমরা এ সকল নদ-নদী ফিরিয়ে আনবো।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম. মোজাম্মেল হক এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব.মোঃ আব্দুস সামাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ভোলানাথ দে, অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজউদ্দিন খান, পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার।