১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিউইয়র্ক ফ্লাইটের সম্ভাবনা

এক সময় তিনটি মহাদেশের ২৯টি শহরে ফ্লাইট পরিচালনা করত বিমান। নিউইয়র্ক, টোকিও, রোম, ম্যানচেস্টার, প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ফ্লাইট গুটিয়ে নিয়েছে বিমান। বর্তমানে তাদের গন্তব্য ১৫টি আন্তর্জাতিক ও ৮টি অভ্যন্তরীণ রুটে। বিমানের দেখা মেলে এশিয়ার ১২টি দেশে। ইউরোপ বলতে বিমান পাখা মেলে কেবল লন্ডনে। যদিও বিমানের সঙ্গে ৪৩টি দেশের যাত্রীসেবা পরিচালনা করার চুক্তি রয়েছে। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আবারও নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু হবে। সিভিল এভিয়েশনের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আসছে আইকাও-এর অডিট টিম। এই টিম ঢাকায় অবস্থান করে যে রিপোর্ট দেবে, তার ওপর অনেকটা নির্ভর করবে নিউইয়র্ক ফ্লাইটের ভবিষ্যত। তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে অল্প কয়েকটি উড়োজাহাজ দিয়েই বিগত কয়েক বছর ধরে লাভের মুখ দেখছে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র বিমান সংস্থাটি। এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নতুন গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে চাইছে বিমান।

এয়ারপোর্ট এক্সেস কন্ট্রোল, হোল লাগেজ, ক্যাবিন লাগেজ, কার্গো প্রসেসিং, প্যারামিটার সিকিউরিটিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণের প্রস্তুতি চলছে। অডিট টিম এসব প্রতি পয়েন্টে সরেজমিন যাবে, তারা দেখবে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে। গত দুই বছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঘাটতি পূরণে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। কার্গো হাউসে স্থাপন করা হয়েছে ইডিএস, ইটিডি, ডুয়েল মুড স্ক্যানার ও ডগ স্কোয়াডসহ প্রয়োজনীয় সব ইকুইপমেন্ট। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকরাও। তাই আশা করা যায় আইকাও-এর অডিট টিমের পরীক্ষায় পাস করে যাবে সিভিল এভিয়েশন।

অতীতে কিছুটা গাফিলতি ছিল, এটা সত্য। আগামীতে সেটি থাকবে না বলেই প্রত্যাশিত। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে সরাসরি কার্গো (বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পণ্য পরিবহন) পরিবহন স্থগিত করে দেয় যুক্তরাজ্য। পরে ওই বছরের ২১ মার্চ পরামর্শ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জনবল প্রশিক্ষণের জন্য দেশটির বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রেডলাইন এ্যাসিউরড সিকিউরিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে বেবিচক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে সরকার প্রথম দফায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন দলও বাংলাদেশে এসে এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরখ করে। বস্তুত এসবের আলোকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিবর্তন সম্পন্ন না হওয়ায় ঢাকা-অস্ট্রেলিয়া কার্গো ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণœ হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে সেটি অতীত। ব্রিটিশ কার্গো পরিবহন সুনামের সঙ্গেই চলমান। আগামীতে সুনাম বজায় থাকবে বলেও আশা করা যায়।

বেবিচক চেয়ারম্যান জনকণ্ঠকে গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়ত এবারের অডিটে উতরে যাব। এরপর সেটা ধরে রাখাটা হবে বেশ চ্যালেঞ্জিং। কেননা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে গেলে আমাদের আরও অবকাঠামোগত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে।’ কর্তৃপক্ষ যেহেতু সজাগ ও সচেতন, তাই ইতিবাচক ফল মিলবে- এটাই প্রত্যাশা।

নির্বাচিত সংবাদ