১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আদালত থেকে হাসপাতালে নয়, ফের কারাগারে খালেদা জিয়া

আদালত থেকে হাসপাতালে নয়, ফের কারাগারে খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার পর পুনরায় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে নেয়া হয়েছে। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেছেন, দীর্ঘ ১ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা নেয়ার পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির পর স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে স্থানান্তর করা হয়। এর পর বৃহস্পতিবার এ আদালতেই নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী মামলার তারিখ ১৪ নবেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মাহমুদুল কবির এ আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দ- প্রদান করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের পর তিনি পুরনো কারাগারেই আটক রয়েছেন।

আদালতকে অবহিত না করেই তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে পুরনো কারাগারে স্থানান্তরের পর পর বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল আবেদীন এ দাবি তোলেন। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে খালেদাকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর হুইল চেয়ারে করে এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানির প্রথম দিন এ মামলার অন্যতম আসামি মওদুদ আহমদ নিজেই তার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন। পরে আদালত ১৪ নবেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ রেখে শুনানি মুলতবি করেন। সেদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পর এখন কারাগারের অস্থায়ী আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে বুধবার নাইকো দুর্নীতি মামলাটি এজলাস স্থানান্তর সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মামলার বিচার কার্যক্রম এখন থেকে ঢাকা মহানগর ১২৫ নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত এজলাসে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির মামলাটি শুনানি করেন।

অবস্থার উন্নতির পর স্থিতিশীল রয়েছে ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দীর্ঘ ১ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা নেয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার পর এখন স্থিতিশীল রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া যে সব শারীরিক সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন, আমরা চেষ্টা করেছি তাকে সবগুলোর চিকিৎসা দিতে। বিভিন্ন ইনভেস্টিগেশনের রিপোর্টও আমরা ভাল পেয়েছি। বর্তমানে ওনার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ওনার অসুস্থতার যে সব পরীক্ষা করা হয়েছিল সেগুলো বেশ ভাল পাওয়া গেছে। এছাড়া সিটি স্ক্যান রিপোর্টও অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। আমাদের মেডিক্যাল বোর্ড যদি মনে করে তার ফিজিও দেয়া প্রয়োজন তখন তারা তা দেবেন।

অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়া ॥ আসামি খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে স্থাপিত আদালতে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হাজির করা হয়। নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে আদালতে আসতে হলে ওনাকেও (শেখ হাসিনাকে) আদালতে আসতে হবে। একজনকে সেভ করবেন, আরেকজনকে বলি দেবেন, এটা তো হয় না। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন দাবি করে আরও বলেন, ‘আমি তো শুধু তাদের (পূর্ববর্তী সরকার) ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি। যদি না করতাম তাহলে বলা হতো, কেন আমি দেই নাই।’