১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রেস্ট ক্যান্সার দিবস পালন

  • নাজনীন বেগম

বিশ্ব ব্রেস্ট ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে নারীদের সচেতন এবং বিষয় গত ধারণা দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি আয়োজন করে ‘ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ২০১৮।’ নারীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই গুরুত্বপূর্ণ অথচ অনাকাক্সিক্ষত ব্যাপারটিকে আমলে নিয়ে মহিলা সমিতির সহসভানেত্রী ড. মারুফী খানের উপস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় প্রায় ১১৩ রোগীকে। চিকিৎসা দেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে ডাঃ লুৎফুন্নেসা, ডাঃ গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক ও মেরি মার্গারেট রোজারিও।

বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা বিষয় অধিদফতরের আর্থিক সহায়তায় এই অনুষ্ঠানটি পরিচালিত এবং মেডিক্যাল ক্যাম্প ২০১৮ এর কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়। ডাঃ তানিয়া আলী, ডাঃ শেফাতুন্নেসা এবং ডাঃ ফাতেমাতুজ জহুরা সেবা দানের সার্বিক দায়িত্বে থেকে সংশ্লিষ্ট মহিলাদের চিকিৎসাসহ ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতির তত্ত্বাবধানে পুরো আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনে কর্মক্ষমতা প্রয়োগ করে।

এসএ ব্রেস্ট ক্যান্সার ডিটেকশন এ্যান্ড এ্যাওয়ারনেস বিভাগের চেয়ারম্যান মিসেস শামীম আক্তার চৌধুরী সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন। সভায় মূলত এই রোগটির ওপর বিশেষ জ্ঞান অর্জন করে নিরাময়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ এই সারগর্ভ বার্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সুস্থ শরীর পরিচর্যায় বিভিন্ন নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শও আসে চিকিৎসক এবং বিজ্ঞজনদের কাছ থেকে। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিরন্তর গবেষণায় বিশেষায়িত পর্যায়ে রোগ নির্ণয় আধুনিক সময়ের একটি অত্যন্ত আবশ্যিক ব্যাপার। নির্দিষ্ট রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগ নির্ণয়ে যে পারদর্শিতা দেখান সেখানে কোন ভুল কিংবা বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে না। নারীদের নিয়মিত চিকিৎসক দেখানো এখানে অত্যন্ত জরুরী। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় রোগ চিহ্নিত কারণ অর্থ এবং উপশম দুটোই সহজসাধ্য হয়। অসুখ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকই শুধু নয় আধুনিক ওষুধপত্রও সেভাবে কাজে আসে না। আর এই বিশেষ দিকটা বিবেচনায় রাখা সঙ্গত। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর ব্রেস্ট এবং জরায়ুর মুখে ক্যান্সার মহিলাদের বিভিন্ন বিপর্যয়ের সামনে দাঁড় করায়। শুধু চিকিৎসা দিয়ে সব কিছুর দায় মেটানো যায় না। সজাগ এবং সতর্ক অবস্থায় এমন ধরনের নিরাময়যোগ্য রোগকে আমলে নিয়ে সব সময় চিকিৎসকের পরামর্শই শুধু নয় প্রাসঙ্গিক সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সবচেয়ে বেশি সচেতন আর উদ্বিগ্ন থাকতে হবে নিজেকেই। কারণ অসুখ যার সব ধরনের জানা-বোঝাও তারই। এসব রোগের বিভিন্ন লক্ষণ থাকে। শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় উপসর্গও তৈরি হয়। যা উপেক্ষা কিংবা অবহেলার বিষয় যে, কোনভাবেই হতে না পারে সেদিকে নজর দেয়া মহিলাদের বিশেষ দায়বদ্ধতা। শুধুমাত্র দৃষ্টি দিলেই চলবে না যথার্থ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যাবতীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে নিতে হবে। বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবার মান এখন অনেক উন্নত। তথ্যপ্রযুক্তির অব্যাহত গতিতে সে সুফল আজ সাধারণ জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালেও। রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে অসুখ চিহ্নিত করা অত্যাবশ্যক। রোগ নির্ণীত হলে যথার্থ পরিচর্যাও চিকিৎসা সেবায় সেরে উঠতে বেশি সময় নেয় না। উপস্থিত বিজ্ঞ বক্তাদের আলোচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় যাতে মহিলারা বিশেষ সময়ে সচেতন হয়ে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারে। নিত্য-নতুন গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ এমন এক জায়গায় যেখানে প্রয়োজনীয় সেবা শুধু হাতের কাছেই নয় আধুনিক এবং সর্বজনীনও বটে। আর সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং যথার্থ চিকিৎসা না হলে মৃত্যুঝুঁকি আসাটাও আসম্ভব কিছু নয়। তাই সাবধান এবং সতর্কাবস্থায় থেকে রোগকে ভেতরে লালন পালন করা যাবে না। এ ব্যাপারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঘাতক ব্যাধিকে নিরাপদ দূরে রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা দেয়।

বহুবিবাহ, বহুগামিতা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন বিপদ ডেকে আনতে সময় নেবে না। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজন সব ধরনের রোগের মূল কারণ। ত্বক পরিচর্যা যেমন বাহ্যিক অবয়বে প্রভাব ফেলে একইভাবে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য চর্চাও সুস্থ ও স্বাভাবিক উপায়ে জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুতরাং শরীরের ভেতর এবং বাইরের দ্বৈত পরিচর্যা স্বাস্থ্যকে যে মাত্রায় নিরাময় রাখে তা আবারও নতুন করে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় এমন মহতি সভা থেকে। উপস্থিত আলোচকবৃন্দ এবং সেবাগ্রহণকারীরা পুরো অনুষ্ঠানকে অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে।