১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

হাট পরিষ্কার করে দিন চলে কৈতুরীর

  • আয়শা সিদ্দিকা

বাজার পরিষ্কার কইর‌্যা টাহ্যা পাই। স্বামী প্রতিবন্ধী। তাই কাম কইর‌্যা খাইতে হয়। দুই ম্যাইয়া। বড় মাইয়্যাও প্রতিবন্ধী। ছোটটা ভালা। স্বামী তেমন কাম করতে পারে না। তাই আমিই কাম করি। গ্রামের মানুষ আমি। কি করমু। তাই হাট পরিষ্কার করার কাম করি। স্বামীও এই কামে আমারে সহযোগিতা করে। সপ্তাহে দুই দিন হাট পরিষ্কার কইর‌্যা যা পাই তাই দিয়া কোন রকম সংসার চালাই। কিন্তু আমাগো এই পরিশ্রমের কোন দাম নেই। কেউ আমাগো মূল্যায়ন করেনা। আমাগো এই লড়াই শুধুই বাঁচার জন্য। এভাবেই কথাগুলো বললেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়ার মাহমুদসি গ্রামের কৈতুরী বেগম (৩০)।

সরেজমিন, স্থানীয় ও কৈতুরী বেগম সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়ার মাহমুদসি গ্রামের কেতুরী বেগমের সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধী নেছার উদ্দিন কাজীর সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তাদের ঘরে দুটি মেয়ে সন্তান হয়। বড় মেয়ে নাদিরা। বয়স তেরো। শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট মেয়ে সাদিয়া। বয়স সাত বছর। চার সদস্যের এই সংসারটির খাওয়া দাওয়াসহ সংসারের সব খরচ জোগানো সম্ভব হতো না স্বামী নেছার উদ্দিন কাজীর। তাই সংসারের হাল ধরার জন্য কাজের সন্ধানে বের হয় কৈতুরী বেগম। গ্রামে বাড়ি হওয়ায় তেমন কোন কাজ পায় না সে। তাই বাধ্য হয়ে হাট পরিষ্কারের কাজ নেয় কৈতুরী বেগম।

সপ্তাহে মঙ্গল ও শুক্রবার হাট বসে এই গ্রামে। এই হাটের নাম কুনিয়ার হাট। সেই হাট পরিষ্কার করার কাজের বিনিময়ে পায় কিছু টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়েদের স্কুলে পাঠায়। তবুও তাদের কাজের কোন সম্মান নেই। এই ক্ষোভ কৌতুরী বেগমসহ খেটে খাওয়া নারীদের।

এ সময় তিনি বলেন, কাজ করলে টাকা পাই। না করলে পাই না। ঘর থেকে বের হয়ে হাটে এসে হাট পরিষ্কার করি। কিন্তু আমাদের কোন মূল্যায়ন নেই।

মাদারীপুরের নারী উন্নয়ন সংগঠন নকশি কাথার সদস্য ফারজানা আক্তার মুন্নি বলেন, নারীরা সমাজে অনেক ধরনের কাজ করেন। কিন্তু তাদের তেমন মূল্যায়ন হয় না। তাছাড়া গ্রামের নারীও আজকাল নানা ধরনের কাজ করেন। তাই নারীদের এইসব কাজগুলোকে আমাদের সম্মান জানানো উচিত বলে আমি মনে করি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, আসলে আমাদের সমাজে নারীরা অনেক কাজ করেন। কিন্তু তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়না। এটা সত্যিই দুঃখজনক। নারীদের প্রতিটি কাজের মূল্যায়ন ও সম্মান করা উচিত বলে আমি মনে করি।