১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যাই -লেডি গাগা

  • সুমন্ত গুপ্ত

২০০৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সঙ্গীত জগতে যাত্রা শুরু হয় লেডি গাগার । এ পর্যন্ত প্রকাশিত তিনটি এ্যালবামই লেডি গাগাকে এনে দিয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। ২০০৮ সালে গাগার প্রথম এ্যালবা মদ্যফেম বাজারে আসে। পরের বছরই আসে তার দ্বিতীয় এ্যালবাম দ্য ফেমমন স্টার। সর্বশেষ ২০১১ সালে মুক্তি পায় গাগার তৃতীয় এ্যালবাম বর্ন দিস ওয়ে। এ্যালবাম বিক্রির নতুন নতুন রেকর্ড যেমন করেছেন লেডি গাগা, তেমনি খুদে ব্লগ লেখার ওয়েবসাইট টুইটারে ও জনপ্রিয় তার দিক থেকে রয়েছেন হলিউড তারকাদের মধ্যে শীর্ষে । গানের পাশাপাশি তিনি একাধিক ছবিতেও অভিনয় করেছেন। লেডি গাগার আসল নাম ফানি জোয়ান এ্যাঞ্জেলিনা জার্মা নোটা। লেডি গাগার ওপর লিখিত হয়েছে একটি জীবনী গ্রন্থ। গ্রন্থটি রচনা করেছেন এমিলি হার্বার্ট (ভার্জিনিয়া ব্ল্যাক বার্নের ছদ্ম নাম)। বইটি যুক্তরাজ্যে প্রকাশ করে জন ব্ল্যাক পাবলিশিং এবং যুক্তরাষ্ট্রে লেডি গাগা বিহাইন্ড দ্য ফেম নামে প্রকাশ করে অভারলুক প্রেস । বইটিতে গায়িকার জন্ম, প্রাথমিক জীবন ও গায়িকা হিসেবে কর্মজীবন শুরুর বর্ণনা রয়েছে। গান দিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে শুরু করে বিলবোর্ড, টাইম ও ফোর্বস সাময়িকীর ক্ষমতাবানদের তালিকাতেও উঠেছে তার নাম। গত ১৬ অক্টোবর তিনি এল সাময়িকীর ‘উইম্যানইন হলিউড সম্মাননা গ্রহণ করেন। আর তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন জেনিফার লোপেজ। সম্মাননা গ্রহণ করে লেডি গাগা তার অনুভূতি প্রকাশ করেন উপস্থিত সবার সামনে। তাতে উঠে আসে তাঁর জীবন সংগ্রামের কথা। তার বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো আমাদের ডিপ্রজন্মের পাঠকদের জন্য। কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি যে আমার জীবনটা কখনও এই পর্যায়ে এসে পৌঁছবে, কোনদিন শুধুই নারী হওয়ার জন্য আমাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে। এটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। জীবনে এমন একটা দিনের কথা ভাবতেও পারিনি। সত্যিই আমি অনেক সৌভাগ্যবান এমন একটি পরিবারের অংশ হতে পেরে। আজ এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য তৈরি হওয়ার সময় একের পর এক পোশাক বদলাচ্ছিলাম। কখনও আটসাট গাউন পরছিলাম, কখনও পরে দেখছিলাম উঁচু কোন হিল জুতায় আমাকে কেমন মানায়। হিরের গয়না থেকে শুরু“করে হাজার হাজার পাথর-পুঁতি বসানো ভারি পোশাক, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সিল্কের জামাÑ একের পর এক পরে দেখছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, সেইসবে নিজেকে দেখে খুব অসুস্থ লাগছিল। তখন মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করলামÑ হলিউডে একজন নারীর আসল মানে কী? আমরা শুধু বিনোদন দেয়ার কোন ভোগ্যবস্তু নই। আমরা সাধারণ একটা ছবি নই, যা দেখলে কারও মুখে হাসি ফুটবে বা কারও উত্তেজনা বাড়বে। আমরা আজীবন চলতে থাকা কোন সুন্দরী প্রতিযোগী তার অংশও নই, যারা সব সময় সৌন্দর্য নিয়ে একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই থাকবে। আমরা হলিউডের নারীরা এক একজন একেকটা স্বতন্ত্র কণ্ঠ। আমাদের চিন্তাধারা গভীর, আমাদের পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী, বিশ্বাস দৃঢ়। আমাদের সেই সময় ও কথা বলার আর প্রতিবাদ করার শক্তি রাখি, যখন আমাদের দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। প্রায় ১০টার মতো জামা বদলের পর প্রচণ্ড খারাপ লাগা নিয়ে যখন আমি ভাবছিলাম যে এসবের পর ও দিন শেষে লাল গালিচায় আমি কী পারলাম, কিভাবে সাজলাম এগুলোই হবে আলোচনার বিষয়, ঠিক সেই সময়ে আমার চোখে পড়ল আলমারির এক পাশে পড়ে থাকা মার্ক জ্যাক বেরনক শাকরা একটা স্যুটের দিকে। এই পোশাকটা ছেলেদের স্যুটের মতো, তবে ঢিলেঢালা, মেয়েদের জন্য নকশাকরা। আমি সেটাই পরলাম কতগুলো উৎসুক চোখের বিস্মিত দৃষ্টি দেখার জন্য। এরপর ‘রিডার্টেতে তোমাকে দারুণ লাগত!’, একজন বললেন। ‘কেলভিনক্লেইনের রাফসিমন সে কিন্তু বেশ মানা তো তোমাকে’, এটা বললেন আরেকজন।

‘আচ্ছা ব্র্যান্ডন ম্যাক্স ওয়েল বাডি ওরের ব্যাপারে ভেবে দেখেছিলে?’ লালগালিচায় এভাবে একের পর এক প্রশ্ন আমার দিকে তেড়ে আসছিল। তখন আমি কেঁদে ফেললাম। এসব তো নিতান্তই পোশাক! হ্যাঁ, গাউন পরিনি, আমি পরে এসেছি ছেলেদের মতো ঢোলা স্যুটপ্যান্ট । কিন্তু এই স্যুটে আমাকে আজ আমি খুঁজে পেয়েছি। এই ঢিলেঢালা স্যুটে আমি বুঝতে পেরেছি ঠিক ভেতর থেকে আমি কী, কেমন। আর তখনই আমি বুঝতে পেরেছি, আমার ঠিক এই সময়ে কী বলা উচিত, কী প্রকাশ করা উচিত। আমি আজ আমার সব ক্ষমতা ফেরত চাই। মানুষ হিসেবে আমরা একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যাই সমতা আর সুস্থতার দিকে। এই সমতা আর সুস্থতা নারী, পুরুষসহ সব পরিচয়ের সব শ্রেণীর মানুষের জন্য।