১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নগর কীর্তনের একাল-সেকাল

  • পৃথ্বীশ চক্রবর্তী

নগরকীর্তন বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি লোকায়িত সংস্কৃতি ও প্রাচীন রীতি। আধুনিক ধ্যান-ধারণা, পাশ্চাত্য অপ-সংস্কৃতির করাল থাবা, কর্মব্যস্ততা ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে আমাদের হাজার বছরের এই ধর্মীয় সংস্কৃতি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগের (অন্য বিভাগগুলোতে থাকলে থাকতেও পারে।) বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও ঢিলেঢালাভাবে শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার্থে এ ধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করা হয়।

নগর + কীর্তন = নগরকীর্তন পূর্বে নগর থেকে শুরু হলেও এখন তা গ্রাম কীর্তনে পর্যবসিত হয়েছে।

বাংলা কার্তিক মাসের ১ তারিখ হতে কার্তিক সংক্রান্তি পর্যন্ত সারা মাসব্যাপী সন্ধ্যার পর শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ পুরুষ ভক্তবৃন্দ মৃদঙ্গ (কুল), কাঁসর (জাঞ্জ্), শঙ্খ, করতাল, বাঁশি, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাদ্যবাজনাসহ পাড়া/মহল্লা/গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মীয় বিভিন্ন গানসহ কৃষ্ণ নাম করাকে নগরকীর্তন বলে।

কীর্তন নিয়ে প্রত্যেক বাড়িতে আসার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পূজাম-প বা দেব মন্দিরের সামনের তুলসী গাছের বেদীতে মোম, আগরবাতি বা ধূপ ও দ্বীপ জ্বালিয়ে দেন মহিলারা। আর সংকীর্তন বাড়িতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির বউ-ঝিয়েরা মিলে উলুধ্বনি ( জয়ধ্বনি বা মঙ্গল ধ্বনি) দিয়ে থাকেন।

প্রত্যেক বাড়ির উঠোনে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে ঘুরে (চক্কর দিয়ে, তবে ধামাইল নৃত্যের মতো নয়) নগর কীর্তন করা হয়। যখন ঝুম লেগে যায় অর্থাৎ সবাই যখন গান গাইতে গাইতে আধ্যাত্মিক চেতনায় আত্মহারা হন তখন সবাই বিশেষ ভঙ্গিমায় পুরুষালি নৃত্য শুরু করেন। প্রত্যেকটি গানের প্রায় শেষের দিকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন বাজনা ও গানের কথা আরও চেতনা হয় অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে জোরে বাদ্যবাজনা বাজানো হয়। তখন মহিলারা আবার উলুধ্বনি করেন। ফলে গান-বাজনা আরও শ্রুতিমধুর হয়।

কার্তিক মাসের নগর কীর্তনে প্রত্যেক দিনই আজ এর বাড়ি কাল ওর বাড়ি লুট দেয়া একটি বিশেষ রীতি। অর্থাৎ প্রতিদিনই এক বা একাধিক বাড়িতে লুট থাকে। লুট মানে- নকুল, বাতাসা, কদমা, শুকনো সন্দেশ ও মিষ্টি ইত্যাদি মিষ্টিদ্রব্য এবং কলা, আপেল, কমলা, নারিকেল ইত্যাদি ফল হরির (ভগবান) প্রসাদ হিসেবে হরিবল হরিবল বলে ভক্তগনের মাঝে ছিটিয়ে ছিটিয়ে বিতরণ করার একটি প্রক্রিয়া। সবাই তখন প্রশস্ত আঙিনা থেকে লুট কুড়িয়ে খায়। একেবারে কালবৈশাখীর ঝড়েপড়া আম কুড়ানোর মতো প্রতিযোগিতায় সবাই নেমে পড়ে। কার আগে কে বা কার চেয়ে কে বেশি লুট কুড়াতে পারে। কেউ বেশি লুট কুড়াতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করে। গৌরব বোধ করে। তবে লুট কুড়াতে স্মার্ট তরুণ ভক্তগণই সেরা। তবে হরির লুট থেকে যাতে কেউ বঞ্চিত না হয় সে জন্য সবগুলো প্রসাদ ছিটিয়ে বিতরণ না করে কিছু প্রসাদ পিতল বা কাঁসার থালা বা বাটিতে রেখে দেয়া হয়। লুটের শেষে যারা লুটপ্রসাদ পায়নি বা শিশু বা বয়োজ্যেষ্ঠ বা যারা বাজনা বাজাতে শরিক ছিল তাদের হাতের মুঠো ভরে ভরে লুটপ্রসাদ দেয়া হয়।

কার্তিক মাস পবিত্র মাস হলেও প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশ (রোগ-শোক) বিরাজমান থাকে বলে এ মাস ‘পেরেত কাতি’ হিসেবে গ্রামে আজও পরিচিত। ভাদ্র-আশ্বিন শরতকাল হলেও বাস্তবে কার্তিক মাসটা গ্রীষ্ম এবং শীতের সংযোগ মাস। এ সময় একদিকে যেমন মাটি স্যাঁতসেতে থাকে অপরদিকে প্রকৃতিতে প্রবেশ করে শীত অর্থাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ওই সময়টাতে বিভিন্ন রোগবালাই প্রায়শই লেগে থাকে। কার্তিক মাসে পূর্বে কলেরা, বসন্ত, ডিসেন্ট্রি, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ মহামারী আকার ধারণ করত। তখন গ্রামের পর গ্রাম মহামারীতে আক্রান্ত হতো। শত শত মানুষ মারা যেত। (যদিও ভাল প্রতিষেধক ও ওষুধগুণে বর্তমানে এসব রোগে মানুষ সাধারণত মারা যায় না। তাই কার্তিক মাসে মানুষ খুব বেশি পরিষ্কার পরিছন্ন থাকত। মহিলারা গোবড় (জীবাণু নাশক) দিয়ে সারা বাড়ির আঙিনা লেপে-পুছে সুন্দর রাখত। মাসের প্রথম দিন থেকেই সন্ধ্যার সময় মন্দিরের নিকট তুলসী গাছের বেদীতে ধূপ-দ্বীপ জ্বালিয়ে শঙ্খ, ঘণ্টা, কাঁসর (জাঞ্জ্) বাজাত এবং উলুধ্বনি দিত, হরিনাম করত, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম পড়ত। সন্ধ্যার পরপর সর্বস্তরের পুরুষ (বালক, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ) ভক্তবৃন্দ শুদ্ধ ও ধৌত ধুতি, নামাবলী পরিধান করে কপালে তিলকের ফোঁটা দিয়ে একেবারে পূর্ব প্রান্তের বাড়িতে মিলিত হতো। সেখানে ধূপ-দ্বীপ প্রজ্বলন করা হতো।

বাদ্যবাজনা উলুধ্বনি দিয়ে নিম্নোক্ত গানটি গেয়ে নগরকীর্তন শুরু“করা হতো। স্থানাভাবে গানটির কয়েকটি লাইন এখানে উল্লেখ করা হলো।

এই আসরে করও গৌর আগমন, দাও দরশন/(আমি) আসন দিয়ে বসে আছি, এসে করও গ্রহণ, দাও দরশন।

উল্লেখ্য, প্রথম বাড়িতে প্রজ্বলিত ধূপ-দ্বীপ সংকীর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সারা গ্রামেই নিয়ে যাওয়া হতো এবং সব শেষের বাড়িতে জয়ধ্বনি দিয়ে সংকীর্তন শেষ করেই তবে দ্বীপ নিভানো হতো। ভোরবেলা আবার স্নান করে ঠাকুর ঘরে ধূপ-দ্বীপ জ্বালিয়ে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে হরিনাম সংকীর্তন করে ‘মঙ্গলা’ পালন করা হতো। এখনও কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে পালন করে থাকে। তবে সিলেট শহরসহ অনেক শহর-গঞ্জ-গ্রামে নগর কীর্তনের মতো ‘আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সঙ্ঘ’(ইসকন)-এর উদ্যোগে ‘মঙ্গলা’ পালন করা হয়।

ধুনাবাতির সুগন্ধ, দ্বীপের আলো, উলুধ্বনি ও বাজনাসহ ভগবানের নামকীর্তনের আওয়াজ যতদূর পর্যন্ত পৌঁছবে ততদূর পর্যন্ত কোন রোগজীবাণু ও জীন, ভূত, প্রেতসহ কোন প্রকার অশুভশক্তি গ্রামে বা এতদাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবে না বলে মনেপ্রাণে তৎকালীন মানুষজন বিশ্বাস করতেন আর সেই বিশ্বাস থেকেই নগর কীর্তন, মঙ্গলা ইত্যাদি ধর্মীয় সংস্কৃতির আবির্ভাব।

আবহমানকাল ধরে আসা প্রাচীন এ রেওয়াজ (নগর কীর্তন) পূর্বে এতদাঞ্চলের প্রত্যেকটি গ্রামেই প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে খুব কম গ্রামে বা মহল্লাতেই এর তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। তবে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শিবপাশা মহল্লাবাসী আজও অবধি ওই ধর্মীয় সংস্কৃৃতি (নগর কীর্তন) যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গেই পালন করে থাকে, বলা যায়। যদিও ধুতি ও নামাবলীর পরিবর্তে শার্ট, পেন্ট পরেই নগর কীর্তন করা হয় তবুও তারা রীতি-নীতি যে করেই হোক রক্ষা করে চলছেন এজন্য তাদের শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাতে হয়। তবে ভবিষ্যতে এ নিয়ম রক্ষার জন্য হলেও ‘নগরকীর্তন’ থাকবে কিনা সংকোচ থেকে যায়। তবে আমাদের এ ধর্মীয় মাঙ্গলিক সংস্কৃতি যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য সমাজপতিদের নিকট অনুরোধ থাকবে। বর্তমানে এ মহল্লাবাসীরা ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নগর কীর্তন পরিচালনা করে থাকেন। কার্তিক মাসের শেষের দিনে অর্থাৎ সংক্রান্তির দিনে সব গ্রুপ স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী ভৈরব গাছের তলায় লুট দিয়ে এক মাসব্যাপী নগর কীর্তনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সন্ধ্যার পর শ্রী শ্রী ঘোরচণ্ডী (বিশেষ দেবী) মন্দিরের আঙিনায় গিয়ে দেখা গেল নগর কীর্তন শুরু“করার তোড়জোড় প্রস্তুতি চলছে। যাদের নির্দেশনায় নগর কীর্তন অনুষ্ঠিত হয় সেই বর্ষীয়ান মুরব্বিরা উঠোনের এক পাশে চেয়ারে বসে আছেন। এই দলের প্রবীণদের মধ্যে রয়েছেন- শ্রী নীলেন্দু চক্রবর্তী, শ্রী অরবিন্দ চক্রবর্তী, শ্রী প্রণয়ভূষণ চক্রবর্তী মিন্টু (পণ্ডিত), শ্রী গঙ্গেশ চক্রবর্তী প্রমুখ।

বালক-যুবকদের উৎসাহিত করতে এখনও সংকীর্তনে আসেন- শ্রী প্রশান্ত চক্রবর্তী ফুলু, শ্রী গৌরীপদ চক্রবর্তী, শ্রী প্রদীপ চক্রবর্তী পরী, শ্রী করুণাসিন্ধু চক্রবর্তী সন্টু, শ্রী নবেন্দু চক্রবর্তী রান্টু, সঞ্জয় দাশ, শ্রীকৃষ্ণ দাশ, সজল দাশ, রসময় শীল, গোপেশ দাস, শৈলেন পাল প্রমুখ

শিবপাশা নগর কীর্তনের এই দলে যারা ত্যাগ স্বীকার করেন ও শ্রম দেন তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ বিপুল চক্রবর্তী বাপ্পন, পিকলু চক্রবর্তী, বিপ্লব চক্রবর্তী, টিংকু চক্রবর্তী, কাজল চক্রবর্তী, নারায়ণ চক্রবর্তী, সঞ্জয় চক্রবর্তী, মলয় চক্রবর্তী, বিধান রায়, ঝলক চক্রবর্তী, অশোক চক্রবর্তী রাজন, বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী, পংকজ চক্রবর্তী, শুভ দাশ, সাজু চক্রবর্তী, সুব্রত চক্রবর্তী, রনজিৎ দাস, গৌরা দাস, সমীরণ পাল, মৃত্যুঞ্জয় বৈদ্য, গুনেন্দ্র দাশ, লিপটন দাশ, অনিক চক্রবর্তী, রঞ্জু পাল, পার্থ দাশ, শান্ত দাশ, গঙ্গেশ দাশ, সুমন পাল, সৌরভ পাল, রবি পাল, হৃদয় শীল, প্রীতম চক্রবর্তী প্রমুখ।

শিবপাশা ঠাকুরপাড়ার একটি (নগর কীর্তন) দলের প্রবীণব্যক্তিত্ব- শ্রী নীলেন্দু চক্রবর্তী মন্টুর কাছে নগর কীর্তনের যাত্রা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেনÑ ‘নগরকীর্তন আমাদের পূর্ব পুরুষদের থেকে আজও পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হবে। আমরা খুবই আশাবাদী যে, এখন নগরকীর্তন কিশোর-তরুণ-যুবকরাই পরিচালনা করছে।’

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্রী অরবিন্দ চক্রবর্তী বলেন- ‘নগর কীর্তনের যে গানগুলো গাওয়া হয় এবং যেভাবে বাদ্যবাজাতে হয় পাড়ার ছেলেরা তা ইতোমধ্যে আয়ত্ত করে ফেলেছে। সুতরাং নগরকীর্তন ভবিষ্যতেও থাকবে, আশঙ্কার কিছু নেই।’

ব্যাকরণশাস্ত্রী স্মৃতিভূষণ ক্রিয়াতীর্থ শ্রী প্রণয়ভূষণ চক্রবর্তী মিন্টু বলেন- ‘নগর কীর্তন সব সময়ই তরুণনির্ভর। আমরা যখন যুবক ছিলাম তখন আমরাই নগরকীর্তন করতাম। গ্রামের দুই চারজন মুরব্বি ছাড়া কীর্তনে এখন যেমন পাওয়া যায় না, তখনও প্রবীণদের পাওয়া যেত না।’

দলের আরেকজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শ্রী গঙ্গেশ চক্রবর্তী বলেন- ‘অত্র এলাকায় নগরকীর্তন পূর্বে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে আশা করা যায়।’

দলের যুবকদের মধ্যে কাজল চক্রবর্তী অন্যতম । তিনি বলেনÑ ‘নগরকীর্তন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা সব সময় শ্রম, মেধা, অর্থ যোগান দিয়ে থাকি, মাথার ঘাম ঝরাই। যেন আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া সংস্কৃতি লালন ও পালন করতে পারি।’

আরেক তরুণ সমীরণ পাল বলেনÑ ‘যে কোন মূল্যে, যে কোন ত্যাগ স্বীকার করে হলেও আমাদেরÑ এ ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করে যাচ্ছি এবং যাব, যে কোন প্রতিকূল অবস্থাতেও নগর কীর্তন অব্যাহত রাখব।’

কালের যাত্রায় আমাদের অনেক ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে আবার কিছু কিছু সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। নগরকীর্তনও এমন একটি ধর্মীয় সংস্কৃতি যার আলো বর্তমানে পিদিমের মিটি মিটি আলোর মতোই বলা যায়। অনেক গ্রামে এ কীর্তন অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিছু কিছু গ্রামে শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার নিমিত্তেই কোনমতে পালন করা হয়। তবে নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা মহল্লার নগর কীর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ এবং নবীনদের বক্তব্যে আমরা দৃঢ় আশাবাদী, তাদের মতো যদি সকলের মন-মানসিকতা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্পৃহা থাকে তাহলে আবহমানকাল ধরে আসা আমাদের এ লোকজ ধর্মীয় সংস্কৃতি (নগরকীর্তন) কোন দিন বন্ধ হবে না বলেই অনুমেয়। নগর কীর্তনের সুদীর্ঘ যাত্রা অব্যাহত থাকুক- এই প্রত্যাশাই রাখি।