১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেশবপুরে হারিয়ে যাচ্ছে চির পরিচিত সব পাখি

কেশবপুরে হারিয়ে যাচ্ছে চির পরিচিত সব পাখি

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর ॥ কেশবপুরে নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের চির পরিচিত ও উপকারী শালিক, চড়–ই, বাবুই, দোয়েল, কোয়েল, ময়না, শামা, ঘুঘু, শিষরাঙ্গা, মাছরাঙা, হলুদ পাখি, বউকথা কও পাখিসহ নাম না জানা হাজারো প্রজাতির পাখি। একসময় আবহমান বাংলার প্রতিটি অঞ্চলের সবুজে ঢাকা শান্ত সুনিবিড় গ্রামগুলো সাঝের বেলায় নাম না জানা বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কুঁজনে মুখরিত হতো। আজ এই যান্ত্রিক যুগে তা কেবলই ধুসর স্মৃতি মাত্র। যে কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের রূপসী বাংলার জীব বৈচিত্র। এসব পাখিদের মধ্যে যে পাখিটি আমাদের ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মাঠে ঘাটে হরহামেশায় দেখা যেতো, যে পাখিগুলো কৃষকদের ক্ষেতের ক্ষতিকার পোকামাকড় খেযে কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করতো তার মধ্যে শালিক পাখি অন্যতম। গ্রামগঞ্জে এই শালিকের প্রকার ভেদও রয়েছে। যেমন গো-শালিক, গাঙ শালিক, ভাত-শালিক ধান-শালিক ইত্যাদি। এক সময় পল্লীর ক্ষেত খামারে অসংখ্য শালিক পাখির পদচারণা লক্ষ্য করা যেত। সকাল-সাঝে এই উপকারী পাখিগুলোর কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হতো পল্লী গায়ের ঝোপঝাড় আর বাঁশবাগান। স্বার্থক হতো আবমান বাংলার নৈস্বর্গিক রূপ। কিন্তু যত্রতত্র ক্ষেত খামারে ও ফসলী জমিতে এবং মাছের ঘেরে কীটনাশক ব্যাবহার আর অবাধে পাখি শিকারের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে এই সব উপকারী পাখি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ এর ধারা ৩৮ অনুযায়ী পাখি শিকার, হত্যা, ক্রয় বিক্রয়, আটক রাখা, ইত্যাদি দন্ডনীয় অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না বলেই এক শ্রেণীর মানুষ অবাধে পাখি নিধন করছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে উপকারী ও চিরচেনা পাখি, হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে পশুপাখি শিকারের উপর বিধি নিষেধ আছে। অবৈধ শিকারীদের থামাতে গেলে আইনের যথাযত প্রয়োগ ও সচেতন নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন।