১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি

মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ডিবি পুলিশের তিন কনস্টেবলকে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির শিকার আহতরা হলেন কনস্টেবল মুরাদ হোসেন, শিমুল হোসেন ও মামুন আলী। এসময় প্রাইভেটকার চালক শাওনকে মারধর করে গ্রামবাসী। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ওই গ্রাম থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর ফারুকসহ ৩৭ জনেকে আটক করেছে। এরমধ্যে ফারুকের পা ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ছে।

গ্রামবাসী জানায়, গত এক বছরের ধরে ওই গ্রামে সন্ত্রাসী জহুরুল, হাফুসহ কয়েক যুবক মাদক ব্যবসা করে আসছে। প্রায়ই ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশ যায়। পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের ভালো সর্ম্পক থাকার কারণে নিরীহ মানুষের বাড়িতে মাদক রেখে ডিবি পুলিশ দিয়ে আটকের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে। কয়েক দিন ধরে এলাকায় ডাকাতি হচ্ছে। ফলে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করে। গ্রামবাসী দাবি করেন বৃহস্পতিবার রাতে সাদা পোশাকের কয়েক জন যুবক ওই গ্রামে জহুরুলের বাড়িতে যায় এবং মাদকের আসর জমায়। ডাকাত ভেবে গ্রামবাসী জহুরুলের বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়। গ্রামবাসী ডাকাত মনে করে তাদের ধরে গণপিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় ঝিকরগাছা থানা পুলিশ। গ্রামবাসী দাবি করেন পুলিশ জহুরুলের ঘর থেকে ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করে। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাত এবং আজ শুক্রবার সকালে পুলিশ ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের আতঙ্কে গ্রামবাসী পালিয়ে গেছে।

যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এক মাদক বিক্রেতাকে ধরতে অভিযানে যায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কিন্তু ডিবি পুলিশকে ভুয়া মনে করে গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় গণপিটুনিতে আহত হন ডিবির তিন কনস্টেবল ও প্রাইভেটকার চালক। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পুলিশ সুপার মঈনুল হক আরও জানান, আইনশৃঙ্খলার বিঘœ ঘটাতে কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া