১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে এই তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। তফসিল ঘোষণার ফলে জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সকল ধোঁয়াশা কেটে গেছে। কেননা একটি মহল নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনারের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করে দেশকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা চালিয়েছিল। নির্বাচন যে কোন দেশেরই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট সময়ের ভেতর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সময়ের কাজ সময়ে না করলে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কার জন্ম হয়। একটি মহলের দুরভিসন্ধি ছিল দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করা। ফলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে তাদের সুবিধা হয়। কোন অশুভ শক্তি যাতে বেআইনীভাবে ক্ষমতা দখল না করতে পারে সেটির জন্য সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অতীব জরুরী। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই হবেন সমগ্র দেশবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলই সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করবে। সংসদে বিরোধী দলও তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবে। এটাই বিধি। এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ফলে নির্বাচনমুখী দলগুলো তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করার সুযোগ পাবে। তফসিল ঘোষণা মানেই নির্বাচনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করবে। অপরপক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলসমূহও জনসমর্থন আদায়ের জন্য তাদের নীতিমালা ও অঙ্গীকার দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবে। এই সঙ্গে রয়েছে প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমাদান, প্রয়োজনে কারও প্রার্থীপদ বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ, যোগ্য প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক প্রাপ্তি এবং সবশেষে চূড়ান্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা ভোটাভুটি।

এ দেশে নির্বাচন হলো এক মহোৎসব। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই জনসাধারণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে। এই সমস্ত কর্মকান্ডের সূচনা হলো তফসিল ঘোষণা। সেটি যে যথাসময়ে ঘোষিত হতে পেরেছে সেজন্য নির্বাচন কমিশনের অঙ্গীকার ও দৃঢ়তার প্রশংসা করতে হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর হবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১৯ নবেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নবেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নবেম্বর। এর ২৪ দিন পর হবে ভোটগ্রহণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি বৃহস্পতিবারই জেলা পর্যায়ে মনোনয়নপত্রসহ নির্বাচনসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতির অন্যতম একটি কাজ মনোনয়নপত্র বিতরণ। তফসিল ঘোষণার পর থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহীরা।

গত ১ নবেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক দলের জোটগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ও জোট বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার পক্ষে সমর্থন দেয়। তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন সকালে বৈঠক করে বিস্তারিত সময়সূচী চূড়ান্ত করে। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার পর শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। এর ভেতর দিয়ে দেশে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হয়ে গেল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে দেশে গণতন্ত্র সচল রাখার স্বার্থে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করে সবাইকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতির প্রত্যাশা সব দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখবে। একই সঙ্গে মানুষের আকাক্সক্ষা এবার অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হবে।