১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনকালীন সরকার

প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনকালীন সরকার বলে সংবিধানে কোন বিধান নেই। নেই অন্তর্বর্তীকালীন বা সহায়ক সরকারের বিধানও। ভারত, ব্রিটেনসহ বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমূহ সাংবিধানিক বিধিবিধানের আওতায় চলে। সেসব দেশে ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর সাংবিধানিক যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালিত এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও অনুরূপ। সেই বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংবিধান মতে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার সহায়কের ভূমিকায় থেকে নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। অর্থাৎ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সার্বিকভাবে সহায়তা করবে। এই ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় সরকারের আকার ছোট করা বা কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিকে নিয়ে সরকার গঠনের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। সেই হিসেবে বিদ্যমান সরকারই নির্বাচনের সময় চলমানভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে। সংবিধানের আলোকে সরকারের ইসিকে সহযোগিতা করা ও নির্বাচনকালে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসির পরামর্শ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী একটি সরকার থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে আরেকটি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। সংবিধানের ৫৭ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনকিছুই অযোগ্য করিবে না।’ তার মানে নির্বাচনের সময় সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারই বহাল থাকবে। ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সহায়তা করতে সরকার সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং ১০ জন উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আরও দুটি জোরালো দাবি ছিল সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন এবং দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার মুক্তি। দ্বিতীয় দফা সংলাপে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। সরকারী দল আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের এ প্রস্তাব নাকচ করে। আওয়ামী লীগ বলছে, এটা সংবিধানসম্মত না। এই দাবি মেনে নিলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মনে করেন। এমনি বাস্তবতায় একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম তফসিল ঘোষণার পর শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভা থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে। সরকারের আকার ছোট বা বড় করার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। এটা তার সাংবিধানিক ক্ষমতা। তিনি যে কোন সময় তা করতে পারেন। এতে সংবিধানের কোন ব্যত্যয় হবে না। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং নির্বাচনী বিধিমালার আলোকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের বদলি, পদায়নসহ কিছু কাজে সরকারকে কমিশনের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন, নির্বাচনের সময় সরকারী প্রটোকল গ্রহণ, ডাকবাংলোসহ সরকারী স্থাপনার ব্যবহার বা এ জাতীয় কিছু কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপ থাকে। এর মানে হচ্ছে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং তাকে সহায়তা করতে কমিশন সরকারের কাছে যা চাইবে তা দিতে হবে। সকলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ একটি গাইড লাইন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বর্তমান যে নির্বাচনকালীন সরকার হতে যাচ্ছে সেই সরকার এই নির্দেশ মেনে চলবে, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক হবে- এই প্রত্যাশা সবার।