১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারীকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, লড়াই করতে হবে

  নারীকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, লড়াই করতে হবে
  • জনকণ্ঠের সঙ্গে মনীষা কৈরালা

মনোয়ার হোসেন ॥ আলোড়িত করা বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। একসময়ের পর্দা কাঁপানো এই নায়িকা অতিথি হয়ে এসেছেন ঢাকা লিট ফেস্টে। বাংলা একাডেমিতে চলমান এ আন্তর্জাতিক সাহিত্যাসরে শুক্রবার দেখা গেছে তার সুন্দর মুখখানি। এদিন সকালে অংশ নিয়েছেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ নামের ঘণ্টাব্যাপী এক অধিবেশনে। সেই অধিবেশনের পর মনীষার সঙ্গে কথা হয় জনকণ্ঠের এই প্রতিনিধির। সে আলোচনায় উঠে আসে ক্যান্সারের সঙ্গে এই অভিনেত্রীর জীবনযুদ্ধের কথা। কেমন হবে একজন ভাল অভিনেত্রীর গুণাবলী। বলেছেন নারীর পথচলায় প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে। উঠে এসছে চলমান # মি টু আন্দোলন। বলেছেন আগামী বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিতব্য ‘হিল্ড’ শীর্ষক আত্মজীবনী বিষয়ে। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও ঢাকা লিট ফেস্ট সম্পর্কে মুগ্ধতার কথা।

নারীর পথচলার প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে মনীষা কৈরালা বলেন, ৩০ বছর ধরে আমি বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। নানা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। একজন যোদ্ধার মতো করে সবকিছুকে সামলেছি। তাই কখনো নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি। এমনকি ক্যান্সার রোগী হিসেবে ফাইট করেছি। এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই লড়াই করেছি। নারী হিসেবে রাস্তায় চললেও নানা ধরনের আঘাত আসে। তাই নারীকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর যে কোন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিনা শ্রমে কিছু অর্জিত হয় না।

ভাল অভিনেত্রীর গুণাবলী প্রসঙ্গে মনীষা বলেন, একজন ভাল অভিনেত্রীকে অবশ্যই মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। তাহলেই পৌঁছানোর যাবে দর্শক হৃদয়ে। এ ছাড়া অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি সৌভাগ্যবান। অভিনয় করতে গিয়ে ভাল নির্মাতার সঙ্গে পেয়েছি উপযুক্ত বিষয়ের চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশ ও ঢাকা লিট ফেস্টের প্রতি অনুরাগ জানিয়ে এক বাক্যে মনীষা বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় এলাম। এবার এসেছি ঢাকা লিট ফেস্টের আমন্ত্রণে। লিট ফেস্ট আমাকে দারুণ মুগ্ধ করেছে। এখানে অজ মানুষ এসেছেন সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা শুনতে। এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে এত বড় বড় সাহিত্যিকদের সঙ্গে একটি সম্মেলনে আমিও অংশ নিচ্ছি। আমার জীবনে ঢাকা লিট ফেস্ট হচ্ছে প্রথম কোন সাহিত্য সম্মেলন, যাতে আমি অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছি। আমি আবারও এদেশে আসতে চাই সময় নিয়ে। তখন সবার সঙ্গে আরও বেশি কথা হবে, গল্প হবে।

হিল্ড শিরোনামে আত্মজীবনী লিখেছেন মনীষা কৈরালা। সে প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হবে বইটি। এ গ্রন্থে উঠে আসবে আমার নিজের জীবনের বোঝাপড়ার বিষয়। আমার জীবনের একটি বড় অধ্যায় ছিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং তা থেকে মুক্ত হওয়া। সেটিও আলোচিত হয়েছে এ বইয়ের বিষয়বস্তু হিসেবে। কিভাবে ব্যথা-বেদনাকে পরাজিত করে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছি, থাকবে সে বিষয়ের আলোচনা। কথা বলেছি সামাজিক বাস্তবতায় নারীর অস্তিত্ব নিয়ে।

আলোচনা এগিয়ে এলো বিশ্বব্যাপী জেগে ওঠা # মি টু আন্দোলনের পথে। এ বিষয়ে বলেন, এ আন্দোলনটা খুবই ইতিবাচক ঘটনা। মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মন খুলে কথা বলছেন, নিজেদের অধিকারের কথা বলছেন- এগুলো দারুণ ইতিবাচক। তবে এ আন্দোলনের মাধ্যমে কেউ যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ভরসা রাখলে হবে না। বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই যেন কারও বিচার কিংবা মিডিয়ার ট্রায়াল না হয়-সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না করে কাউকে যেন অপরাধী না বলা হয়।

চলচ্চিত্রে অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বলেন, চলচ্চিত্রে আমার শুরুটা নব্বই দশকে। সে সময় একই ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতা বেশি ছিল। আমি সেই প্রথাগত ধারার বাইরেও কিছু করতে চাইতাম। শিল্পীদের সব সময় অন্যের জীবনকে পর্দায় তুলে আনতে হয়। বহুবার বহু মানুষ আমাকে বিরূপ মন্তব্যও করেছেন। বলেছে, কে এই মেয়ে, কোত্থেকে আসছে-এরকম। আমাকে সব সময় বলা হতো আমি কোনদিন স্টার হতে পারবেন না। কিন্তু সেসবকে পেরিয়ে আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।

হিন্দী সিনেমার আইটেম সং প্রসঙ্গে মনীষার ভাষ্য, এটি আমি নেতিবাচকভাবে দেখি না। আমার কাছে আইটেম সংকে চলচ্চিত্রের সহজাত নান্দনিকতাই মনে হয়।

চলচ্চিত্রশিল্পীদের বয়স চল্লিশ পেরুনোর তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মনীষা বলেন, একইসঙ্গে তরুণ ও সুন্দর থাকার জন্য অনেক নারী শিল্পীই চাপে থাকে। ক্রমাগতভাবে নানা কৌশলে তারা তারুণ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। কারণ, বয়স ৪০ পেরুলেই নায়িকাকে অভিনয় করতে হয় মায়ের চরিত্রে।

আটচল্লিশ বসন্ত পার করা মনীষা কৈরালার জন্ম ১৯৭০ সালের ১৬ আগস্ট। নেপালের বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেন এই অভিনয়শিল্পী। বাণিজ্যিক ও বিকল্পধারাÑদুই ধরনের চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন মনীষা কৈরালা। নব্বইয়ের দশকের মনীষা বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন। দুর্দান্ত অভিনয় ও সৌন্দর্যের কারণে তিনি তার সময়ের সেরা অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন। ১৯৯১ সালে ‘সওদাগর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় মনীষার। অভিনয় করেছেন ‘ইয়ালগার’, ‘১৯৪২ : এ লাভ স্টোরি’, ‘বোম্বে’, ‘আকেলে হাম আকেলে তুম’, ‘অগ্নিস্বাক্ষী’, ‘গুপ্ত’, ‘দিল সে’, ‘খামোসি : দ্য মিউজিক্যাল’, ‘কাচ্চে ধাঘে’, ‘মান’, ‘হিন্দুস্তান কি কসম’, ‘এক ছোটি ছি লাভ স্টোরি’সহ বহু ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে। সর্বশেষ তিনি সঞ্জয় দত্তের জীবনীভিত্তিক সঞ্জু নামের চলচ্চিত্রে নার্গিস দত্তের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মনীষা ফিল্মফেয়ার এ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন।