১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দ্বিতীয় টেস্টেও ভাল করার প্রত্যয় মুর-মাভুতার

  • বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে সিরিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সিলেটে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে সফরকারী জিম্বাবুইয়ে। আর সেই টেস্ট জয়ের পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে প্রথম ইনিংসে দলটির ব্যাটিং পারফর্মেন্স। ৬ নম্বরে নেমে পিটার মুর অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস খেলার পথে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ভয়ানক স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে ভাল করার সামর্থ্য। আর এটি সম্ভব হয়েছে সাবেক ব্যাটিং কোচ ল্যান্স ক্লুজনারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করার মাধ্যমে। তবে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে জিততে চাইবে সেটা স্বীকার করে মুর জানালেন তারাও প্রস্তুত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য। আরেকবার ভাল ব্যাটিং করে দলের জন্য অবদানও রাখতে চান। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ব্যর্থ হলেও তরুণ লেগস্পিনার ব্রেন্ডন মাভুতা দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে ২১ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তিনি দাবি করলেন অনুর্ধ-১৯ দলের হয়ে বাংলাদেশে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতাই কাজে লেগেছে তার।

সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুইয়ের পক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছে ২১ বছর বয়সী মাভুতার। তবে প্রথম ইনিংসে তাকে হতাশ হতে হয়েছে উইকেটশূন্য থেকে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে জ্বলে উঠেছিলেন। এ বিষয়ে এ তরুণ বলেন, ‘যেহেতু এটা আমার প্রথম টেস্ট ছিল এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছি, নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুব কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমি বেশ সন্তুষ্ট।’ বিশ্বের সব লেগস্পিনারই ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে বোলিং করেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, আফগানিস্তানের রশিদ খান ও ইংল্যান্ডের আদিল রশিদকে নিয়মিত দেখে শেখার চেষ্টা করেন মাভুতা। কিন্তু তিনি মনে করেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা স্পিনে ভাল। তবে যুব দলের হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে বলে দাবি করেন মাভুতা। তিনি বলেন, ‘তারা অবশ্যই স্পিন বোলিংয়ে খুব ভাল, কিন্তু আমি নিজস্ব পন্থা ভুলে যাই না। যদি নিজের পন্থাটা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি সেক্ষেত্রে ভাল একটি বল যে কোন ব্যাটসম্যানের জন্যই ভাল বল হিসেবে বিবেচিত। সৌভাগ্যের বিষয় আমি অনুর্ধ-১৯ দলের হয়ে এখানে বিশ্বকাপ খেলেছিলাম। সে কারণে এখানকার উইকেট নিয়ে কিছুটা ধারণা ছিল। সেটা দলের জন্য এবং আমার জন্য কাজে লেগেছে।’ নিজের স্পিনে গতির উত্থান-পতন নিয়ে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। এ বিষয়ে মাভুতা বলেন, ‘স্পিনার হিসেবে এটা অন্যতম একটা ক্ষমতা। গতির পরিবর্তন আনতে পারাটা খুব জরুরী। ব্যাটসম্যান কি করতে চাইছে সেটার ওপর মনোযোগ রেখে বোলিং করতে হবে।

জিম্বাবুইয়ে দলটি বরাবরই বাংলাদেশর স্পিন আক্রমণের কাছে ধসে পড়েছে। সিলেট টেস্টেও যে খুব বেশি ভাল করতে পেরেছে তারা স্পিনারদের বিপক্ষে বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু প্রথম ইনিংসে পিটার মুরের ৬৩ রানের হার না মানা ইনিংসটি অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। এ বিষয়ে এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমি যখন স্পিন খেলি আমার মনে হয় ডিফেন্স করার ব্যাপারটিতে আমি খুবই শক্তিশালী। এটার সামর্থ্য আমার মধ্যে বেশ ভালভাবেই আছে। আমি সেই পরিকল্পনাতেই প্রথম টেস্টে খেলেছি। আশা করছি এটা দ্বিতীয় টেস্টেও অব্যাহত রাখতে পারব।’ স্পিন ভাল খেলার সামর্থ্য অর্জনের জন্য বেশ কঠোর পরিশ্রম করেছেন মুর। বিশেষ করে সাবেক ব্যাটিং কোচ ক্লুজনারের পরামর্শ কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল তার ব্যাটিংয়ে। এ বিষয়ে মুর বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই কিভাবে হলো এটা। কিন্তু আমার মনে হয় ল্যান্স ক্লুজনারের সঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি যখন আমরা সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছিলাম। তিনি আমাকে প্যাডের আগে ব্যাট নিয়ে এসে খেলার বিষয়ে অনেককিছু শিখিয়েছেন। অবশ্যই জিম্বাবুইয়েতে স্পিনবান্ধব কন্ডিশন নয়, তবে এটা খুব সহায়ক হয়েছে।’ প্রথম টেস্ট জেতার পর এখন সুযোগ জিম্বাবুইয়ের সিরিজ জেতার। কিন্তু মুর বললেন, ‘কাজটি সহজ হবে না। আমরা হয়তো খুব ভাল অবস্থানে আছি কিন্তু সিরিজ জয় চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা অবশ্যই আরও ভাল করতে চাই। কিন্তু এটাও জানি বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে জেতার। তবে আমরাও সবকিছুর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’