২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওজন বন্ধু

ওজনে ফাঁকি দেবার প্রবণতা বহু পুরনো। সেই বাটখারা যুগেরও আগের সময়কালে ওজন বা মাপে ‘নয়ছয়’ করার অভ্যাসটা মানষের ছিল যেন চিরায়ত। বাটখারা যুগে সঠিক ওজনে সঠিক পণ্য পাবার সম্ভাবনা ছিল শূন্য। সের, মণ, ছটাক যুগে এই ফাঁকির সুযোগটা ছিল বেশি। এই ফাঁকি রোধে কার্যকর কোন উপায় মিলত না। অসাধু বিক্রেতাদের রমরমা অবস্থা সেকালেও ছিল, একালেও তো আছে। নামী-দামী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত মোড়কজাত পণ্যেও সঠিক মাপের বা ওজনের কমতি প্রায়ই মেলে। একালেও মাপঝোঁকের খতিয়ানে নানাবিধ ফারাক খুঁজে পাওয়া যায়। এককেজি মাংস কিনে অন্যত্র ওজন দিলে দেখা যায় নিদেনপক্ষে একশ’ গ্রাম কম। কিংবা ওজনে মুরগি কেনার সময় ওজনের ফাঁকি খালি চোখে ধরা পড়ে না। মাছ, মাংস শুধু নয়, তরিতরকারি, শাকসবজি যা-ই কেনা হোক না কেন, অসাধু বিক্রেতার অসাধু আচরণের কাছে নত হতেই হয়। ঠকে যাবার জন্য যথই মনোকষ্ট বা মনোবেদনা জাগুক না কেন ক্রেতার, যথাযথ ওজন করে পণ্য কেনা আর হয়ে ওঠে না। ওজন মাপার যন্ত্র অনেক শপিং মল বা দোকানপাটে থাকলেও যন্ত্রের কারসাজিতে যথা ওজন আর মেলে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতার কাছে ওজনে ঠকে আসা ক্রেতার সংখ্যা নিহায়েত কম নয় সারাদেশেই। ঠকে আসার দিনের অবসান চেয়ে আসছে প্রতেক ক্রেতাই যুগ যুগ ধরে। কিন্তু নানাবিধ পদ্ধতি চালু হলেও তার সুরাহা হয়নি। তবে এবার ক্রেতাদের জন্য আসছে সুসংবাদ আর অসাধু ক্রেতাদের জন্য বহাল হচ্ছে দুঃসংবাদ। এবার ওজনে কম দিলে গুনতে হবে জরিমানা কিংবা শাস্তি। বাজারে আসছে ‘ডিজিটাল ওয়েট মেশিন’ বা ওজন মাপার যন্ত্র। যাকে বলা যায় ওজন বন্ধু। দেশে প্রথমবারের মতো এই সেবা চালু করতে যাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঢাকার প্রধান দশটি বড় বাজারে পাইলট আকারে চালু হবে ওজন মাপার যন্ত্রটি। যে কোন পণ্য কেনার পর বাজারের মধ্যেই স্থাপন করা ওজন মাপার মেশিনে পণ্যের ওজন পরীক্ষা করতে পারবেন ক্রেতা। ওজনে কম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের হটলাইনে অভিযোগ করার সুযোগও থাকছে ক্রেতার জন্য। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত বিক্রেতাকে সতর্ক করে দেয়া হবে। হতে পারে শাস্তি কিংবা গুনতে হবে জরিমানা। ক্রেতার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে সারাদেশে এই সেবা ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পরিষদের। এর আগে রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে ফরমালিন মাপার যন্ত্র বসিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। যদিও পরে দেখা গেছে, ওই যন্ত্র ঠিক ছিল না। পরিষদ কর্মকর্তারা ঢাকার বড় বাজারগুলোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা চালানোর কথাও হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাজার কমিটি। ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে যাতে কোন ধরনের বিতর্ক না হয়, সেজন্য আগাম সতর্কতা নেয়া হয়েছে। যন্ত্র কেনার পর তা পাঠানো হবে বিএসটিআইতে। সেখান থেকে মান যাচাই করে তা মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করা হবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও ওজন মাপার যন্ত্র কেনা এবং তা রক্ষণাবেক্ষণ করা হতে পারে। শুধু ওজন নয়, বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি বন্ধেও পরিষদ কাজ করবে। কারওয়ানবাজার, খিলগাঁও, শ্যামবাজার, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল, উত্তরা, হাতিরপুল, কাপ্তানবাজার, মিরপুর এবং আগারগাঁও বাজারে এই যন্ত্র বসছে। এই ওজন বন্ধুর সাফল্য অন্যান্য বাজারেও প্রভাব ফেলবে নিশ্চয়। এর ফলে ক্রেতারা যে যুগ যুগ ধরে ঠকে আসছেন, এবার তার অবসান হতে পারে। ওজন বন্ধু ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের বন্ধু হিসেবে ঠকবাজি থেকে সকলকে উদ্ধারে সহায়ক হতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এই মাত্রা পাওয়া