১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা

বেসরকারী শিক্ষা খাতে যেন এক বিপ্লব ঘটে গেল বৃহস্পতিবার। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে এদিন। তাদের মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং আগামী বৈশাখ থেকে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা পাবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে তাদের জন্য এই ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য এটি অবশ্যই বড় সুখবর। জানা গেছে, এই ইনক্রিমেন্টের জন্য বাড়তি ৫৩১ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা লাগবে। আর বৈশাখী ভাতার জন্য লাগবে ১৭৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ওই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় পরে এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন পেলেও ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিলেন। এ জন্য তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামও করেছেন। অবশেষে তাদের বহু কাক্সিক্ষত দাবি পূরণ হলো। দাবি পূরণের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা যে সত্যিকার অর্থেই শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী তা আবারও প্রমাণিত হলো।

বর্তমান সরকারের আমলে বহু বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছে। এটি মানতে হবে যে, সবার মধ্যে শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হলে এ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া শিক্ষার প্রসার কখনও সম্ভব নয়। শিক্ষার মান বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাসের হার কিংবা জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি দিয়ে মান নির্ধারণ করা যাবে না। মানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করতে হবে। মেধাবীদের এই পেশায় আগ্রহী করতে না পারলে ভবিষ্যত প্রজন্ম যে মেধাশূন্য হয়ে গড়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আসলে বেসরকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা তুলনামূলক অনেক কম। অথচ তারাই বেশি দেশের ভবিষ্যত নাগরিক তৈরি করে দেন। বলা যায় মানুষ গড়ার সবচেয়ে কঠিন কাজটি তাদেরই করতে হয়। এ দাবি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বেসরকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল, তা অনেকাংশে কেটে যাবে। এখন থেকে শিক্ষকদের বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও সরকারী চাকরিজীবীদের মতো ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা দেয়ার যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বেসরকারী শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে। এই ক্ষেত্রে মেধাবীরাও শিক্ষকতা পেশায় আসতে উৎসাহিত হবে। আমরা মনে করি, এই ঘোষণা শিক্ষকদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।

এদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষক সংঠনগুলো। তারা বলেছেন এটি দেশের শিক্ষা পরিবারের জন্য অনন্য একটি দিন। এটি বিশাল এক অর্জন শিক্ষক-কর্মচারীদের। এই অজর্নের মধ্য দিয়ে দেশের প্রায় ২৮ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে এখন থেকে আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা মনে করি, এখন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকরা মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন, এমনটাই সবার প্রত্যাশা।