১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরক

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণের শব্দ যেন ধ্বনিত না হয়। যেন হতাহত না হয় মানুষ। তাই সতর্কতা শুধু নয়, প্রয়োজন সেসব অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার। অতীতে তথা পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের নামে যেসব প্রহসন হয়েছে। সেখানে এ অস্ত্রের ঝঙ্কার যেমন ছিল, তেমনি বোমাবাজিতে প্রকম্পিত হয়েছে ভোটকেন্দ্র। সামরিক জান্তা শাসকরা গণরোষের মুখে নির্বাচন দিতে বাধ্য হলেও ক্ষমতা কুক্ষিগত করা এবং জান্তা সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য অন্তত বোমাবাজির ব্যবহার করেছে নিঃশঙ্কচিত্তে, গণভয় প্রদর্শনে। এমনিতে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিতে বাধা দান, কেন্দ্র দখল, ফলাফল পাল্টে দেয়ার জন্য অস্ত্র ব্যবহার ছিল যেন স্বাভাবিক বিষয়। অবৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ঘটত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই। বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহারকারী সন্ত্রাসীদের উল্লম্ফন দেখা যেত। নির্বাচনের আগেই প্রচারকালে অস্ত্রের মহড়া চলত। সংখ্যালঘুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্ত্র প্রাদর্শন করে হুমকি দেয়া হতো ভোটকেন্দ্রে যেন না যায়। প্রতিপক্ষ প্রার্থী কর্মী- সমর্থকদের অস্ত্রের ভয়-ভীতি দেখানো হতো। এই অস্ত্রের ব্যবহার শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ব্যবহার হতো। দু’পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির বহু ঘটনাই ঘটেছে এদেশে নির্বাচনকালে। শুধু ভোটের দিন নয়, নির্বাচনী প্রচারণাকালেও অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিল করার দৃশ্য সংবাদপত্রেও ছাপা হয়েছে। ভোটযুদ্ধ মূলত সশস্ত্র যুদ্ধে পরিণত হতো। নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়ার মতো সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের ব্যবহারের প্রথা পুরনো। দাগী ও চিহ্নিত আসামিদের কারাগার থেকে বের করে এনে নির্বাচনী মাঠে ছেড়ে দেয়া হতো পঁচাত্তর পরবর্তীকালে। নির্বাচন এলে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজদের কদর বেড়ে যাওয়া ছিল এক ধরনের প্রথা। পলাতক, আত্মগোপনকারী কিংবা দেশত্যাগী সন্ত্রাসীরা নির্বাচনী ময়দানে দানবের ভূমিকায় নেমে প্রার্থীর বিজয়ের ত্রাণকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হতো। নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার খবর সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে এন্তার। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে প্রার্থীর পক্ষে সিল মারা, লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের হটিয়ে দিতে বোমাবাজির ঘটনা, ভোট ডাকাতির দৃশ্যপট এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। যাওয়ার কথাও নয়। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা যেমন চলছে, তেমনি রগ কাটা বাহিনী, জঙ্গী, মৌলবাদীদের সশস্ত্র প্রস্তুতির খবরাখবরও প্রচার হচ্ছে। জামায়াত-শিবির, আনসার উল্লাহ বাংলাটিম, হিজবুত তাহ্রীর জেএমবি, হুজি ইত্যাদি সংগঠন নাশকতায় অবতীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ভোটকে কেন্দ্র করে এরা নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে না। দেশে বোমা ও গ্রেনেড নির্মাণে সিদ্ধহস্ত জঙ্গীরা যাতে তৎপর হতে না পারে সে জন্য আগাম সকর্তকতার সঙ্গে সঙ্গে এদের আটক করা সঙ্গত। নির্বাচনের এই সময়ে অস্ত্র উদ্ধার কর্মসূচী জোরদার করে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব হলেও এর সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। সন্ত্রাসী ও সমর্থকদের ছত্রছায়ায় থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে সে জন্য এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হানাহানি, সংঘর্ষ, গোলাগুলি, বোমাবাজিমুক্ত নির্বাচন চায় দেশবাসী। পরিপূর্ণ শান্তিময় পরিবেশে ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে, সে জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। ভয়ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যা যা করণীয়, তা দ্রুত করা সময়ের দাবি।

নির্বাচিত সংবাদ