১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৬ হাউজিংয়ের জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পূর্বাচল নতুন শহর এলাকার আশপাশে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার অধীন এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার অধীন ১৬টি হাউজিং কোম্পানি কর্তৃক জলাশয়, পুকুর, জলাভ‚মি, নিচু ভ‚মি ভরাট, দখল এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন বন্ধের বিষয়ে জনস্বার্থে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে গত ২১ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামাল আদালত নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে জলাশয়, জলাভ‚মি, নিচু ভ‚মি, পুকুর ভরাট এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বে-আইনী ঘোষণা করা হবে না এবং উক্ত জলাশয়, জলাভ‚মি, নিচু ভ‚মি, পুকুর রক্ষায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানাতে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।

শুনানিতে বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ এর বিধান অনুসারে নদীর জায়গা দখল ভরাট সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে এলাকায় এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে জলাশয়, জলাভ‚মি, নিচু ভ‚মি, পুকুর ভরাট এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন কার্যক্রম চলছে। প্ল্যাটিনাম পূর্বাচল সিটি, সিটি ক্লাউড, কানাডা সিটি, জমিদার সিটি, ড্রিমল্যান্ড, হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি, হোমটাউন পূর্বাচল সিটি, প্রিটি রিয়েল এস্টেট, মাসকট গ্রীন সিটি, পুষ্পিতা এমপিয়ার হাউজিং, নন্দন সিটি, বেস্টওয়ে সিটি, মালুম সিটি, মেরিন সিটি এবং সোপান সিটি ইতোমধ্যে মাটি ভরাট করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে যার ফলে পরিবেশ ক্ষতি সম্মুখীন হয়েছে।

শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের আদালত পরিবেশ, বন ও জলাশয় মন্ত্রণালায়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ভ‚মি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে এরিয়েল ম্যাপ (গুগল অথবা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ম্যাপ) সংগ্রহ করে পূর্বাচল নতুন শহর এলাকার আশপাশে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার জলাশয়, জলাভ‚মি, নিচু ভ‚মি, পুকুর ইত্যাদি চিহ্নিত করে ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালত বিবাদীদের প্ল্যাটিনাম পূর্বাচল সিটি, সিটি ক্লাউড, কানাডা সিটি, জমিদার সিটি, ড্রিমল্যান্ড, হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি, হোমটাউন পূর্বাচল সিটি, প্রিটি রিয়েল এস্টেট, মাসকট গ্রীন সিটি, পুষ্পিতা এমপিয়ার হাউজিং, নন্দন সিটি, বেস্টওয়ে সিটি, মালুম সিটি, মেরিন সিটি এবং সোপান সিটি কর্তৃক যেকোন প্রকার জলাশয়/জলাভ‚মি/নিচু ভ‚মি/পুকুর ভরাট সম্পর্কিত স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দুই মাসের মধ্যে আদালতের আদেশ প্রতিপালন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

রিট পিটিশনার হলেন, ঐজচই– এর পক্ষে এ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। বিবাদীরা হলেন, পরিবেশ, বন ও জলাশয় মন্ত্রণালায়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ভ‚মি মন্ত্রণালয়ের সচিব, চেয়ারম্যান রাজউক, মহাব্যবস্থাপক পরিবেশ বিভাগ, উপ-পরিচালক পরিবেশ বিভাগ, জেলা প্রশাসক নারায়াণগঞ্জ, জেলা প্রশাসক গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বাদী পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। সরকার পক্ষে ছিলেন এএজি পূরবী সাহা এবং পূরবী রানী দাস।

নির্বাচিত সংবাদ