১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জীবন মানের উন্নতি হচ্ছে বলেই জনগণ কর দিচ্ছে ॥ অর্থমন্ত্রী

জীবন মানের উন্নতি হচ্ছে বলেই জনগণ কর দিচ্ছে ॥ অর্থমন্ত্রী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে সারা দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাব আঙ্গিনায় এ মেলার উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় কর দিতে মানুষের অনীহা ছিল। কিন্তু এখন অসংখ্য যুবক এসে মেলায় কর দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন সেবা বেড়েছে, মানুষের জীবন মানের উন্নতি হচ্ছে বলেই জনগণ কর দিচ্ছে।

বর্তমানে সারা দেশে ৩৫ লাখ মানুষের আয়কর সনাক্তকারী নম্বর (টিআইএন) রয়েছে। তাদের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন ২০ লাখ। আগামী দুই বছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ লাখ করার পাশাপাশি ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে এনবিআর।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় দেশে মাত্র সাত লাখ করদাতার কাছ থেকে আয়কর আদায় করা যেত। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।

“আমি কালকেই দেখলাম এখন বিভিন্নভাবে প্রায় এক কোটি মানুষ কর দেয়। অনেক ধরনের কর আছে, সবগুলো ধরলে এক কোটি মানুষ আজকে কর দেয়। এটা যথেষ্ট কৃতিত্বের বিষয়। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে এক কোটি করদাতা।

“তবে আমাদের উন্নয়ন যেভাবে ধাবিত হচ্ছে, তাতে এক কোটি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এই এক কোটির সঙ্গে আরও কয়েক কোটি এখানে যুক্ত হওয়া উচিত “

“এখন বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় আপনি ইচ্ছা করলে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে পারেন। এই সুযোগ ৩০ বছর আগেও ছিল না। এর ফলে অর্থনীতির গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং মানুষের মধ্যে বৈষম্য অনেক কমে যাচ্ছে। হ্যাঁ বৈষম্য এখনো আছে, কিন্তু সেটা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। তা এখন ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।

“অর্থাৎ সকলের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ২২ শতাংশও কম নয়। ২২ শতাংশ মানে প্রায় ৩ কোটি মানুষ। এই তিন কোটি মানুষকে এখন উপরে ওঠাতে হবে। সেটাই এখন আমাদের জাতীয় লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

চলতি অর্থবছরে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা গতবারের মতই আছে। যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না।

কোনো ব্যক্তি-করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য তার করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা করে বাড়বে। অর্থাৎ, কোনো করদাতার একজন প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে তার করমুক্ত আয়সীমা হবে তিন লাখ টাকা।

আয়কর ও মুনাফার উপর কর বাবদ চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৭১৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ঢাকাসহ সাত বিভাগীয় শহরে আয়কর মেলা চলবে ১৯ নবেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া সব জেলা শহরে চার দিন এবং ৩২টি উপজেলায় দুই দিন মেলা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ৭২টি ‘গ্রোথ সেন্টারে’ এক দিন ভ্রাম্যমাণ মেলা হবে।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলায় করদাতা, সম্ভাব্য করদাতা ও ভবিষ্যতের করদাতাদের জন্য ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রিটার্ন গ্রহণ, কর পরিশোধ এবং কর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।