১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথে খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা

নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথে খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ প্রয়াত সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের প্রাণের নুহাশ পল্লীর ভেতরে ও প্রবেশপথে বনের জমি রয়েছে বলে স্থানীয় বন কর্মকর্তা দাবি করেছে। সম্প্রতি বনবিভাগ ওই জমি মেপে সাইনবোর্ড টানিয়ে তারের বেড়া দিয়েছে এবং প্রবেশ পথে খুঁটি পুঁতে ও গর্ত খুড়ে দিয়েছে। এতে নুহাশপল্লীর পর্যটক ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার নন্দিত ওই কথা সাহিত্যিকের ৭০তম জন্মদিনের কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে তার পত্নী মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, হুমায়ুন আহমেদ ১৯৯৬সলে যখন ওই জমিতে নুহাশ পল্লী গড়েন। বিভিন্ন গাছ-পালা ও স্থাপনা নির্মাণ করেন তখন কেউ বলেনি সেখানে বনের জমি রয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের জীবিত অবস্থায়ও থাকাকালীন সময়ে এ রকম কোন কথাই আমরা শুনিনি।

নুহাশ পল্লীর ভেতরে (হুমায়ুন আহমেদের কবরস্থানের দক্ষিণে) তার সৃজিত আম বাগানটিসহ ০.৬০ একর জমি বনবিভাগের কথাটি শুনার পর আমার কাছে হঠাৎ করে বাজ পড়ার মতই মনে হয়েছে। যখন জমি কেনা হয় তখন হয়ত বিক্রেতারা কোন ভুল কাগজ সরবরাহ করেছে। আমরা তখন ওটা বুঝতেও পারিনি। ওই জমি কেনার পর হুমায়ুন আহমদ ১৯৭১সনকে স্মরণ রাখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে এনে ৭১টি বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির আম গাছ নিজ হাতে লাগিয়েছেন। যাদের বয়স এখন প্রায় ২২বছর হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমরা খুবই আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছি।

এছাড়া নুহাশ পল্লীতে ঢুকার পথেও কিছু বনের জমি রয়েছে। সম্প্রতি ওই পথে বনবিভাগ খুঁটি পুঁতে ও বড় গর্ত খুড়ে দেয়ায় পর্যটকরা গাড়ি নিয়ে নুহাশ পল্লীর ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। নুহাশ পল্লীর আমবাগানে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনবিভাগের রাথুরা বিট থেকে সংরক্ষিত বনভূমি উল্লেখ করে একটা সাইবোর্ড ও তাদের বেড়া দেয়া হয়েছে। এটা যদি বনের জমিই হয় তবে আমরা কিভাবে একটা নিয়মের মধ্যে আনতে পারেন সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছেন শাওন।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনবিভাগের রাথুরা বিট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন ভুইয়া বলেন, বনবিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখানে ব্যক্তি আক্রোশ বা অন্য কোন কারণ নেই। তবে তিনি ওই ব্যাপারে ডিএফও’র সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

নুহাশ পল্লীতে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক মো. মুজিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার তারা স্বপরিবারে গাড়িযোগে নুহাশপল্লীতে ঢুকতে গিয়ে গর্ত দেখেন। ঢুকার পথে গর্ত থানায় তারা গাড়ি নিয়ে ভেতরে যেতে পারেননি। গাড়িপথে রেখে পায়ে হেঁটে তাদের নুহাশ পল্লীতে ঢুকতে হয়েছে। প্রবেশ পথে বনবিভাগ গর্ত করে রাখায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পিরুজালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ সরকার মঞ্জু বলেন, বনের জমিও যাতে রক্ষা পায় এবং জনগণও যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেদিকে ঊভয়ে উভয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

নুহাশ পল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন পালন ॥

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং মঙ্গলবার সকালে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, পায়রা উড়িয়ে ও কেক কেটে পালন করা হয়েছে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০ তম জন্মদিন।

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকায় মঙ্গলবার (১৩ নবেম্বর) নুহাশ পল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন পালন করা হয়েছে। প্রথমে রাত ১২টা ১ মিনিটে পুরো নুহাশ পল্লীতে ২ হাজার ৫০০ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তাদের দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিতসহ স্বজন এবং ভক্তদের নিয়ে নুহাশ পল্লীতে কেক কাটেন এবং ১০ জোড়া পায়রা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ॥

হুমায়ুন আহমদের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশপল্লীর ভাস্কর আসাদ খানের দিনব্যাপী একক শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ভাস্কর আসাদ বলেন, এটি হলো তার তৃতীয় প্রদর্শনী। প্রয়াত হুমায়ুন স্যারের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আমি এতদূর এগিয়েছি। আমি কাঠের হস্তশিল্পে প্রশংসা ও পারদর্শী হয়েছি।

হিমুদের সাইকেল যাত্রা ॥ গাজীপুর জেলা শহর থেকে হিমু পরিবহনের ৩০জনের দল মঙ্গলবার সকালে নুহাশপল্লীতে গিয়ে জনপ্রিয় ওই সাহিত্যিকের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। হিমু পরিবহনের সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম জানান, তারা এদিনে সকাল জেলা শহর থেকে নুহাশপল্লীতে যাওয়ার পথে এলাকাবাসীর কাছে ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য- ১৯৪৮ সালের ১৩ নবেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন হুমায়ুন আহমেদ। তার ডাক নাম ছিল কাজল। বাবার রাখা তার প্রথম নাম শামসুর রহমান। পরে তিনিই আর ছেলে নাম বদলে রাখেন হুমায়ুন আহমেদ। দূরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরন করেন। এরপর গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।