১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ ভোট দিতে মুখিয়ে আছে ভোটার

  • দলিল উদ্দিন দুলাল

বাংলার মানুষ নির্বাচনমুখী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নির্বাচন কেন্দ্রিক উৎসবে সেজেছে গ্রাম বাংলা। এখন যে কোন নির্বাচন এলাকায় দেখা যায় মাঠে-ঘাটে চায়ের দোকানে, সব জায়গায়ই নির্বাচন নিয়ে আলাপচারিতায় মগ্ন। এটা সত্য, নির্বাচন নিয়ে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে চরমে পৌঁছে যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলে গ্রাম-বাংলায় দেখা যায় সবাই আনন্দিত, উৎফুল্ল, উজ্জীবিত। সবাই ভোট নিয়ে যেন মাতোয়ারা। এবারকার নির্বাচন নিয়ে সব মানুষ কেমন যেন আরও বেশি উৎসাহিত। কারণ সব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এটা ধারণা করা যায়। মানুষ বর্তমানে যে অবস্থায় আছে আগামী দিনে আরও সুখ-শান্তিতে থাকতে চায়। গ্রামের মানুষ তো ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। গ্রাম-বাংলার মানুষ সারাদিন খেটে যে আয় রোজগার করে তাতে সংসার চালিয়ে দুমুঠো ভাত খেয়ে মাথার ওপর বিদ্যুতের পাখা চালিয়ে ঘুমায় আর স্বস্তিÍ বোধ করে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সুবাদে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং টিভির মাধ্যমে ঘরে বসে পরিবার-পরিজন নিয়ে টক শোসহ নির্বাচনী সংবাদ দেখছে।

তারা উন্নয়নের জোয়ারের ভাসার কারণ অকারণ দেখে। টিভির টকশোর কারণে প্রকৃত সত্য ভালভাবে অনুধাবন করতে পারে। কারা কি করছে। তাদের পছন্দের দল তারাই ঠিক করে রেখেছে। সত্য মিথ্যার চোরাবালিতে কারা থাকছে, তাদেরকে ঠিক করে ফেলেছে। এমন কি তাদের সিদ্ধান্ত নিজেদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেনÑ যেভাবে টিভিতে কথাবার্তা বলেন তাতে কি আদৌ নির্বাচন হবে? না ১৪ সালের মতো আবার জ্বালাও পোড়াও হবে? একজন ভোটার একটা ভোটের মালিক। তাদের ভোট সেই সুন্দরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে কিনা? এবারও কি ভোট দেয়ার অপরাধে বাড়িতে রাস্তায় হামলা চালাবে? এ নিয়ে মানুষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। বর্তমান রাজনীতির সদ্য গজানো জোটের কিছু নেতার বডি লেঙ্গুয়েজ দেখে মনে হয়, তারা সে পুরনো খেলাই খেলতে চাইছে। তাদের বেফাঁস মন্তব্যে সচেতন মানুষরাও ভাবছে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজবিরোধী, রাষ্ট্রীয়বিরোধী কথাবার্তা ভোটারদের মনে দাগ কাটে। তারা নিজ দলের ক্ষমতা না পেয়ে দল থেকে ভিন্ন দল করে বিভিন্ন জোটের তিন নম্বর কাতারে বড় কথা বলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে। তারা ভোটারদের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলছে। অথচ এমন একটি অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উন্নত আধুনিক শোষণমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণে সব দলের সব নেতাদের সমান দায়িত্ব। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার ভোটাররা মুখিয়ে আছেন। তাদের ভোট তারা প্রয়োগ করবে মনের মাধুরী মিশিয়ে। তারা এবার প্রচুর উৎসাহ উদ্দীপনা আনন্দঘন পরিবেশ চায়। পরিবেশ ভোটারদের অনুকূলে এলে সবাই নিজ পছন্দের দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোট প্রয়োগ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

দুই মেয়াদে আওয়ামী জোট নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে যে উন্নয়নও অগ্রগতির ইতিবাচক কথা উঠেছে তা ভোটারদের কথোপকথন থেকে আঁচ করা যায়। তবে অনেক জায়গায় দেখা যায় যারা গ্রামে-গঞ্জে এলাকার মানুষের সমাজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারে- মানুষের পালস্ বোঝে, তাদের মধ্য থেকে প্রার্থী দরকার বলে আকাক্সক্ষা করে। তবে একটা কথা সব জায়গায় সমভাবে উচ্চারিত হয়Ñ আজকের প্রধানমন্ত্রীর নাম। সব জায়গায় যেমন ছাত্র-জনতা ভোটার সবার মুখে একই বাক্য এই সরকার আরও দরকার। মা-বোনদের মুখ থেকেও শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নাম ধরে তারা বলেন, তাদের জন্য হাসিনার সরকারই অনেক দিন থাকা দরকার। সমাজের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমাজ সচেতন মানুষের মাঝেও একই ভাবনা। এবার মনে হচ্ছে, ১৯৭৩, ২০০৮ সালের মতো ভোট পড়বে আওয়ামী লীগ মহাজোটের পক্ষে। কারণ হলো দেশের মানুষ অনেক শান্তিতে আছে। গ্রামেগঞ্জে আগের মতো রাজনৈতিক হানাহানি নেই। নেই কোন সামাজিক অন্যায়-অবিচার। গ্রামে-গঞ্জে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমায়। এই শান্তিটুকু তারা চায়।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক কমান্ডার