১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জবাবদিহিতা চাই

  • রাখাইন সঙ্কট নিয়ে আসিয়ান সম্মেলনে ঘোষণা

রাখাইন সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত বলে দেশটির প্রতিবেশীরা মত প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে ১০ জাতি জোট আসিয়ানের আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে একথা বলা হয়েছে। -ইয়াহু নিউজ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী নিপীড়নের জন্য দায়ীদের ‘পূর্ণ জবাবদিহিতার’ আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। আসিয়ান শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেয়া দেশগুলো এ বিষয়ে যৌথভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেছে। মঙ্গলবার সম্মেলনের ঘোষণাপত্র থেকে সম্মেলনে অংশ নেয়া ঐক্যবদ্ধ অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। খসড়া ঘোষণা পর্যালোচনা করে এর ভাষায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়। চূড়ান্ত ঘোষণায় রাখাইন পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করা হয়। খসড়া বিবৃতির বিষয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলে দেশটির সরকারের মুখপাত্র জাও হোতায়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি। আগস্টে জাতিসংঘ এ বিষয়ে যে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা, গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছিল। গণহত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নির্মম অপরাধ সংঘটনের জন্য জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানসহ পাঁচজন উর্ধতন জেনারেলকে দায়ী করে তাদের আন্তর্জাতিক আইনে বিচারের সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বেশিরভাগ অভিযোগ মিয়ানমার অস্বীকার করে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতাকে নীরবে সায় দিয়ে দেশটির কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান আউং সান সুচি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি এতকাল যে সুনাম অর্জন করেন রাখাইন ইস্যুতে তা মলিন হয়ে যায়। বিভিন্ন গ্রুপ ও সংস্থাগুলো তাকে দেয়া সম্মাননাগুলো একে একে প্রত্যাহার করে নেয়। সবশেষ সুচিকে দেয়া সর্বোচ্চ খেতাব ‘এ্যাম্বাসেডর অব কনশেন্স’ প্রত্যাহার করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তিনি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ২০০৯ সালে গৃহবন্দী থাকাকালে এ্যামনেস্টি তাকে ওই সম্মানে ভূষিত করে । সুচির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ্যামনেস্টির মহাসচিব কুমি নাইডু বলেছেন, ‘আপনি আশা, সাহসিকতা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতীকের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা হারানোয় আমরা অত্যন্ত হতাশ।’ চিঠিতে নাইডু আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মাত্রা ও উদ্ভুত সামগ্রিক পরিস্থিতির গুরুত্ব সুচি স্বীকার করেননি, এতে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের সম্ভবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে । মঙ্গলবার সুচির গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তির অষ্টম বার্ষিকীর দিনটিতে তাকে দেয়া সম্মাননা কেড়ে নেয় এ্যামনেস্টি। যারা এক সময় তাকে ‘গণতন্ত্রের বাতিঘর’ বলে অভিহিত করে তারা শেষ পর্যন্ত মুখ ফিরিয়ে নেয়। সুচি অবশ্য আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেন।

আসিয়ানের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘আমরা মিয়ানমারের সরকারের গঠিত ইন্ডেপেন্ডেন্ট কমিশন অব এনকোয়ারিকে রাখাইনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবাদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানাই’। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাখাইন ইস্যু আসিয়ান সদস্যদের কাছে সবচেয়ে মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। জোটটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ বিবদমান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে না। আসিয়ান ইতোপূর্বে সঙ্কট সমাধানে মানবিক উপায়ের ওপর গুরত্ব আরোপ করলেও এই প্রথম জোটটি গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুকি করার দাবি জানাল।