১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিরপুর টেস্টে জয় দেখছে বাংলাদেশ!

মিরপুর টেস্টে জয় দেখছে বাংলাদেশ!

মিথুন আশরাফ ॥ মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ নিরাপদ অবস্থানেই আছে। এমনকি ম্যাচে জয়ও দেখছে। জিম্বাবুইয়েকে ইনিংসে হারানোর সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে আছে। তবে কথায় আছে, ‘

নো রিস্ক, নো গেইন।’ এজন্য জিম্বাবুইয়েকে ইনিংসে হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। জিম্বাবুইয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ কী ফলোঅনে পড়া জিম্বাবুইয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর ঝুঁকি নেবে? যদি সেই ঝুঁকি নেয়, তাহলে জিম্বাবুইয়ে যে এখনও ২১৮ রানে পিছিয়ে আছে; তা করতে না পারলেই ইনিংস ব্যবধানে জিতবে বাংলাদেশ।

এখন সবার মুখে একটিই কথা, জিম্বাবুইয়েকে ইনিংসে হারানোর চেষ্টার দিকেই কী ঝুঁকবে বাংলাদেশ? যদি ঝুঁকে, তাহলে সামান্য হলেও ঝুঁকি থাকবে। জিম্বাবুইয়ে এখনও ২১৮ রানে পিছিয়ে আছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫২২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রান করেছে জিম্বাবুইয়ে। ১৩১ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যে খেলা দেখালেন ১১০ রান করা ব্রেন্ডন টেইলর ও ৮৩ রান করা পিটার মুর, এমন নৈপুণ্য যদি আবারও দেখিয়ে দেন। দুইজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের জুটি গড়েই জিম্বাবুইয়ের স্কোরবোর্ড রানে ভারি করে তুলেন। তাই যদি আবার হয়। তাহলেই ঝুঁকি থাকছে। তখন চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করতে হবে। জিম্বাবুইয়ে যদি ২১৮ রান করার পর আরও ১৫০-২০০ রান কোনভাবে যোগ করে ফেলে ততক্ষণে চতুর্থদিন শেষ হয়ে পঞ্চমদিনে ম্যাচ গড়াবে। বাংলাদেশের সামনে জিততে ২০০ রানের মতো টার্গেট পড়বে। হাতে থাকবে দুই সেশন।

কোনভাবে যদি বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের নৈপুণ্য দেখাতে না পারেন, সিলেট টেস্টের ব্যর্থতা ঝেঁকে বসে, তাহলেই তো বিপদ আসবে। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব। জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যানরা যে প্রথম ইনিংসের চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন না, তা কে বলতে পারে।

যতদূর জানা গেছে, টিম ম্যানেজম্যান্ট দোটানায় আছে। একবার ঝুঁকি নেয়ার দিকেই এগিয়ে চলতে চায়। আবার ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে চায়। ম্যাচে যেহেতু বাংলাদেশই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে, তাই ঝুঁকিতে যাওয়াও যে ঠিক হবে না। এমনিতেই সিলেট টেস্ট হেরে সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। যে কোনভাবেই হোক মিরপুর টেস্টে জিততে হবে। তাহলে সিরিজ ১-১ ড্র হবে। এর বিপরীত কোন ফল হলেই সিরিজে হারবে বাংলাদেশ। ঝুঁকি এড়ানো মানেই হচ্ছে, বাংলাদেশ আবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২০০ রানের মতো করে ইনিংস ঘোষণা করে দেয়া। তাতে ৪০০ রানের বেশি টার্গেট পড়বে, হাতেও দেড়দিনের মতো থাকবে। সেই টার্গেটে খেলতে নেমে জিম্বাবুইয়ের হারের সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।

তাইজুল ইসলাম (৫/১০৭) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৩/৬১) যেভাবে স্পিন জাদু দেখিয়েছেন, তাতে জিম্বাবুইয়েকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠানোর দিকেই মতামত বেশি। প্রথমবারের মতো কোন দলকে ফলোঅনে ফেলেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো কোন দলকে ইনিংসে হারানোর সুযোগও ধরা দিয়েছে। এমন সুযোগ কী আর হাতছাড়া করা যায়? আবার ম্যাচের তিনদিন চলে গেছে। আজ চতুর্থদিনের খেলা। যতই প্রথম তিনদিন উইকেট ব্যাটসম্যানদের দিকেই হেলে ছিল, চতুর্থদিন থেকে বোলারদের, বিশেষ করে স্পিনারদের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তাই যদি হয়, তাহলে মুস্তাফিজ, খালিদের গতিতে চাপ প্রয়োগ করে দুই স্পিনার তাইজুল, মিরাজের নৈপুণ্যে ইনিংস ব্যবধানেও জয় ধরা দিতে পারে।

তা যদি নাও হয়, জিম্বাবুইয়ে যদি ভাল ব্যাটিং দেখায়ও, যদি ৩০০-৩১৫ রানের মধ্যে বেঁধেও রাখা যায়, তাহলেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই উজ্জ্বল থাকছে। তখন ১০০ রানের মতো টার্গেট পড়বে। সবদিক দিয়েই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ভীতই আছে। তাই শেষপর্যন্ত সাহস দেখিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে জিম্বাবুইয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর দিকেই ঝুঁকতে পারে বাংলাদেশ।

ইনিংস ব্যবধানে জয়টি মিলে গেলেইতো হলো। ইতিহাস গড়ে ফেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে সব দলই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছে। শুধু বাংলাদেশই সেই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। জিম্বাবুইয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে সেই অর্জন নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন যুক্ত করা গেলেই হলো।