১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশকে পেলেই জ্বলে ওঠেন টেইলর

  • ৫ টেস্ট সেঞ্চুরির চারটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ দারুণ পয়মন্ত প্রতিপক্ষ তার। যেন টেস্ট ক্যারিয়ারটা তার টিকেই আছে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়াতে। জিম্বাবুইয়ের ডানহাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলরের টেস্টে যে ব্যাটিং পরিসংখ্যান তাতে এটা নিশ্চিতভাবেই এখন বলা যায়। ৩২ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান শুধু বাংলাদেশের মাটিতেই নয় বিদেশের মাটিতে টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। চলমান মিরপুর টেস্টে সোমবার তৃতীয় দিন ১৯৪ বলে তার করা ১১০ রানের দারুণ ইনিংসটির সুবাদেই ভাল লড়াই করেছে সফরকারীরা। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি ছিল এটি তার। এর মধ্যে চারটিই এসেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। বাংলাদেশকে পেলেই যেন ব্যাট হাতে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন টেইলর।

৫২২ রানের বোঝা নিয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুইয়ে ৪০ রানে হারায় দুই উইকেট। তখন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার ঘূর্ণি বলের মায়াবী জাদুতে অন্যরা সম্মোহিত হলেও টেইলর ছিলেন দারুণ যোদ্ধা। শুরু থেকেই বেশ সাবলীল ভঙ্গিমায় খেলে গেছেন তিনি। একে একে ব্রায়ান চারি, শন উইলিয়ামসকে সাজঘরে ফিরতে দেখেছেন অর্ধশতকে পৌঁছানোর আগেই। এর আগেই অবশ্য তৃতীয় উইকেটে চারির সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় এড়ানোর সংগ্রামে ভালভাবেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের বিপর্যয়ে যেন আরও মাথা ঠা-া হয়েছে তার। ঘুণাক্ষরেও কোন ভুলের ফাঁদে পা দেননি, বাংলাদেশী বোলারদের সব আক্রমণ সামলে গেছেন দারুণ ধীর-স্থির ভঙ্গিমায়। জিম্বাবুইয়ে ১৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসার পর যোগ্যতম সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যান পিটার মুরকে। এ দু’জন যে স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে শক্ত দেয়াল, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রান যোগ করে। দারুণ জমে ওঠা এই জুটিটাতেও ভাঙ্গন ধরে যখন মুর ৮৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। সে সময় বাংলাদেশের মাটিতে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে দাঁড়িয়ে টেইলর।

বাংলাদেশের দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল তখন রীতিমতো আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন। দিনের শেষ সেশনে দ্রুতই কয়েকটি উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুইয়ে। কিন্তু নিজের লক্ষ্যটা বেশ দ্রুতই পূর্ণ করেন টেইলর। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিটি পেয়ে যান। বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম শতক হলেও এর আগে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৩ টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ৫ টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে ৪টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ১৭১ রানের ইনিংসটিও তিনি খেলেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১৩ সালের এপ্রিলে হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসে। সেই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশী বোলারদের ভোগান্তি উপহার দিতে তিনি বেশ পারঙ্গম। আগের ৪ সেঞ্চুরির চারটিই করেছিলেন দেশের মাটিতে। তাই দেশের বাইরেও শতক হাঁকানোর প্রথম তৃপ্তি তার।

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন নিজের ২২তম টেস্ট ইনিংসে, সেটিও ২০১১ সালের আগস্টে হারারে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১০৫ রান করে। ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসেও খেলেছিলেন ৭১ রানের ইনিংস। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিপক্ষে বরাবরই চওড়া হয়ে ওঠে টেইলরের ব্যাট। ক্যারিয়ারের ব্যাটিং পরিসংখ্যানটা দেখলেও তা নিশ্চিত হয়। ২৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৩৩.৩৪ গড়ে ১৭৩৪ রান করেছেন এখন পর্যন্ত ৫ সেঞ্চুরি, ৮ হাফসেঞ্চুরিসহ। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষেই সিংহভাগ রান তার।

এখন পর্যন্ত ১০ টেস্টের ১৯ ইনিংস ব্যাট করে ৩ বার অপরাজিত থেকে ৪ সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরি মিলিয়ে করেছেন ৯৩৩ রান, গড় ৫৮.৩১! অথচ অন্যদলের বিপক্ষে বেশ নাজুক অবস্থা তার ব্যাটিংয়ে। অন্য দেশগুলোর বিপক্ষে ১৮ টেস্টের ৩৬ ইনিংসে ব্যাট করে প্রতিবারই আউট হয়েছেন। ১ সেঞ্চুরি ও ৬ হাফসেঞ্চুরিসহ মাত্র ২২.২৫ গড়ে করেছেন ৮০১ রান।