১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাক্ষাতকার দিয়ে চাকরি পাচ্ছেন প্রতিবন্ধীরা

সাক্ষাতকার দিয়ে চাকরি পাচ্ছেন প্রতিবন্ধীরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শুধু সাক্ষাতকার দিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। সমাজের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে কাজের সুযোগ করে দিতে দু’দিনের (১৪-১৫ নবেম্বর) জন্য চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী চাকরি মেলা বেশ ভালভাবেই জমে উঠেছে।

বুধবার সকালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি মেলার উদ্বোধন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলার উদ্বোধন করেন। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা মিন আরা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের পরিচালক শেখ হামিম হাসান প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী চাকরি মেলায় প্রতিবন্ধীদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিবন্ধীরা বোঝা নয়, যোগ্যতা অনুযায়ী গড়ে তোলা গেলেও তারা দেশের সম্পদ। এজন্য বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেলা আয়োজন করে সারাদেশের প্রতিবন্ধীদের খুঁজে খুঁজে এনে চাকরি দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, মেলার কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় আগত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে যোগ্যতা ভিত্তিতে উপযুক্ত চাকরি প্রদানের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন বেসরকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিগণ মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সাক্ষাতকার গ্রহণের সুবিধার্থে বিভাগ ভিত্তিকভাবে মেলার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। মেলার প্রথম দিন বুধবার সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের চাকরি প্রত্যাশীদের। অপরদিকে রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের আজ ১৫ নবেম্বর বৃহস্পতিবার সাক্ষাতকার নেয়া হবে। মেলায় আগত চাকরি প্রত্যাশী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণকে স্ব স্ব জীবনবৃত্তান্তের একাধিক কপি (ফটোকপি গ্রহণযোগ্য), পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি ও অভিজ্ঞতার সনদসহ (যদি থাকে) মেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সারাদেশের চাকরি প্রত্যাশী প্রতিববন্ধী ব্যক্তিগণ ও চাকরিদাতা সংস্থার প্রতিনিধিগণ এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।

এদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। প্রতিবন্ধীরা সমাজেরই অংশ। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং তাদের মৌলিক অধিকারের ব্যাপারে সমাজে চরম উদাসীনতা এবং অবহেলা লক্ষ করা যায়। সব ধরনের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তাদের যে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিন্ধীদের নিয়ে কাজ করে এরকম সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এদিকটায় ভালভাবে নজর দেয়ার কথা বলে আসছে। অনেকের মতে, প্রতিবন্ধীদের মেধার বিকাশে যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। প্রতিবন্ধীদের দিয়ে কিছুই হবে না, এমন মনোভাব সমাজে প্রবল। এ কারণে উপযুক্ত চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের অধিকাংশই মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে।

অথচ এসব অসহায়, অবহেলিত মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে তাদের স্বনির্ভর করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য তাদের যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার উপর তাগিদ দিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবন্ধীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবারের বোঝা হিসেবে বেঁচে থাকতে হবে না, তেমনি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০০৭ সালে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে বলা আছে, কোনো বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যদি তার মোট কর্মীর ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়োগ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান কর দেয়ার ক্ষেত্রে ছাড় পাবে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে এ সুবিধা নিতে পারে। সরকারী চাকরিতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া জাতীয় বাজেটেও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ও তাদের সুরক্ষায় বরাদ্দ রয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার আওতায়ও প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।