২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাজীপুরে পৃথক ঘটনায় কর্মকর্তাসহ দুই খুন

গাজীপুরে পৃথক ঘটনায় কর্মকর্তাসহ দুই খুন

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সামনে মহাসড়কের পাশ থেকে বৃহষ্পতিবার বাংলাদেশ থাই এ্যালুমিনিয়াম এক কর্মকর্তার মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে একইদিন পূর্ব শত্রুতার জেরে মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে এক চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে খুন ও তার ভাইকে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ১ নম্বর গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে এক ব্যক্তির দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি তার দেহ থেকে কিছুটা দূরে পড়ে ছিল। লাশের পাশে হেলমেট, মোবাইল, ভিজিটিং কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও টাকাসহ কাগজপত্র পড়ে ছিল।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। নিহতের নাম সহিদুল ইসলাম (৩০)। সে ময়মনসিংহের ভালুকা থানার সিডস্টোর বাজারের জামিরদিয়া এলাকার ওয়াহাব আলী মোল্লার ছেলে। নিহত সহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ থাই এ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের ইন্টারন্যাল অডিট ডিভিশনের ডেপুটি ম্যানেজার।

ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার মোটর সাইকেলটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা আরো জানায়, ওই মহাসড়কের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার মরিচের গুড়া ছিটিয়ে চা বিক্রেতা শহিদুল ইসলামকে (৪৫) কুপিয়ে খুন করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় তার ছোট ভাই আব্দুর রশিদকেও (৩৮) কুপিয়েছে তারা। হতাহতরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশেনের কাউলতিয়ার জেলারপাড় এলাকার জয়নাল আবেদীন শিকদারের ছেলে।

নিহতের ছেলে সুজন আল মামুন জানান, সরকারী জমি থেকে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক বছর আগে একই এলাকার আক্তার হোসেন গংদের সঙ্গে শহিদুল ইসলাম ও রশিদদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে শত্রুতা চলতে থাকে। ওই ঘটনায় শহিদুল ইসলাম ও রশিদকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আঃ রশিদ জোলারপাড় বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিল। পথে সে নাগপাড়া এলাকায় পৌছলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ আক্তার হোসেন তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে রশিদকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে সে রক্তাক্ত জখম হয়। এ খবর পেয়ে ওই বাজারের চা বিক্রেতা শহীদুল ইসলাম ছোট ভাই রশিদকে উদ্ধার করে অটো রিক্সা যোগে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় প্রতিপক্ষরা অটোরিক্সার গতিরোধ করে এবং দুইভাইয়ের চোখে মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে ধারালো অস্ত্র উপুর্যপরি কোপায়। একপর্যায়ে শহীদ ও রশিদ নিহত হয়েছে তাদেরকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে শহিদুল ইসলাম মারা যায়। গুরুতর আহত আঃ রশিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এই মাত্রা পাওয়া