২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট

ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট অনেকটা বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতোই ভুবনবিখ্যাত। পার্থক্য কেবল একটি মাংসাশী, অন্যটি তৃণভোজী। আর শাকাহারি বিধায় মানুষের রসনার পক্ষে অতি উপাদেয়। তাই এর সবিশেষ কদর বাঙালীর কাছে তো বটেই, এমনকি বিদেশীদের কাছেও। সে কারণেই বুঝি এমন গালভারি নাম। তবে এই জাতটি ছাগল প্রজাতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত ছোট। রামছাগল ও পাহাড়ী ছাগল যেমন হয় আকার আকৃতিতে তেমন নয়। কে জানে, দেশী জাতের বলেই এর মাংস ও দুধ সুস্বাদু ও রসনাতৃপ্তিকর। শোনা যায়, ছাগলের দুধ হাঁপানি ও যক্ষ্মা রোগীর জন্য সবিশেষ উপকারী, শিশুর জন্য তো বটেই। তদুপরি এটি গ্রামবাংলায় পরিচিত গরিবের গাভী হিসেবে। যেসব ছিন্নমূল গৃহস্থ ও গৃহহারা নারী গরু লালন পালন করতে পারেন না, তাদের বাহন হলো ছাগল। সংসারের দায় ও ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের নিমিত্ত। তো ছাগল নিয়ে এত কচকচির কারণ কি?

কারণ তো আছেই। এহেন ছাগলের জিনোম সিকোয়েন্স তথা জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বুধবার গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই সুসমাচার জানিয়েছেন সবাইকে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা গত এপ্রিলে বিশুদ্ধ দেশীজাত থেকে নমুনা সংগ্রহ করে শুরু করেন গবেষণা। এ কাজে তাদের আর্থিক সহায়তা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা সফল হন ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্য উদঘাটনে। এর জন্য গবেষক বিজ্ঞানী দল ধন্যবাদ পেতেই পারেন। মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কিছুদিন আগে ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনেও তাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনেও তারা রীতিমতো পারঙ্গম। উল্লেখ্য, এসব ধান খরা ও বন্যাসহিষ্ণু, উচ্চ ফলনশীল তদুপরি ভিটামিন এ, জিঙ্কসহ নানা এনজাইমে সমৃদ্ধ, যা শরীরে পুষ্টি যোগাতে সক্ষম।

অনিবার্য প্রশ্ন একটা উঠতে পারে যে, ধান, মাছ, পশু প্রাণীর জীবনরহস্য উন্মোচন করে লাভ কী? কী কাজে লাগবে ছাগলের এই জিনোম সিকোয়েন্স! এরও উত্তর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে দেশে ছাগলের সংখ্যা ২ কোটি ৭৬ লাখ। যার মধ্যে ৯০ ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। তবে এর আকার-আকৃতি ওজন ও আয়তন অপেক্ষাকৃত ছোট। ফলে দুধ ও মাংস কম পাওয়া যায়। জীবন রহস্য উন্মোচনের ফলে এর আকার ও ওজন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। ফলে দুধ ও মাংস পাওয়া যাবে বেশি পরিমাণে। তদুপরি বাচ্চা উৎপাদনের হার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। অদূর ভবিষ্যতে গবেষণা করে আরও উন্নত জাতের ছাগল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। মনে রাখতে হবে যে, জনসংখ্যা অনুপাতে আমাদের মাথাপিছু প্রত্যেকের ক্ষেত্রে মাছ-মাংস-দুধ-ডিমে কিছু ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি ও চোরাচালান হ্রাস পাওয়ায় দেশীয় খামারিদের কল্যাণে গরুর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এবার পালা ছাগলের। দেশীয় মাংসের জোগানের ২৫ শতাংশ আসে ছাগল থেকে। গবেষণার সুফল পাওয়া গেলে অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি করে পাওয়া যাবে ছাগলের দুধ ও মাংস।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরন্তর গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে। প্রসঙ্গত বলা যায়, দেশী মিঠা পানির কয়েক প্রজাতির দুর্লভ মাছের সঙ্করায়ণসহ উৎপান বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞানীদের সবিশেষ অবদান রয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নতুন নতুন মৌলিক গবেষণা করে তারা আরও ফলপ্রসূ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন করায় আমরা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী দলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।

এই মাত্রা পাওয়া