১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেই পুরনো পথে

নিজেদের কার্যালয়ের সামনে বিএনপি কর্মীরা যে সহিংস তা-ব চালিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর যেভাবে চড়াও হয়ে তাদের গাড়িতে আগুন দিয়েছে তাতে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেই পুরনো পথেই তারা হাঁটছে। যে পথ অন্ধকারের, ধ্বংসের, মানব হত্যার, সর্বোপরি গণতন্ত্রবিরোধী এবং গণবিচ্ছিন্নতার। নির্বাচন ভন্ডুলে ফের তারা লাশ ফেলার চক্রান্ত করছে কিনা সেটিই এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গায়ে পড়ে পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে সরকারের ওপর বদনামের দায় চাপানোর আশঙ্কা করা গোয়েন্দা সংস্থার সেই মাস্টারপ্ল্যান রিপোর্টই সত্যে পরিণত হলো বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। পুলিশের ওপর হামলা করা হলে তাদের ওপর দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে শাস্তি দাবি করার মাধ্যমে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনের বলে চিড় ধরানো যাবেÑ এটিই ছিল বুধবারের হামলার উদ্দেশ্য। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন সামনে রেখে আরও রক্তক্ষয়ী সহিংস সংঘর্ষ, নাশকতা, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় ষড়যন্ত্র করা হবে বলে গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা দেশবাসী ভুলবে কী করে! কী ভীষণ অস্থির নৈরাজ্যকর বিপজ্জনক দিন গেছে জাতির জীবনে। দলীয় কর্মীদের কাছে ‘দেশনেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়ার হুকুমে হরতাল-অবরোধের নামে দেশের সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারার নাশকতা চলে টানা তিন মাস। গোটা দেশ হয়ে ওঠে সন্ত্রাসের জনপদ। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা শুধু মানুষ পুড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তাদের সহিংসতা ও নাশকতায় দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনও ঘটে বিপুল পরিমাণে।

বিএনপি বা দেশের যে কোন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু সে জন্য সবার আগে সংবিধান মেনে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। জনতার রায় পেলেই শুধু সরকার গঠন সম্ভব। এছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। অবৈধ পথের পথিকদের রাতের অন্ধকার কিংবা অজ্ঞাত গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে দিনের আলোয় জনগণের কল্যাণে সুস্থ রাজনীতিতে শামিল হতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা অর্জন করা হয়ত সম্ভব। ক্ষমতায় যাওয়ার সেটাই সংবিধানসম্মত পথ। আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি ক্ষমতায় যাওয়ার মোহে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। এজন্য ধারাবাহিকভাবে তারা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। জনসমর্থন হারানোয় তারা এখন নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করার চাইতে দেশে উদ্ভূত নানা ইস্যুকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র আন্দোলনের ওপর ভর করছে। তাদের দেউলিয়াপনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ছাত্রদের আন্দোলনকে তারা অপব্যবহার করার নীলনক্সা পর্যন্ত তৈরি করেছিল। কোটা আন্দোলনের সময় তারা নাশকতা ঘটায়। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতর সুকৌশলে ছাত্রদল ও শিবিরের ক্যাডার ঢুকিয়ে দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। পাকিস্তান আমলেও যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি তারা সেটাই ঘটিয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে রোমহর্ষক কায়দায় হামলা চালিয়ে লুটতরাজ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল হত্যাকান্ড ঘটানোর মধ্য দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা। সরকারের ত্বরিত যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সেটি সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে একটি সুন্দর আন্দোলনের ওপরও সওয়ার হয়েছিল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশের সকল পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলে আন্দোলনকে ধ্বংসাত্মক মাত্রা দিতে চেয়েছিল।

আমরা আশা করব বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সহিংসতা, ষড়যন্ত্র, নির্বাচন ভন্ডুলের অপচেষ্টাসহ গণবিরোধী ও নেতিবাচক পথ পরিহার করে সুস্থ রাজনীতির ধারায় ফিরে আসবে তারা।