১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তদন্ত হোক

বেসরকারী সাহায্য সংস্থার আড়ালে দেশবিরোধী এমনকি সরকারবিরোধী চক্রান্ত চালানোর ঘটনা নতুন নয়। বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত অনেক এনজিও এদেশে জঙ্গীবাদের প্রসার ও বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে এটা সর্বজনবিদিত। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লোকশ্রুতি আছে যে, নিষিদ্ধ এনজিওগুলো ভিন্ন নামে চালু করা হয়েছে নানা সুকৌশলে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরকে কেন্দ্র করে কর্মরত কয়েকটি এনজিওকে এ ধরনের কর্মকা-ের কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ গড়ার জন্য সাহায্য-সহযোগিতা বাড়াতে বিদেশী সাহায্য সংস্থাগুলো এদেশে কার্যক্রম চালিয়েছিল। পঁচাত্তর পরবর্তীকালে এদেশে বিভিন্ন ধরনের এনজিও গড়ে ওঠে। এসব এনজিওর মধ্যে কতিপয় এনজিও দেশের রাজনীতিতে প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে নানারকম কার্যক্রম চালাতে থাকে। সরকারের পক্ষে বা বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এনজিওগুলো নানামুখী ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। অনেক এনজিও গড়ে ওঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীও দেশজুড়ে এনজিও গড়ে তোলে। সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের আর্থিক সাহায্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই এনজিওগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। মসজিদকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে ধর্মান্ধতার প্রসার ঘটাতে সর্বাত্মক ভূমিকা নেয়। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সুফলগুলো ধ্বংস করার কাজে এদের সক্রিয়তা এমন হয়ে ওঠে যে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও চেতনাধারীদের মধ্যেও বিভক্তি তৈরি করে স্বার্থ হাসিলে অনেক দূর সাফল্যও পায়। রাজনীতিতে এনজিও নামক নাগিনীর ফণাগুলো বিষাক্ত নিশ্বাসও ছড়ায়। জামায়াতীদের এনজিওগুলো জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেশে-বিদেশে জঙ্গী প্রশিক্ষণও চালিয়ে এসেছে। এদের বাইরে সুশীল সমাজ নামধারীদের পরিচালিত এনজিওগুলোও দেশবিরোধী চক্রান্ত সফল করার কাজে অগ্রসর হতে থাকে। এরা রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় নানারকম হস্তক্ষেপ ঘটিয়ে অরাজক অবস্থা তৈরি করতে সফল হয়। এমনকি সমাজ রাজনীতি সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণ পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট এবং এর বিস্তারে এদের ভূমিকা প্রতিক্রিয়াশীলতাকে ধারণ করে আসছে।

নবম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গঠিত সেনা সমর্থিত তিনউদ্দিন সরকারের সময়ে জঙ্গী অর্থায়নের কারণে কয়েকটি এনজিও নিষিদ্ধ করা হলেও পরে তারা নাম পাল্টিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এনজিওদের নিন্দনীয় ভূমিকার প্রসার ঘটে। জামায়াতও জঙ্গীদের পক্ষে যায় এমন তৎপরতা তারা শুরু করে। দেশজুড়ে চলে অগ্নিসন্ত্রাস, জীবন্ত মানুষ হত্যা। আর একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অযাচিত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট নামক দুটি এনজিওর তৎপরতা দেশদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। দুটির পরিচালনায় রয়েছেন এমন ব্যক্তি, যিনি তার কর্মকান্ডের জন্য বিতর্কিত, সমালোচিত অনেক দিন ধরেই। বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে তার দুতিয়ালি খোলামেলা। বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে দেশ ও সরকারবিরোধী তথ্য সরবরাহে তার অবদানের কথা সর্বজনবিদিত। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দুটি প্রতিষ্ঠান সারাদেশে নির্বাচনী অলিম্পিয়াডের নামে যে কর্মসূচী পালন করছে তা সরকার, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তৎপরতারই নামান্তর। এই দুটি সংস্থার কার্যক্রম তদন্ত করা হয় না বলেই অপকর্ম বহাল রাখতে পারছে। অতি দ্রুত এই দুটি সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধের আগে তদন্ত করা জরুরী।