১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের পুরনো পথ ধরে এগোতে চায়

  • সংবাদ সম্মেলনে কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। আসলে জনসমর্থনের যে পারদ, তাতে তাদের অবস্থান নিচের দিকে। তারা অনুধাবন করতে পেরেছে জনগণের ভোটাধিকারে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। তাই হতাশা থেকে তারা বেপরোয়া বক্তব্য দিচ্ছেন। শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন বিএনপির ধানের শীষে ভিড়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা এতদিন গণতন্ত্রের বেশে ছিল, তারা ছদ্মবেশী। তারা এতদিন মুক্তিযুদ্ধের নানা বুলি ছড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধেও ছিল, তারা ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা। নির্বাচনে জেতার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করতে থাকে। তাদের সবার পরিচয় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এটার বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই। ভোট সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগুন দিয়ে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলবে, ভাংচুর করবে, ২০ জন পুলিশকে আহত করে হাসপাতালে পাঠাবে, এই অপকর্ম সন্ত্রাস, সহিংসতার কাজ কি বিনা শাস্তিতে ঢাকা পড়ে যাবে?’ নয়াপল্টনে দু’দিন আগে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর এই দুঃসাহস তারা কীভাবে দেখায় ? অপরাধ করলে কী অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া অপরাধ ? এটা ক্রিমিনাল অফেন্স, এ্যাক্ট অব টেররিজম। এ ধরনের অপরাধ বিনা শাস্তিতে যাবে না।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনটা যাতে ভালভাবে হয়, পুলিশ এ কারণে কোন হস্তক্ষেপ করছে না। দেশের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, এ জন্য সরকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু সহ্য করে যাচ্ছে। বিএনপি যেন আওয়ামী লীগের সহনশীলতাকে দুর্বলতা না ভাবে। বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা করে বিএনপি প্রমাণ করেছে, তারা তাদের পুরোনো পথ, আগুন সন্ত্রাসের পথ ধরে এগিয়ে যেতে চায়। কারণ, বিএনপি জানে, বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন তাদের পক্ষে নেই। সে কারণে তারা সহিংসতার পথ, নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অতি সম্প্রতি করা আসনভিত্তিক জরিপের ফলাফলে আওয়ামী লীগই এগিয়ে আছে। ছয় মাস আগেও যেসব আসনে আওয়ামী লীগ কিছুটা পিছিয়ে ছিল, সেগুলোতে এখন ভাল অবস্থানে এসেছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগেরই বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশী-বিদেশী সব সমীক্ষা ও জরিপে শেখ হাসিনা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন। এই মুহূর্তে সব জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে। আমি পাঁচ-ছয়টি জরিপ রিপোর্ট স্টাডি করেছি। এই জরিপ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নিয়েই করেনি, আমাদের যারা প্রতিপক্ষ তাদের অবস্থান নিয়েও জরিপ করা হয়েছে। আমরা যেসব জায়গায় পিছিয়েছি, সেসব নির্বাচনী এলাকাতেও আমরা গেছি। এতে আওয়ামী লীগ তার প্রতিপক্ষ থেকে এগিয়ে আছে।’ তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রায় শেষ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ্যালায়েন্সের (জোট) সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কাজ শেষ হবে। আমাদের বিশ্বাস, বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগের বিজয় হবে।’ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জেতার সম্ভাবনা আছে এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। হারের রিস্ক আমরা নেব না। কারণ, আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে এত দুর্বল মনে করছি না।’