২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন পৃথিবীর কোথাও হয় না ॥ কবিতা খানম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাইছে, যা নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকবে না। শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোন নির্বাচন তারা করতে চায় না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও বক্তব্য রাখেন। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটা কোন দেশেই হয় না। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই, যেটা সকল প্রশ্নের উর্ধে থাকে। নির্বাচনের উৎসবের আমেজ যেন কোনভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে সেজন্য সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক থাকার কথা বলেন কমিশনার। বলেন, বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনভাবেই বৈরী না হয়-এই নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে।

কবিতা খানম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কখনই চাইবে না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইতোপূর্বে কোন কমিশন এভাবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে বিচরণ করেনি। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিচারকের নিরপেক্ষতার দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোন জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সদ্ভাব বজায় রাখার পরামর্শ দেন এ নির্বাচন কমিশনার। বলেন, আইনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো এড়ানোর চেষ্টা করেন।

কবিতা খানম আরও বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মিডিয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। এমন কিছু বলা উচিত নয় যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা আচার-আচরণ এবং কথা-বার্তায় ‘নির্বাচনকে অসুস্থ করে’ এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে যেন এতটুকু অবহেলা না হয়। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে আপনারা সৎ থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকান্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৎভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। কমিশন সেসব ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেবে না।

কর্মকর্তাদের বলেন, না জেনে ভুল করবেন না এবং জেনে সতকর্তার সঙ্গে কাজ করবেন। যেহেতু সব দোষ নন্দ ঘোষ, সে কারণে জবাবদিহিতার জায়গাটি আমরা অত্যন্ত শক্ত করতে চাই। কোন ধরনের বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জবাবদিহিতার জায়গাটিতে শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।

এই মাত্রা পাওয়া