১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘জামায়াত-বিএনপি একই মায়ের দুই সন্তান’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘জামায়াত-বিএনপি একই মায়ের দুই সন্তান, আমাদের শত্রæ এক’-বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে এক কর্মী সভায় জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন দলের সদস্যদের সামনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দেয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। এদিকে ভিডিওটি নিজের বলে স্বীকার করেছেন বিএনপির এ নেত্রী।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে এক কর্মী সভায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে বলছেন, বিএনপি এবং জামায়াত বা ইসলামিক পার্টি একই মায়ের দুই সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে কোন দূরত্ব হতে পারে না, দুই ভাইয়ের মধ্যে মান অভিমান হতে পারে, মতান্তর থাকতে পারে। দুই ভাই একত্রে বসলে কোন বিষয়ে একমত হতে পারে না সেটা বিশ্বাস করেন না তিনি। যেহেতু কমন গোল একটা-কমন এজেন্ডা একটা-কমন শত্রু একটা। কমন শত্রæ যেহেতু একটা, কমন গোল যেহেতু একটা, তাহলে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে না। মতান্তর হতে পারে।

কয়েক বছর আগে রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরের এক জনসভায় তারেক রহমান ও পরে জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বলেছিলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই’। এ দুই ভাইয়ের মধ্যে কে অগ্রজ আর কে অনুজ সেটা অবশ্য সাঈদী বলেননি। তবে সাঈদী এটা বলেছিলেন যে, বাস্তবে এই দুই দলের মধ্যে নীতিগত কোন পার্থক্য নেই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীও বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে চায়। আদর্শের বিচারে তাই দুই দলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তাই বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

বিএনপির কোন নেতা সাঈদীর এই বক্তব্যেও আজ পর্যন্ত প্রতিবাদ করেননি। তবে ওই বক্তব্যের পর থেকে এক সঙ্গে রাজনীতি করলেও একই বক্তব্য বিএনপির কোন নেতা দেননি। তবে এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ইস্যু ও রুমিন ফারহানার বক্তব্য ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাহাত নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, আসলেই বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই। তাই বিএনপি-জামায়াত এখন একটি জঙ্গী সংগঠন বলা যায়। এদের সঙ্গে কোন সংলাপ হওয়াও ঠিক হয়নি। আরমান হোসেইন খান লিখেছেন, ‘ওনার বাবা এমনই ছিলেন।’ মোঃ হাফিজুল ইসলাম হাফিজ লিখেছেন, ‘খাম্বা তারেকের প্রোডাক্ট।’ রেজওয়ান লিখেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত দুইটাই পাকিদের দল, এটা অজানা কি? তবে.... জানা ছিল না।’ আকবর হোসেন সুখী লিখেছেন, ‘ইনিতো সবসময় খোলামেলা চলে, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মাথায় কাপড়। এটা তাহলে লেবাস, আসল পোশাক নয়। শয়তানের লেবাস, শয়তান শয়তান দুই ভাই।’

রেজোয়ান রহিম লিখেছেন, ‘মারহাবা দুই ভাই।’ মাহাদী হাসান টকশোকে বিএনপির এ নেত্রীর সঙ্গে টকশোতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই মহিলা টকশোতে ঘন ঘন কথা কয়, আমি একদিন তার সঙ্গে টকশোতে যেতে চাই।’ দেওয়ান নুর ইয়ার চৌধুরী লিখেছেন, ‘সে সঠিকটাই বলেছেন যেটা সে বিশ্বাস করেন। এদেরকে থামিয়ে দেয়া জরুরী।’

এদিকে রুমিন ফারহানা ইতোমধ্যেই ভাইরাল হওয়া বক্তব্য নিজের বলে স্বীকার করেছেন। তবে একই সঙ্গে বলেছেন, এটা অনেক আগে একটি সভার বক্তব্য তাই এ নিয়ে এখন নির্বাচনের আগে সামনে আনার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে।