১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষক সেবা কেন্দ্র

কৃষিজীবী মানুষের জন্য আনন্দদায়ক ও সুখপ্রদ সুসংবাদ এই যে, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উপজেলায় আসা-যাওয়া করে কৃষি সেবার জন্য আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। সেবার জন্য কৃষকের সময় বাঁচবে, হবে আর্থিক সঞ্চয়। এতে কৃষিজীবীদের পরিবারগুলোতে আসবে সচ্ছলতা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষক সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। মূলত ‘কৃষি সেবার ওয়ানস্টপ সেন্টার’ হিসেবে স্থাপন করা হচ্ছে এসব কেন্দ্র। কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এসব কেন্দ্র ভূমিকা রাখবে। এর ফলে কৃষি উন্নয়ন আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। কৃষি সেবা যাবে কৃষকদের হাতের নাগালে। শেখ হাসিনার কৃষকবান্ধব সরকার গত দশ বছরে কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছে নানাভাবে। কৃষিতে তাই প্রবৃদ্ধির জোয়ার দৃশ্যমান। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সময়োপযোগী ভূমিকা রাখছে। আর এক্ষেত্রে দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অবদান এ খাতকে যে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা আজ দেশ ও জাতির জন্য এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত। কৃষির সাফল্যের কারণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই কৃষি সেবা বদলে যাওয়ার এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদান রাখতে পারবে নিশ্চিত। শেখ হাসিনার সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক সেবা কেন্দ্র স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর (পাইলট) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের একুশ জেলার ২৪ উপজেলার ২৪ ইউনিয়নে এই কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় কুড়ি ইউনিয়নে আরও কুড়ি কেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরই মধ্যে পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নে স্থাপিত কৃষক সেবা কেন্দ্র নিয়ে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ দেখা দিয়েছে। আগে তারা প্রথাগত চাষাবাদ করতেন। ফলনও মিলত কম। চাষাবাদ শুরুর সময় পরামর্শ নিতে বা সার ও বীজ সংগ্রহের জন্য কৃষি অফিসে যেতে অনেক সময় লাগত। এখন থেকে কোন ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই সেবা কেন্দ্র হতে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর নির্দেশিত নক্সা অনুযায়ী কেন্দ্রের ভবনগুলো আধুনিক ও উন্নতমানের করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তিন তলা বিশিষ্ট সুসজ্জিত ভবনের নিচ তলায় থাকছে কৃষক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কেন্দ্র। দ্বিতীয় তলায় তিনজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও সিনিয়র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার জন্য সকল সুবিধাসহ পারিবারিক সরকারী বাসস্থান। তৃতীয় তলায় রয়েছে দুজন উপ-সহকারী কর্মকর্তার পারিবারিক সরকারী বাসস্থান। থাকছে সৌর প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের সুবিধা ও কৃষি তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য কম্পিউটার, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট, ফটোকপিয়ার, স্ক্যানারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ইউনিয়নের কৃষির ডাটাবেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা। কেন্দ্র সংলগ্ন খালি জমিতে মাতৃবাগান এবং মিনি নার্সারি থাকছে। সেখান থেকে বছরব্যাপী চারা বা কলম উৎপাদন এবং হাতে কলমে প্রশিক্ষণের সুবিধা রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো চালু হলে কৃষকের আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা হবে সহজলভ্য। পাল্টে যাবে গ্রামীণ কৃষির চিত্র। দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা বিধান সম্ভব হবে। সরকারী প্রণোদনায় বিতরণকৃত সার ও উন্নত মানের বীজও এখানেই পাওয়া যাবে। তদুপরি ফসল সংগ্রহউত্তর নিরাপদ বাজারজাতের কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ সুবিধা ও কৃষি তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য ডাটাবেজ সংরক্ষণ থাকছে, বর্তমানে ২৪ ইউনিয়নে কেন্দ্র হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতি ইউনিয়নে কেন্দ্র হবে। কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ, শস্য বহুমুখীকরণ, নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি কৃষকদের ঘরে পৌঁছে দিতে এই কেন্দ্র সক্রিয় থাকছে। ‘কৃষি সেবা কেন্দ্র স্থাপন হলে কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে যাবে বলে প্রতীয়মান হয়।