১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনকালীন ফেসবুক

আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছু মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ এবং তাকে কেন্দ্র করে গুজবের ডালপালা ছড়ানো হতে পারে ফেসবুকে- এমন একটা ভয় থাকা অমূলক নয়। বাস্তবে তারই আলামত শুরু হয়েছে। শনিবারে প্রকাশিত জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রাজশাহীর এমন উদাহরণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রাজশাহীর ৬টি আসনের জন্য এবার দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন অন্তত ৪৭ নেতা। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে মনোনীত প্রার্থীদের নাম। এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে নানা গুজব। এ অবস্থায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গণভবন থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়েছেন এমন ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। দায়িত্বশীলরা অবশ্য এই ধরনের আগাম উল্লাস থেকে সবাইকে বিরত থাকার কথা বলেছেন।

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় আমরা দেখেছি যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ডিজিটাল মিডিয়ার অপব্যবহার হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বেশ কয়েকবার। নারীর ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চলছে। তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ডিজিটাল মাধ্যম। তাদের সাইবার নিরাপত্তা দেয়া জরুরী হয়ে উঠেছিল। জঙ্গীবাদের প্রসারে মাধ্যমটি ব্যাপকভাবে অপব্যবহার হওয়ারও নজির রয়েছে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার কাজেও বিপুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে মাধ্যমটি। নিকট অতীতে কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা ছড়ানোর প্রচেষ্টা নেয়া হয়। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোয় এই মাধ্যমটি অপব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যম যাতে ধ্বংসাত্মক দানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হতে পারে, সেজন্য মাধ্যমটির শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ অস্বীকার করার নয়। সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বিনষ্টের পক্ষে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল মাধ্যম। অথচ এই মাধ্যমটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে এবং অর্থনীতির প্রবাহে এবং মানুষে মানুষে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বিপ্লবী ব্যবস্থা হিসেবেই আমাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহার রোধই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মানুষের মুখে মুখে ভিত্তিহীন, ভুল, বানোয়াট তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোন একটা খবর বা একটা ঘটনা একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে যাওয়ার পরে তার অর্থ মূল ঘটনা থেকে এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে, তা মূল শব্দ থেকে বিকৃত হয়ে অপ্রাসঙ্গিক একটি অর্থ প্রকাশ করে। এর ফলে সমাজে তৈরি হয় নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, যা দেশ ও জাতির জন্য একটা হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। যার ফল মানবজাতিকে সঙ্কটে ফেলে দেয়। রাজনীতিতে গুজব বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এদেশে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ইতিবাচক গুজব অপেক্ষা নেতিবাচক গুজবই অধিক কার্যকর হতে দেখা গিয়েছে। অতীত বলে নির্বাচনকে ঘিরেই বেশি গুজবের অপপ্রচার চলে।

জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুক বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা পর্যবেক্ষক মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। প্রয়োজনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। নির্বাচনকালীন ফেসবুক যাতে গুজবের মেশিন ও অপপ্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সজাগ এবং সতর্ক থাকা চাই।

নির্বাচিত সংবাদ