১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হরবোলার দুই দশক পূর্তি আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘জয়জয়ন্তী’

 হরবোলার দুই দশক পূর্তি আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘জয়জয়ন্তী’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিকেল গড়িয়ে নেমে আসে হেমন্তের সন্ধ্যা। হালকা শীতল আমেজে শিল্পিত উচ্চারণে এগিয়ে যায় আয়োজন। শব্দের পিঠে শব্দ গাঁথা বইয়ের পৃষ্ঠায় থাকা কবিতাগুলো যেন ফিরে পায় প্রাণ। আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠের আশ্রয়ে কবিতাগুলো সুমধুর শব্দ তুলে পৌঁছে যায় কাব্যানুরাগীর শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। আর সেসব কবিতার সূত্র ধরে নিমগ্ন শ্রোতার সামনে এসে হাজির শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, সুবোধ সরকারসহ এপার বাংলা ও ওপার বাংলার প্রখ্যাত কবিরা। তাদের কবিতায় সাজানো আয়োজনটি হয়ে ওঠে হৃদয়গ্রাহী। কবিতাগুলো পাঠ করেছেন এদেশের নন্দিত দুই আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফা ও মোঃ আহ্্কাম উল্লাহ্। তাদের সঙ্গে অতিথি হিসেবে কবিতা পাঠে অংশ নেন ভারতের বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী জয়িতা ভট্টাচার্য। রবিবার শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘জয়জয়ন্তী’ শীর্ষক আবৃত্তিসন্ধ্যা। সংগঠনের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে এ আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হরবোলা।

আহ্্কাম উল্লাহর বলিষ্ঠ কণ্ঠের উচ্চারণে শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। কণ্ঠে তুলে নেন সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা ‘আমার পরিচয়’। বাঙালিত্বের প্রবল অহঙ্কারে উচ্চারিত হয়- আমি জন্মেছি বাংলায়/আমি বাংলায় কথা বলি/আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি/চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে/তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে/আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে/আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে ...। শ্রোতার মুগ্ধতায় শিল্পীর পরিবেশনায় ঝরে পড়ে করতালি। ভারতীয় কবি ভাস্কর চৌধুরীর ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ কবিতার পঙ্ক্তিগুলো কাব্যরসিক শ্রোতাকে নিয়ে যায় নস্টালজিক জগতে। শিল্পীর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়- অনেক কথা বলবার আছে আমার/তবে সবার আগে নিরঞ্জনের কথা বলতে হবে আমাকে/নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম/আর কোন নাম কি ছিল তার? আমি জানতাম না/ওর একজন বান্ধবী ছিল/অবশ্য কিছুদিনের জন্য সে তাকে প্রীতম বলে ডাকত ...। ঋজু ও বলিষ্ঠ কণ্ঠের সম্মিলনে এই বাচিকশিল্পী একে একে পাঠ করেন শামসুর রাহমানের কবিতা ‘পান্থজন’, সুবোধ সরকারের জোড়া কবিতা ‘কাল্লু’ ও ‘দুটি গ্রাম’, সৃজন সেনের ‘মাতৃভূমির জন্য’, সাত্ত্বিক ঝৈনের ‘ভয়ংকর ছোট গল্পের একটি গল্প’ ও হৃষিকেষ বাবুর কবিতা ‘ইয়াসিনুর রহমান’।

শিমুল মুস্তাফার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় রাহুল দেব বর্মণের গান থেকে রূপান্তরিত কবিতা ‘মনে পড়ে রুবি রায়’, সুভাষ মুখোপাধ্যায় অনূদিত নাজীব হিকমতের ‘জেলখানার চিঠি’সহ বেশ কয়েকটি কবিতা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আমন্ত্রিত বাচিকশিল্পী জয়িতা ভট্টাচার্য পঠিত কবিতাগুলোর শিরোনাম ছিল ‘ধীরোদ্ধত’, ‘একপশলা বৃষ্টি’, ‘একসাথে নয় সাথে’, ‘অর্ধনারীশ^র’, ‘তিলোত্তমা’, ‘শচীন’ ও ‘বিজিত বেদনা’