১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উন্নয়নে নৌকার বিকল্প নেই : বিমানমন্ত্রী

উন্নয়নে নৌকার বিকল্প নেই : বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর ॥ লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম সদর -৩ আসন। একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ও সদরের (আংশিক) ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে সদর-৩ আসসের সংসদীয় এলাকা। রাজনৈতিক বিবেচনায় এটি হচ্ছে জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এখান থেকেই মূলঃ জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার সাথে সাথে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রিয় নেতাদের যোগাযোগসহ সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের দৌড় ঝাঁপ আরো বেড়েছে। কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে তদ্বির এবং লবিং দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেছেন, আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন প্রত্যাশী বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল।

এক সময়ের সন্ত্রাস আর খুনাখুনির জনপদ হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুর এখন শান্তির ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সন্ত্রাস দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর পদক্ষেপে লক্ষ্মীপুরের মানুষ এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারে। এক সময়ে গুলির শব্দে মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো। এখন সে অবস্থা থেকে উত্তরন ঘটেছে। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক আওয়ামী লীগ সরকার নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে টানা ১০ বছর ক্ষমতায় অবস্থিত দলটির প্রতি জনগণের আস্থা ফিরেছে অনেকটাই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুটি ইস্যুতেই ভরসা করছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে বিজয়ী লাভ করেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ্যানিকে সংসদীয় এলাকায় তেমন দেখা যায়নি বলে ভোটাররা জানান। এতে দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছে জনগন। এ ছাড়াও দলের মধ্যে রয়েছে আন্তঃকোন্দল। বিশেষ বিশেষ দিবসে বিএনপি নিজেদের কর্মসূচী সমুহ এ্যানি চৌধুরীর বাস ভবন এবং জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবুর বাস ভবন কেন্দ্রিক পালিত হচ্ছে। এ বিভক্তি এক রকম প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। প্রকাশ্য সভা সমাবেশ করতে পারছেনা দলটি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি একেএম শাহজাহান কামাল। পরে গত জানুয়ারী মাসে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর হস্তক্ষেপে নিজ দলের মাঝে শৃংখলা অনেকটাই ফিরে আসে। এলাকার মানুষ তাঁর কাছে ভিড়তে থাকে। তিনি ১৯৭৩-১৯৭৫ সাল ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য ছিলেন। বিমান মন্ত্রী শাহজাহান কামাল বলেন, দীর্ঘকালীন এ সময়ে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ব্যাপক উন্নয়নের দাবিদার আওয়ামী লীগ সরকার। বিদ্যুৎ খাতে অর্জিত হয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর, চৌমুহানী-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কটি ১৮ ফুট থেকে ২৬ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামঞ্চলের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। নির্মাণ করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর পৌর শিশু পার্ক। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালটি ১’শ শয্যা থেকে ২’শ ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো স্কুল ও মাদ্রাসায় পর্যায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বছরের প্রথমেই বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রবাসীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। পেছনে পড়ে থাকা জনপদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহন নিশ্চিত করতে লক্ষ্মীপুরে শেখ রাসেল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

উদ্বোধন করা হয়েছে, দত্তপাড়া কলেজ, জনতা কলেজের নবনির্মিত ভবনসহ ৮০ টি স্কুল-মাদ্রাসার নতুন ভবন। জনদূর্ভোগ এড়াতে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভাটসহ অসংখ্য অবকাঠামো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রযেছে, সদর উপজেলার পিয়ারাপুর ব্রিজ, মেঘনা ব্রিজ ও রহমতখালী খালের ওপর বাজার ব্রিজ। এ ছাড়াও মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে।

বিমান মন্ত্রী শাহজাহান কামাল বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আরো সংসদীয় এ এলাকায় যে সব প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মজুচৌধুরী হাটে নৌ-বন্দর, ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস, লক্ষ্মীপুর-চৌমুহানী রেল লাইন প্রকল্প। যা লক্ষ্মীপুরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মানে উন্নয়নের সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। তাই শেখ হাসিনা সরকার যতদিন থাকবে, তত দিন দেশের উন্নয়ন হবে। দেশের মানুষ সেবা পাবে। তিনি আরো বলেন, নৌকা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নের প্রতীক। এর ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে অতীতের ন্যায় এবার ৫০ গুণেরও বেশি উন্নয়ন হয়েছে। যা বিগত সরকার সমুহের আমলে উন্নয়নের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। তাই তিনি দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য সকলস্তরের মানুষের কাছে আহবান জানান। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হানিার নৌকার বিকল্প নেই। তাই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ার আহবান জানান, মন্ত্রী শাহজাহান কামাল।