১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত ২ হাজার কোটি টাকা

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত ২ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংকিং সেবা নিতে শহরের তুলনায় সাড়ে ৬ গুণ বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে গ্রামে। ফলে এক সময় পিছিয়ে থাকা এসব মানুষের হিসাবে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যা গতি এনে দিচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৮ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলেছেন মোট ২০ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে গ্রামের মানুষ ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭ জন। আর শহরের ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৩ জন। এই হিসাবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে খোলা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ গুণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, গ্রামে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকের শাখা বাড়াতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসছে।

জানা গেছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০১৪ সালে প্রথম এ সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্বনর ড. আতিউর রহমানের উদ্যোগেই এই কার্যক্রম শুরু হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, গ্রামের উন্নতি হলে দেশেরও উন্নতি হবে। এ কারণেই গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকের শাখা স্থাপন, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে শুধু গ্রাহক নয় স্বয়ং ব্যাংকও উপকৃত হচ্ছে জানিয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লোকবল কম লাগে। তাই ব্যাংকগুলো তাদের কর্মীদের ঋণ আদায়ে কিংবা অন্য কাজে লাগাতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, তিনমাসের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নতুন গ্রাহক হয়েছেন ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৬৪জন বা ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, চলতি বছরের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক ছিল ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ জন। যা গত সেপ্টেম্বর মাসে বেড়ে দাড়িয়েছে ২০ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৪ টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ হাজার ৫৮৮টি এজেন্টের আওতায় ৫ হাজার ৩৫১টি আউটলেটের মাধ্যমে সারাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া, মধুমতি ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংক এশিয়ার ২ হাজার ২৪২টি আউটলেটের মধ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা ১ হাজার ৮২৮টি। ৩ মাস আগে অর্থাৎ মার্চে ৩ হাজার ২১৬ এজেন্টের আওতায় আউটলেট ছিল ৪ হাজার ৯০৫টি।