১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যমুনা

দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যমুনা

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ‘বরাবরই নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রতি আলাদা একটা ঝোঁক কাজ করে, ইচ্ছে ছিল এই দুই বাহিনীর একটিতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই বাহিনী বা এদের কাজ সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবসময় ছিল। আজ এখানে নিজ চোখে বিভিন্ন কিছু দেখে ও শুনে অনেক ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে যেন নিজেই কোনো এক যুদ্ধের দিনে অবস্থান করছি।’ কথাগুলো বলছিলেন যুদ্ধজাহাজ দেখতে আসা স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে যার অবারিত যাত্রা আর দেশের বিস্তীর্ণ জলসীমানায় যার অবারিত দৃষ্টি সেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ‘যমুনা’ কাছ থেকে দেখে ও এর কর্মপন্থা ও পদ্ধতি শুনে ইমরান আহমেদের মতো অনেকেই ফিরে গেলেন যুদ্ধদিনে!

বুধবার (২১ নবেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিকেল ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বানৌজা ‘যমুনা’ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

এসময় প্রায় ৪শ’ দর্শনার্থী জাহাজে উঠে ঘুরে দেখার সুযোগ পান। নৌবাহিনীর জাহাজ প্রদর্শনের খবর শুনে অনেকে বেশ দূর থেকেও এসেছিলেন এখানে। এসময় উৎসাহী মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো জাহাজটি। যুদ্ধজাহাজটি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের নৌবাহিনীর সদস্যরা পুরো জাহাজটি সম্পর্কে বর্ণনা দেন। একে একে ধারণা দেন কোন যন্ত্রটি ঠিক কিভাবে কাজ করে বা কিভাবে এর গতিপথ নির্ধারিত হয়। আবার কিভাবে জাহাজ সংশ্লিষ্টরা জাহাজে দিনাতিপাত করেন তাও জানান তারা।

জাহাজটির কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এটি মূলত খুলনা নৌ-অঞ্চলের একটি যুদ্ধজাহাজ। এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অন্যতম আধুনিক জাহাজ। এর মাধ্যমে সমুদ্র ও সমুদ্র উপকূলে চোরাচালান, জলদস্যু দমন, অস্ত্রপাচার প্রতিরোধ, জাটকা নিধন বন্ধ, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সহায়তা ও ত্রাণ সহায়তার কাজ করে আসছে। এর দুইটি মর্টার দুইদিকে কাজ করতে পারে। সামনের অংশের মর্টার ১০ দশমিক ৫ মাইল ও পেছনের মর্টারের সাহায্যে ৩ দশমিক ৫ মাইল দূরের যেকোন বস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসার জন্য খুলনা থেকে ১৮ নবেম্বর রওনা দিয়ে বরিশালে একদিন রাত্রিযাপন শেষে ২০ তারিখ এখানে এসে পৌঁছেছি। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা নৌবাহিনী সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে একটা ধারণা দিতে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমাদের এখানে জাহাজটি প্রদর্শন। প্রায় ৪শ’ জন আজ এই জাহাজটি ভিজিট করেছেন। তবে দু’টি ছুটির দিন একত্রে না হলে হয়তো আরও মানুষের সমাগম হতো।

যুদ্ধজাহাজটি দেখতে আসা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আরমিন হোসাইন বলেন, আজ ছুটির দিন। তাই আব্বু-আম্মুর সঙ্গে এখানে ঘুরতে এসেছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে একজন আঙ্কেল (নৌবাহিনীর অফিসার) দেখাচ্ছেন কিভাবে মাছের মতো সাঁতার কাটা যায়। এছাড়া আমাকে চকোলেটও গিফট করেছেন।