১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ্যাকর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হলে কারখানা পরিদর্শন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা

এ্যাকর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হলে কারখানা পরিদর্শন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এ্যাকর্ডের ঢাকা অফিস বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পোশাক তৈরি করেছে এ রকম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদেশী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-বাংলাদেশের হাইকোর্টের নির্দেশেই ৩০ নবেম্বরের পর আর এ্যাকর্ড বাংলাদেশের আর কোন পোশাক কারখানা পরিদর্শন করতে পারবে না।

এ প্রতিষ্ঠানটি এ কারণে তাদের ঢাকা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। এরফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এইচ অ্যান্ড এম, এসপ্রিট এবং প্রাইমার্কের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক সরবরাহের চেইনগুলি পরিদর্শন করার আন্তর্জাতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। এর ফলে পোশাকখাতের কর্মপরিবেশ ও অগ্নি নিরাপত্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে অগ্নি এবং ভবন নিরাপত্তায় এ্যাকর্ড ১৫ মে ২০১৩ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং রিটেলার ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে এটি একটি পাঁচ বছরের স্বতন্ত্র, আইনত বাধ্যতামুলক চুক্তি। নিরাপদ এবং সুস্থ্য বাংলাদেশী তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) গড়ে তোলার জন্য মূলত এ্যাকর্ড চুক্তি করা হয়। রানা প্লাজা ধসের পড়ার ঠিক পরে এই চুক্তি করা হয়। যে ঘটনায় ১১০০ মানুষ প্রাণ হারান এবং ২০০০-এর রবশি আহত হন। ২০১৩-র জুন মাসে একটি কার্যকরী পরিকল্পনার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া যায়। এর ফলে অক্টোবর ২০১৩ সালে নেদারল্যান্ডসে এ্যাকর্ড অন ফায়ার এ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ নামে এ্যাকর্ড ফাউন্ডেশন গঠিত হয়।

মেয়াদ পূর্তির পরও এই সংস্থাটি বাংলাদেশে কাজ করতে চাইলে পোশাকখাতের মালিকরা এর বিরোধীতা করেন। এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও একাধিকবার বলেছেন, গার্মেন্টসখাত পরিদর্শনে বাংলাদেশে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারাই যথেষ্ট। এখন আর এ্যাকর্ডের প্রয়োজন নেই।

পরবর্তীতে এ্যাকর্ড এদেশে থাকবে কি থাকবে না তার মীমাংসা হাই কোর্টে। কোর্টের রায় মেনে আগামীকাল ৩০ নবেম্বরের পর এ্যাকর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০১৩ সালে রানা প্লাজা অগ্নিকান্ড ও ধসের কারণে ঐ সময় ১ হাজার ১৩৪জন শ্রমিত নিহত হয়। এরপরই বাংলাদেশের পোশাকখাত পরিদর্শনে কাজ শুরু করে এ্যাকর্ড।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ্যাকর্ডকে প্রত্যাহার করায় এ নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ বিশেষ করে কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিতে বাংলাদেশে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। এসপ্রিট ও এইচ এ্যান্ড এম উভয়ই বলছে এ্যাকর্ডের ঢাকা অফিসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের কাজগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এসপ্রিটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তার বাংলাদেশী সরবরাহকারীদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

স্বাধীন শ্রমিক সংগঠনের ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা বলেন, যদি বাংলাদেশ সরকার এ্যাকর্ডের ঢাকা অফিস বন্ধে যথেষ্ট পরিমাণে অবহেলা করে তবে দেশের পোশাক শিল্পের ক্ষতি গভীর এবং স্থায়ী হবে।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারে রানা প্লাজা ভবন ভেঙ্গে যাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠিত দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তির একটি এ্যাকর্ড একটি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ১,১৩৪ শ্রমিক নিহত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী শিল্পের কর্মকান্ড হিসেবে বিবেচনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ্যাকর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি এ্যালয়েন্স ফর এ্যাকর্ড, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ২ হাজার ৩০০ এরও বেশি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এরফলে দেশের পোশাকখাতের সার্বিক নিরাপত্তায় নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। গত পাঁচ বছরে ১০০,০০০ নিরাপত্তা সমস্যার উপর আরও ভালভাবে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা সমাধানে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

এ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস বলেন, আমরা আশাবাদী। এ্যাকর্ডকে আর বেশ কয়েক বছর রাখার জন্য সরকার কোর্টকে অনুরোধ করবে। আমরা আশাবাদী, তবে নিশ্চিত নই, যে সরকার আদালতে এ ব্যাপারে আবেদন দিবে।